রান্নাঘরের যেসব জিনিস অনেকদিন ব্যবহারে হতে পারে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি

রান্নাঘর পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যকর রাখতে আমরা সবাই চাই। কিন্তু রান্নার সরঞ্জাম বা পরিষ্কার করার জিনিসগুলোর নির্দিষ্ট মেয়াদ আছে, এটা আমরা অনেকেই খেয়াল করি না। ফলে বছরের পর বছর একই জিনিস ব্যবহার করতে গিয়ে অজান্তেই জীবাণু ও ব্যাকটেরিয়ার ঝুঁকিতে পরে থাকি। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু রান্নাঘরের জিনিস নিয়মিত পরিবর্তন করা খুবই জরুরি।
স্পঞ্জ ও স্ক্রাবার: বাসন মাজার স্পঞ্জ রান্নাঘরের সবচেয়ে বেশি জীবাণু জমার জায়গাগুলোর একটি। এতে খাবারের কণা ও পানি আটকে থেকে দ্রুত ব্যাকটেরিয়া জন্মায়। সাধারণত ২ সপ্তাহ পরপর স্পঞ্জ বদলানো ভালো। থালা মোছার কাপড়ও নিয়মিত ধুয়ে প্রায় ৩ মাস পর পরিবর্তন করা উচিত।
কাটিং বোর্ড: সবজি বা মাংস কাটার বোর্ড দীর্ঘদিন ব্যবহার করা ঠিক নয়। প্লাস্টিকের বোর্ডে দাগ ও ছোট খাঁজ তৈরি হলে সেখানে জীবাণু জমে যায়। প্রায় ২ মাস পরপর পরিবর্তন করা ভালো। বাঁশ বা কাঠের বোর্ড তুলনামূলক টেকসই হলেও বছরে ১ থেকে ২ বার বদলানো বা ভালোভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা দরকার।
কাঠের চামচ ও হাতা: রান্নার কাঠের চামচ বা হাতায় সময়ের সঙ্গে ছোট ফাটল তৈরি হয়। এসব ফাটলে তেল, মশলা ও পানি জমে ব্যাকটেরিয়া তৈরি করতে পারে। সাধারণত ২ থেকে ৫ বছর ব্যবহারযোগ্য হলেও ফাটল দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে বদলানো উচিত।
ননস্টিক প্যান: ননস্টিক প্যানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মেয়াদ না থাকলেও এর আবরণ নষ্ট হলে তা ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ। স্ক্র্যাচ পড়লে বা কোটিং উঠে গেলে সেটি বদলে ফেলা উচিত। কারণ ক্ষতিগ্রস্ত আবরণ খাবারের সঙ্গে মিশে স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে।
প্লাস্টিকের কৌটো: খাবার রাখার প্লাস্টিকের পাত্র দীর্ঘদিন ব্যবহার করা ঠিক নয়। রঙ পরিবর্তন, দুর্গন্ধ বা বিকৃতি দেখা দিলে বুঝতে হবে এটি বদলানোর সময় এসেছে। পুরনো প্লাস্টিক থেকে ক্ষতিকর উপাদান খাবারে মিশে যেতে পারে।
রান্নাঘরের তোয়ালে: বাসন মোছার তোয়ালে নিয়মিত ধোয়া জরুরি। দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে এতে দুর্গন্ধ ও জীবাণু জমে যায়। কাপড় ছিঁড়ে গেলে বা দুর্গন্ধ থাকলে তা বদলে ফেলা উচিত।
বাসন মাজার ব্রাশ: ব্রাশের ব্রিসল নরম বা চ্যাপ্টা হয়ে গেলে পরিষ্কার করার ক্ষমতা কমে যায়। তখন নতুন ব্রাশ ব্যবহার করা দরকার। নিয়মিত পরিষ্কার ও শুকিয়ে রাখলে এর আয়ু কিছুটা বাড়ানো যায়।
রান্নাঘরের জিনিসপত্র অনেকদিন ব্যবহার করলে খরচ কম মনে হলেও এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই নির্দিষ্ট সময় পর পর এগুলো পরিবর্তন করা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি। সচেতনতা থাকলে রান্নাঘর থাকবে নিরাপদ এবং পরিবার থাকবে সুস্থ।
সূত্র: টিভি ৯

