logo
Advertisement

ভিটামিন ‘ডি’ কমেছে বুঝবেন কীভাবে, পরীক্ষা ছাড়া সাপ্লিমেন্ট কতটা নিরাপদ

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
ভিটামিন ‘ডি’ কমেছে বুঝবেন কীভাবে, পরীক্ষা ছাড়া সাপ্লিমেন্ট কতটা নিরাপদ
ছবি: হেল্থ

রোদ আছে, কিন্তু শরীরে ভিটামিন ডি কম। শুনতে কিছুটা অদ্ভুত লাগলেও বিশ্বের অনেক জায়গায় এমন পরিস্থিতি দেখা যায়। বিশেষ করে দিনের বড় একটা সময় ঘরের ভেতরে কাটানো, শরীরের বেশির ভাগ অংশ ঢেকে রাখা, সানস্ক্রিন ব্যবহার, গায়ের ত্বকের রং এবং খাবারে ভিটামিন ডির ঘাটতির মতো কারণে শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি তৈরি নাও হতে পারে।

Advertisement

এই কারণে অনেকেই নিজেরাই ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট খাওয়া শুরু করেন। কারও পরামর্শে সপ্তাহে একটি উচ্চমাত্রার ক্যাপসুল, কেউ আবার প্রতিদিন নির্দিষ্ট মাত্রার ট্যাবলেট খান। অনেকের ধারণা, ভিটামিন ডি যেহেতু শরীরের জন্য প্রয়োজনীয়, তাই বেশি খেলেও ক্ষতি হওয়ার কথা নয়।

বাস্তবে বিষয়টি এমন নয়। ভিটামিন ডি শরীরের হাড়, পেশি ও ক্যালসিয়াম ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সাপ্লিমেন্ট দীর্ঘদিন খেলে ক্ষতি হতে পারে। আবার সবার ক্ষেত্রে ঘাটতি আছে ধরে নিয়ে উচ্চমাত্রার সাপ্লিমেন্ট খাওয়াও ঠিক নয়।

তাহলে কখন পরীক্ষা দরকার, পরীক্ষা ছাড়া কি ভিটামিন ডি খাওয়া যায়, আর কোন মাত্রা নিরাপদ?

ভিটামিন ডি কেন প্রয়োজন?

ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। হাড়ের স্বাভাবিক গঠন ও শক্তি ধরে রাখার পাশাপাশি পেশি ও অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় কাজেও এটি প্রয়োজন।

শরীরে দীর্ঘদিন ভিটামিন ডির ঘাটতি থাকলে হাড়ের স্বাস্থ্যে সমস্যা তৈরি হতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে গুরুতর ঘাটতিতে রিকেটস এবং প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে হাড় দুর্বল হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তবে ভিটামিন ডিকে সব ধরনের রোগের প্রতিরোধক হিসেবে দেখাও ঠিক নয়। বিভিন্ন রোগের সঙ্গে রক্তে ভিটামিন ডির মাত্রার সম্পর্ক পাওয়া গেলেও ভিটামিন ডি বেশি খেলে সেসব রোগ প্রতিরোধ হবে, এমন প্রমাণ সব ক্ষেত্রে নেই। ২০২৪ সালের Endocrine Society guideline-এও ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্টের উপকার ও ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতার কথা বলা হয়েছে।

রোদ থাকলেই কি ভিটামিন ডি যথেষ্ট হবে?

সবসময় নয়। সূর্যের অতিবেগুনি বি বা UVB রশ্মি ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরিতে ভূমিকা রাখে। কিন্তু বাইরে রোদ থাকা আর শরীরে পর্যাপ্ত UVB পৌঁছানো এক বিষয় নয়।

দিনের কোন সময়ে বাইরে যাচ্ছেন, কতক্ষণ থাকছেন, শরীরের কতটা অংশ খোলা থাকছে, সানস্ক্রিন ব্যবহার করছেন কি না এবং ত্বকের বৈশিষ্ট্য কেমন, এসব বিষয়ের ওপর ভিটামিন ডি তৈরির পরিমাণ নির্ভর করে।

ছবি : স্টিভেন লিন
ছবি : স্টিভেন লিন

গাল্ফ নিউজের প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, গরম আবহাওয়ার কারণে অনেকে দিনের সবচেয়ে উজ্জ্বল সময়েও ঘরের ভেতরে থাকেন। পোশাক, সানস্ক্রিন, ঘরের কাজ বা অফিসে দীর্ঘসময় থাকা এবং খাবারে ভিটামিন ডির ঘাটতিও ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও শুধু দেশে প্রচুর রোদ আছে বলেই সবার শরীরে ভিটামিন ডি পর্যাপ্ত রয়েছে, এমন ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

ভিটামিন ডি কমে গেলে কী লক্ষণ হয়?

ভিটামিন ডির ঘাটতি অনেক সময় কোনো স্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই থাকতে পারে। কারও ক্ষেত্রে দুর্বলতা, ক্লান্তি, হাড় বা পেশিতে ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

কিন্তু এসব লক্ষণ শুধু ভিটামিন ডির ঘাটতির জন্য হয় না। ঘুমের সমস্যা, রক্তস্বল্পতা, থাইরয়েডের সমস্যা, দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা বা মানসিক চাপ থেকেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে।

তাই শুধু ক্লান্ত লাগছে বলে নিজেরাই উচ্চমাত্রার ভিটামিন ডি শুরু করা ঠিক নয়।

পরীক্ষা ছাড়া সাপ্লিমেন্ট খাওয়া কি নিষেধ?

এখানে বিষয়টি একটু সূক্ষ্ম।

সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক সবার ভিটামিন ডি পরীক্ষা করাতে হবে, এমন সুপারিশ নেই। Endocrine Society-এর ২০২৪ সালের guideline অনুযায়ী, সাধারণভাবে সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের নিয়মিত ২৫-hydroxyvitamin D বা 25(OH)D পরীক্ষা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে সুস্থ ৭৫ বছরের কম বয়সি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দৈনিক প্রয়োজনের চেয়ে বেশি মাত্রায় নিয়মিত ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট নেওয়ারও সুপারিশ করা হয়নি।

অর্থাৎ দুটি বিষয় আলাদা। সবার রক্ত পরীক্ষা দরকার নেই। আবার পরীক্ষা ছাড়াই সবার উচ্চমাত্রার ভিটামিন ডি খাওয়াও ঠিক নয়।

কোনো ব্যক্তির ঘাটতির ঝুঁকি, অসুস্থতা বা চিকিৎসাগত প্রয়োজন থাকলে চিকিৎসক পরিস্থিতি অনুযায়ী পরীক্ষা বা সাপ্লিমেন্টের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

কোন পরীক্ষায় ভিটামিন ডি বোঝা যায়?

ভিটামিন ডির অবস্থা জানার জন্য সাধারণত রক্তে 25-hydroxyvitamin D বা 25(OH)D পরীক্ষা করা হয়।

এটি শরীরে ভিটামিন ডির মজুত বা স্টোরেজের মাত্রা বোঝার জন্য ব্যবহৃত প্রধান রক্ত পরীক্ষা। গাল্ফ নিউজের প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরাও এই পরীক্ষার কথা উল্লেখ করেছেন।

তবে পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পেলেই নিজের মতো করে ওষুধের মাত্রা ঠিক করা উচিত নয়। কোন মাত্রায় চিকিৎসা প্রয়োজন এবং কতদিন প্রয়োজন, তা ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে।

কারা ভিটামিন ডির ঘাটতির ঝুঁকিতে থাকতে পারেন?

সবার ঝুঁকি এক নয়। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ঘাটতির সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি হতে পারে। যেমন-

  • দিনের বেশির ভাগ সময় ঘরের ভেতরে কাটান এমন মানুষ
  • খুব কম সময় রোদে থাকা মানুষ
  • বয়স্ক ব্যক্তি
  • অন্তঃসত্ত্বা নারী
  • স্তন্যদানকারী মা
  • বুকের দুধ খাওয়া শিশু
  • স্থূলতা আছে এমন ব্যক্তি
  • ওজন কমানোর বা ব্যারিয়াট্রিক সার্জারি করা ব্যক্তি
  • ভিটামিন ডি শোষণে সমস্যা তৈরি করতে পারে এমন কিছু রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি
  • কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ সেবনকারী মানুষ

গাল্ফ নিউজের প্রতিবেদনে অফিসকর্মী, শিফট কর্মী, কিশোর-কিশোরী, বয়স্ক মানুষ, গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারী এবং স্থূলতা বা ব্যারিয়াট্রিক সার্জারির ইতিহাস থাকা ব্যক্তিদের সম্ভাব্য ঝুঁকির মধ্যে রাখা হয়েছে।

বেশি ভিটামিন ডি খেলেই কি বেশি উপকার?

না। ভিটামিন ডি এমন কোনো সাপ্লিমেন্ট নয় যে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খেলেই শরীর আরও ভালো থাকবে।

এটি চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন। ফলে অতিরিক্ত পরিমাণ শরীরে জমতে পারে। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণ করলে রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।

অতিরিক্ত ভিটামিন ডির কারণে বমি বমি ভাব, অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রস্রাব, কোষ্ঠকাঠিন্য, দুর্বলতা বা বিভ্রান্তির মতো সমস্যা হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে কিডনিতে পাথর বা কিডনির কার্যকারিতায় সমস্যা তৈরি হতে পারে।

৫০ হাজার IU ক্যাপসুল কি নিজের ইচ্ছায় খাওয়া যায়?

ফার্মেসিতে বিভিন্ন মাত্রার ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৫০ হাজার IU-এর মতো উচ্চমাত্রার ক্যাপসুলও রয়েছে।

কিন্তু প্যাকেটে পাওয়া যাচ্ছে বলেই এটি নিয়মিত খাওয়ার জন্য নিরাপদ, এমন নয়।

উচ্চমাত্রার ভিটামিন ডি সাধারণত নির্দিষ্ট ঘাটতি পূরণের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। ঘাটতি পূরণ হয়ে যাওয়ার পর একই উচ্চমাত্রা দীর্ঘদিন চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন নাও হতে পারে।

তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সপ্তাহে বা মাসে উচ্চমাত্রার ক্যাপসুল খাওয়ার অভ্যাস করা উচিত নয়।

প্রতিদিন কতটা ভিটামিন ডি প্রয়োজন?

সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে বয়স অনুযায়ী সাধারণ দৈনিক প্রয়োজনের পরিমাণ আলাদা হতে পারে।

Endocrine Society-এর guideline-এ Institute of Medicine-এর Recommended Dietary Allowance অনুসরণ করার কথা বলা হয়েছে। ১৯ থেকে ৭০ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সাধারণ দৈনিক প্রয়োজন ৬০০ IU বা ১৫ মাইক্রোগ্রাম এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সে ৮০০ IU বা ২০ মাইক্রোগ্রাম।

ছবি : হেল্থ এভরিডে
ছবি : হেল্থ এভরিডে

তবে এটি সাধারণ দৈনিক পুষ্টি চাহিদা, কোনো নির্দিষ্ট রোগের চিকিৎসার ডোজ নয়। কারও ঘাটতি ধরা পড়লে চিকিৎসক সাময়িকভাবে ভিন্ন মাত্রা দিতে পারেন।

৪ হাজার IU কি নিরাপদ সীমা?

NIH Office of Dietary Supplements-এর তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়া প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণভাবে দিনে ৪ হাজার IU-এর বেশি ভিটামিন ডি না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এটিকে Upper Limit হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তবে এর অর্থ এই নয় যে সবার প্রতিদিন ৪ হাজার IU খাওয়া উচিত।

বরং এটি এমন একটি সর্বোচ্চ সীমা, যার বেশি গ্রহণ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া করা উচিত নয়। ব্যক্তির চিকিৎসাগত প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক এর চেয়েও বেশি মাত্রা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দিতে পারেন।

কারা নিজের মতো করে ভিটামিন ডি খাবেন না?

বিশেষ কিছু স্বাস্থ্যগত অবস্থায় নিজের মতো করে ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট শুরু করা ঠিক নয়।

বিশেষ করে যাদের কিডনির রোগ, প্যারাথাইরয়েডের সমস্যা বা সারকয়ডোসিস রয়েছে, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সাপ্লিমেন্ট নেওয়া উচিত নয়। কিছু ডাইইউরেটিক ও হৃদ্‌রোগের ওষুধের সঙ্গেও ভিটামিন ডির সম্পর্ক থাকতে পারে।

নিয়মিত কোনো ওষুধ খেলে নতুন কোনো সাপ্লিমেন্ট শুরু করার আগে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টকে জানানো ভালো।


অনেক বছর ধরে ভিটামিন ডি খেলে কী করবেন?

অনেকে বছরের পর বছর ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট খান। কারও হয়তো শুরুতে চিকিৎসকের পরামর্শ ছিল, কিন্তু পরে আর মাত্রা বা প্রয়োজন যাচাই করা হয়নি।

এমন হলে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে সাপ্লিমেন্টটি এখনও প্রয়োজন কি না, সেটি চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা ভালো।

বিশেষ করে উচ্চমাত্রার সাপ্লিমেন্ট দীর্ঘদিন ধরে খেলে নিজের মতো করে চালিয়ে না গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। Gulf News-এর প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরাও দীর্ঘদিন সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে পুনর্মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

খাবার থেকে কি ভিটামিন ডি পাওয়া যায়?

খাবার থেকেও কিছু পরিমাণ ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। তৈলাক্ত মাছ, ডিমের কুসুম এবং ভিটামিন ডি দিয়ে সমৃদ্ধ করা কিছু খাবার এর উৎস হতে পারে।

তবে শুধু খাবার থেকেই সবার প্রয়োজনীয় পরিমাণ পাওয়া সম্ভব হবে, এমন নয়। ব্যক্তির খাদ্যাভ্যাস ও শরীরের প্রয়োজনের ওপর বিষয়টি নির্ভর করে।

সুষম খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।

সাপ্লিমেন্ট খেলে খাবারের সঙ্গে খাওয়া ভালো?

ভিটামিন ডি চর্বিতে দ্রবণীয় হওয়ায় খাবারের সঙ্গে গ্রহণ করলে এর শোষণ ভালো হতে পারে। Gulf News-এর প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা খাবারের সঙ্গে, বিশেষ করে কিছুটা চর্বিযুক্ত খাবারের সঙ্গে নেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।

ছবি: ন্যচার মেড
ছবি: ন্যচার মেড

তবে সাপ্লিমেন্টের ধরন ও ব্যক্তির চিকিৎসাগত অবস্থার ওপর নির্দেশনা ভিন্ন হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট কোনো ওষুধের ক্ষেত্রে প্যাকেটের নির্দেশনা বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করা উচিত।

শুধু রোদে থাকলেই কি সাপ্লিমেন্টের প্রয়োজন নেই?

এটিও নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

রোদে থাকা ভিটামিন ডি তৈরির একটি প্রাকৃতিক উপায়। কিন্তু কতটা ভিটামিন ডি তৈরি হচ্ছে, তা ব্যক্তিভেদে অনেকটাই আলাদা।

তাই রোদে থাকেন না মানেই ঘাটতি আছে, আবার নিয়মিত রোদে থাকেন মানেই ভিটামিন ডি পর্যাপ্ত আছে, দুটি ধারণাই ঠিক নয়।

যাঁদের ঘাটতির ঝুঁকি বেশি বা চিকিৎসাগত কারণ রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মূল্যায়ন করা ভালো।

তাহলে কী করবেন?

ভিটামিন ডি নিয়ে সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি হলো প্রয়োজন ও মাত্রার মধ্যে ভারসাম্য রাখা।

সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক হলে: নিজের ইচ্ছায় উচ্চমাত্রার ভিটামিন ডি শুরু করবেন না।

ঝুঁকিতে থাকলে: চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজন আছে কি না এবং পরীক্ষা দরকার কি না ঠিক করুন।

উচ্চমাত্রার ক্যাপসুল খেলে: কতদিন খেতে হবে, সেটি চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নিন।

দীর্ঘদিন ধরে খেলে: প্রয়োজন ও মাত্রা পুনর্মূল্যায়ন করুন।

অন্য ওষুধ খেলে: সাপ্লিমেন্ট শুরুর আগে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টকে জানান।

শিশু, গর্ভবতী নারী ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে: বয়স ও শারীরিক অবস্থার ওপর প্রয়োজন আলাদা হতে পারে, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ।

ভিটামিন ডি শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় হলেও প্রয়োজনীয় মানেই যত বেশি তত ভালো, এমন নয়। ঘাটতি থাকলে সাপ্লিমেন্ট উপকারী হতে পারে, আবার অপ্রয়োজনীয়ভাবে বেশি মাত্রায় দীর্ঘদিন খেলে শরীরে ক্যালসিয়াম বেড়ে গিয়ে ক্ষতি হতে পারে।

আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক সবার নিয়মিত ভিটামিন ডি পরীক্ষা করানো দরকার নেই। ২০২৪ সালের Endocrine Society guideline সাধারণ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে নিয়মিত 25(OH)D screening-এর বিরুদ্ধে পরামর্শ দিয়েছে।

তাই ভিটামিন ডি কম কি না, শুধু অনুমানের ওপর ভিত্তি করে উচ্চমাত্রার সাপ্লিমেন্ট শুরু না করে নিজের বয়স, খাদ্যাভ্যাস, রোদে থাকার অভ্যাস, ঝুঁকির কারণ এবং শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করা উচিত। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পরীক্ষা ও সঠিক মাত্রা নির্ধারণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

সূত্র: গাল্ফ নিউজ