মুখের লোম সঠিকভাবে শেভ করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ

মুখের অবাঞ্ছিত লোম অনেকের কাছেই অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। হালকা, চোখে না পড়া লোম স্বাভাবিক হলেও যদি লোম ঘন বা গাঢ় হয়, তাহলে কখনো কখনো এটি শরীরের ভেতরের কোনো সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে।
বিশেষ করে পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম (Polycystic Ovary Syndrome) বা পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমের ক্ষেত্রে মুখে, থুতনি বা উপরের ঠোঁটে বেশি লোম দেখা যায়। এর মূল কারণ শরীরে পুরুষ হরমোন টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বেড়ে যাওয়া। এমন পরিস্থিতিতে সহজ উপায়ে লোম দূর করার একটি পদ্ধতি হলো শেভ করা।
দিল্লির চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ গুরভীন ওয়ারাইচ বলেন, শেভ করা মুখের লোম দূর করার সবচেয়ে সহজ, নিরাপদ এবং দ্রুততম উপায়গুলোর একটি। এটি ঘরে বসেই করা যায়, খরচও কম এবং সাধারণত ব্যথাহীন।
শেভ নিয়ে কিছু ভুল ধারণা
অনেকেই মনে করেন, শেভ করলে লোম আরও দ্রুত বা মোটা হয়ে গজায়। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারণা সঠিক নয়। শেভ করলে লোমের বৃদ্ধি বা গঠন বদলায় না।
তবে সঠিক নিয়ম না মেনে শেভ করলে ত্বকে জ্বালা, লালচে ভাব বা কেটে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি।
সঠিকভাবে শেভ করার ৩টি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
কখনোই শুকনো ত্বকে শেভ করবেন না
শুকনো ত্বকে সরাসরি ব্লেড ব্যবহার করলে ত্বকে জ্বালা ও লালচে ভাব হতে পারে। তাই শেভ করার আগে জেল, ফোম বা অ্যালোভেরা ব্যবহার করুন। এতে ব্লেড সহজে চলবে এবং ত্বক মসৃণ থাকবে।
লোমের বৃদ্ধির দিকেই শেভ করুন
অনেকে লোম যেদিকে ওঠে তার উল্টো দিকে শেভ করেন দ্রুত ফল পাওয়ার জন্য। কিন্তু এতে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে। কেন এভাবে করবেন?
এতে জ্বালা কম হবে, কেটে যাওয়ার ঝুঁকি কমবে এবং ইনগ্রোন হেয়ার বা ভেতরে ঢুকে যাওয়া লোমের সমস্যা কম হবে।
শেভের দিন ত্বকে শক্ত উপাদানের ব্যবহার এড়িয়ে চলুন
শেভ করার পর ত্বক কিছুটা সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। এই সময় শক্ত স্কিন কেয়ার উপাদান ব্যবহার করলে সমস্যা বাড়তে পারে। যা এড়িয়ে চলবেন - রেটিনয়েড, এএইচএ ও বিএইচএ।
শুধু ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন, যাতে ত্বক আর্দ্র থাকে।
অতিরিক্ত কিছু পরামর্শ
- পরিষ্কার ও ধারালো ব্লেড ব্যবহার করুন
- শেভের পর ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন
- নিয়মিত ব্লেড পরিবর্তন করুন
মুখের লোম শেভ করা একটি সহজ এবং কার্যকর পদ্ধতি, যদি এটি সঠিকভাবে করা হয়। অল্প কিছু নিয়ম মেনে চললে ত্বক ভালো থাকবে এবং অপ্রয়োজনীয় সমস্যা এড়ানো সম্ভব।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজের ত্বকের ধরন বুঝে যত্ন নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া।
সূত্র : এনডিটিভি