Advertisement

গরম খাবার ফ্রিজে রাখা নিয়ে এত দিনের ধারণা কি ভুল

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
গরম খাবার ফ্রিজে রাখা নিয়ে এত দিনের ধারণা কি ভুল

রান্না শেষ হয়েছে। খাবার এখনো গরম। এদিকে বাইরে রাখলে নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়। তাই অনেকে গরম খাবারের পাত্র সরাসরি ফ্রিজে তুলে রাখেন। আবার অনেকে মনে করেন, গরম খাবার ফ্রিজে রাখলে ফ্রিজ নষ্ট হতে পারে বা খাবারও নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

Advertisement

আসলে বিষয়টি এতটা সরল নয়। গরম খাবার সরাসরি ফ্রিজে রাখা সবসময় ক্ষতিকর নয়। বরং রান্না করা খাবার দীর্ঘ সময় ঘরের তাপমাত্রায় রেখে দেওয়াই বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তবে বড় পাত্রে ফুটন্ত বা অত্যন্ত গরম খাবার না রেখে ছোট পাত্রে ভাগ করে দ্রুত ঠান্ডা করে ফ্রিজে রাখা নিরাপদ পদ্ধতি। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থা ইউএসডিএ (United States Department of Agriculture)-ও গরম খাবার সরাসরি ফ্রিজে রাখা যেতে পারে বলে জানিয়েছে।

গরম খাবার ফ্রিজে রাখলে কী হয়?

খুব গরম একটি বড় পাত্র ফ্রিজে রাখলে তার আশপাশের তাপমাত্রা সাময়িকভাবে বেড়ে যেতে পারে। এতে ফ্রিজকে খাবার ঠান্ডা করতে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। একই সময়ে ফ্রিজের ভেতরে থাকা অন্য খাবারের তাপমাত্রাও কিছুটা বেড়ে যেতে পারে।

ভারতীয় এক অনলাইন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে মূলত এই বিষয়গুলো নিয়েই সতর্ক করা হয়েছে।

তবে এর মানে এই নয় যে গরম খাবার ফ্রিজে দিলেই কম্প্রেসর নষ্ট হয়ে যাবে। একবার-দুবার গরম খাবার রাখলে সাধারণত এমনটা হয় না। বরং বড় পরিমাণ খুব গরম খাবার একসঙ্গে রাখার বদলে খাবার ছোট পাত্রে ভাগ করে রাখাই ভালো।

তাহলে খাবার ঠান্ডা না হওয়া পর্যন্ত বাইরে রাখবেন?

এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি রয়েছে।

অনেকের ধারণা, খাবার পুরোপুরি ঠান্ডা হওয়ার পর ফ্রিজে রাখতে হবে। কিন্তু খাবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাইরে রেখে দেওয়া নিরাপদ নয়। রান্না করা খাবার ঘরের তাপমাত্রায় বেশি সময় থাকলে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বাড়তে পারে।

ইউএসডিএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ৪০ থেকে ১৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা প্রায় ৪.৪ থেকে ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এই পরিসরকে food danger zone বলা হয়।

তাই খাবার ঠান্ডা হওয়ার অপেক্ষায় দীর্ঘ সময় বাইরে রেখে দেওয়া উচিত নয়।

কতক্ষণ বাইরে রাখা নিরাপদ?

রান্না করা বা পচনশীল খাবার সাধারণ ঘরের তাপমাত্রায় দুই ঘণ্টার বেশি রাখা উচিত নয়। আর পরিবেশের তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে এক ঘণ্টার মধ্যে ফ্রিজে রাখা উচিত।

বাংলাদেশের গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার কথা বিবেচনায় রেখে রান্না করা খাবার দীর্ঘ সময় বাইরে না রাখাই ভালো।

সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি কী?

ধরা যাক, বড় হাঁড়ি ভর্তি ডাল, তরকারি বা খিচুড়ি রান্না হয়েছে। পুরো হাঁড়িটি নিয়ে সরাসরি ফ্রিজে ঢোকানোর বদলে কয়েকটি ছোট ও অগভীর পাত্রে খাবার ভাগ করে নিন।

এর সুবিধা হলো, ছোট পরিমাণ খাবার দ্রুত ঠান্ডা হয়। ফলে খাবার দ্রুত নিরাপদ তাপমাত্রায় পৌঁছায় এবং ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির সুযোগ কমে। USDA-ও বড় পাত্রের খাবার ছোট, অগভীর পাত্রে ভাগ করে দ্রুত ফ্রিজে রাখার পরামর্শ দেয়।

সহজ নিয়ম

  • রান্না শেষ হলে খাবার ছোট পাত্রে ভাগ করুন।
  • অতিরিক্ত বাষ্প বের হতে দিন।
  • খাবার দীর্ঘ সময় বাইরে ফেলে রাখবেন না।
  • প্রয়োজন হলে ছোট পাত্রগুলো সরাসরি ফ্রিজে রাখুন।
  • পাত্র ঢাকনাযুক্ত হলে ভালো।
  • ফ্রিজের তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার নিচে রাখুন।

বড় হাঁড়ি সরাসরি ফ্রিজে রাখা কেন ঠিক নয়?

সমস্যা শুধু ফ্রিজের ওপর চাপ তৈরি হওয়া নয়। বড় হাঁড়ির খাবার ভেতর থেকে ঠান্ডা হতে অনেক সময় নেয়। ফলে খাবারের মাঝের অংশ দীর্ঘ সময় তুলনামূলক উষ্ণ থাকতে পারে।

এ কারণে বড় পরিমাণ স্যুপ, ডাল বা তরকারি এক পাত্রে রেখে দেওয়ার বদলে ছোট ছোট পাত্রে ভাগ করে রাখা বেশি নিরাপদ।

ফ্রিজের অন্য খাবারও কি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে?

হ্যাঁ, বড় পরিমাণ গরম খাবার ফ্রিজে রাখলে সাময়িকভাবে ভেতরের তাপমাত্রা বাড়তে পারে। এতে পাশে থাকা দুধ, দই, মাংস বা অন্যান্য পচনশীল খাবারের তাপমাত্রাও বেড়ে যেতে পারে।

তাই ফ্রিজে অনেকটা জায়গা জুড়ে একটি বড় গরম পাত্র রাখার বদলে খাবার ছোট পাত্রে ভাগ করে রাখা ভালো।

ফ্রিজে রাখার পর কতদিন খাবার খাওয়া যাবে?

ইউএসডিএ-এর সাধারণ নির্দেশনা অনুযায়ী, রান্না করা leftover খাবার ফ্রিজে সাধারণত ৩ থেকে ৪ দিন রাখা যায়। এর বেশি সময় রাখতে চাইলে ফ্রিজারে সংরক্ষণ করা ভালো।

তবে খাবারের ধরন, সংরক্ষণের পদ্ধতি এবং ফ্রিজের তাপমাত্রার ওপর নিরাপত্তা নির্ভর করে। খাবারের গন্ধ, রং বা স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে না খাওয়াই ভালো। আবার শুধু গন্ধ বা দেখতে ভালো লাগছে কি না, তা দিয়ে সব ধরনের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত করা যায় না।

তাহলে গরম খাবার নিয়ে আসল নিয়ম কী?

গরম খাবার ফ্রিজে রাখা যাবে না, এই ধারণাটি পুরোপুরি সঠিক নয়। আবার ফুটন্ত খাবারের বিশাল পাত্র সরাসরি ফ্রিজে ঢুকিয়ে দেওয়াও সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি নয়।

সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি হলো খাবারকে ছোট, অগভীর পাত্রে ভাগ করে দ্রুত ঠান্ডা করা এবং দুই ঘণ্টার মধ্যে ফ্রিজে রাখা। খুব গরম খাবারকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাইরে রেখে পুরোপুরি ঠান্ডা করার চেষ্টা করা বরং খাদ্য নিরাপত্তার দিক থেকে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সূত্র: টিভি ৯