logo

সুস্থ থাকতে বাদ দিন দুধ চা, মানুন আরও কিছু নিয়ম

সুস্থ থাকতে বাদ দিন দুধ চা, মানুন আরও কিছু নিয়ম

স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সব সময় বড় পরিবর্তনের দরকার হয় না। ছোট কিছু অভ্যাসই শরীরে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দৈনন্দিন জীবনে কয়েকটি সহজ পরিবর্তন আনলেই আপনি আরও সুস্থ থাকতে পারেন। এই সপ্তাহে এমনই কিছু কার্যকর ও সহজ স্বাস্থ্য পরামর্শ তুলে ধরা হলো।

চা অনেকেরই প্রিয় পানীয়, বিশেষ করে আমাদের দেশে। তবে আপনি যদি চা পান করেন এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের জন্য, তাহলে দুধ ছাড়া চা খাওয়াই ভালো। দুধের কিছু উপাদান চায়ের পলিফেনল নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের সঙ্গে মিশে তাদের কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে। তবে যারা দুধ ছাড়া চা খেতে পারেন না, তারা দুধ দিয়েও চা খেতে পারেন। এতে কিছু উপকার পাওয়া যাবে, যদিও তা কিছুটা কম হতে পারে।

হলুদ অনেক দিন ধরেই প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। হলুদের মধ্যে থাকা কারকিউমিন প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। তবে এর উপকার পেতে হলে এক বা দুই দিন নয়, বরং টানা চার থেকে আট সপ্তাহ নিয়মিত গ্রহণ করা দরকার। বিশেষ করে যাদের শরীরে দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহজনিত সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য এটি কার্যকর হতে পারে। তবে কোনো সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।

বাইরের খাবার বা ক্যাফের পানীয় বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও একটু সচেতন হওয়া জরুরি। অনেক জনপ্রিয় পানীয়তে অতিরিক্ত চিনি ও ক্যালোরি থাকে। তাই সাধারণ চা, ব্ল্যাক কফি বা কম চর্বিযুক্ত (fat) দুধ দিয়ে তৈরি ল্যাটে তুলনামূলকভাবে ভালো বিকল্প। স্বাদ বাড়াতে বেশি চিনি না দিয়ে অল্প পরিমাণ ব্যবহার করা বা দারুচিনি ও জয়ফলের মতো প্রাকৃতিক মসলা ব্যবহার করা যেতে পারে।

ডিম কেনার সময়ও কিছু বিষয় খেয়াল রাখা দরকার। প্রথমে খোসায় কোনো ফাটল আছে কি না তা দেখে নেওয়া উচিত, কারণ ফাটল থাকলে ডিম নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ডিমের রং বা আকার খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। বরং প্যাকেটের তারিখ, মান এবং কীভাবে মুরগি পালন করা হয়েছে সে তথ্য দেখা বেশি জরুরি।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো পর্যাপ্ত পানি পান করা। শরীরে পানির ঘাটতি হলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের জন্য এটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ডিহাইড্রেশন এবং উচ্চ রক্তে শর্করা একে অন্যকে বাড়াতে পারে। তাই নিয়মিত পানি পান করা উচিত। প্রয়োজনে ইলেকট্রোলাইটসমৃদ্ধ পানীয়ও উপকারী হতে পারে, বিশেষ করে অসুস্থতা বা ব্যায়ামের পর।

এখানে মনে রাখা দরকার, শরীরের পানি শুধু পানীয় থেকে নয়, খাবার থেকেও আসে। তাই ফলমূল ও তরলসমৃদ্ধ খাবারও দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত।

স্বাস্থ্য ভালো রাখতে জটিল নিয়ম মেনে চলার প্রয়োজন নেই। প্রতিদিনের ছোট ছোট সচেতন সিদ্ধান্তই বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। চা পানের ধরন, খাবারের নির্বাচন এবং পর্যাপ্ত পানি পান - এই সাধারণ অভ্যাসগুলোই আপনাকে দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকতে সাহায্য করবে।