logo

খারাপ মানের ঘুম হৃদযন্ত্রকে প্রভাবিত করে

খারাপ মানের ঘুম হৃদযন্ত্রকে প্রভাবিত করে

আমরা সাধারণত হৃদযন্ত্রের যত্নে খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম বা ধূমপান ত্যাগের কথা ভাবি। তবে হৃদযন্ত্রের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে, যা অনেকের নজরে আসে না, আর তা হচ্ছে ঘুম।

আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন এখন ঘুমকেও হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষার ৮টি মূল কাজের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে-স্বাস্থ্যকর খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ, কোলেস্টেরল কমানো, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ এবং ধূমপান ত্যাগের পাশাপাশি মানসম্মত ঘুম। তথ্য ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশন

খারাপ মানের ঘুম কীভাবে হৃদযন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে

ঘুমের মান বলতে শুধু কত ঘণ্টা ঘুম হচ্ছে তা বোঝানো হয় না। মানসম্মত ঘুমের জন্য ৭টি গুরুত্বপূর্ণ দিক আছে। চলুন সেগুলো জেনে নেওয়া যাক। 

সময়কাল: কত ঘণ্টা ঘুমাচ্ছেন

অবিচ্ছিন্নতা: কোনো বিরতি ছাড়া একবারে কতক্ষণ ঘুম হচ্ছে

ঘুমের সময়: কখন ঘুমাচ্ছেন, দিনের কোন সময়ে

সন্তুষ্টি: নিজের ঘুমের মান কেমন মনে হচ্ছে

নিয়মিত ঘুম: সপ্তাহিক কাজের দিন ও ছুটির দিনে ঘুমের সময় একরকম

দৈনন্দিন কর্মক্ষমতা: ঘুমের পর সারাদিন কতটা কর্মক্ষম বা সতর্ক থাকতে পারছেন

ঘুমের স্তর: ঘুম পরিপূর্ণ হচ্ছে কিনা

ঘুমের সময়কাল এবং হৃদযন্ত্রের ঝুঁকি

নিয়মিত ৭ ঘণ্টার কম ঘুম হলে

- এ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন

- রাতে উচ্চ রক্তচাপ

- কার্ডিওমেটাবোলিক সিনড্রোম (যা হার্ট ডিজিজ, স্ট্রোক, টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়)

৯ ঘণ্টার বেশি ঘুম

- হার্টের ধমনি শক্ত হয়ে যাওয়া

- স্ট্রোক বা হৃদরোগজনিত মৃত্যু

কম মানের ঘুম শরীরের প্রদাহ বাড়িয়ে দেয়। অতিরিক্ত প্রদাহ হৃৎপিণ্ডের ধমনিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যার ফলে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।

ঘুমের জন্য ৭টি খারাপ অভ্যাস এবং পরামর্শ

সারা দিন ঘরে থাকা

প্রাকৃতিক আলো না পেলে দেহের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি বিপর্যস্ত হয়।

পরামর্শ: সকালে বাইরে বেরোনো বা জানালার পাশে বসে সূর্যের আলো নেওয়া।

অস্বাস্থ্যকর খাবার ও ব্যায়ামের অভাব

অতিরিক্ত চিনি বা প্রক্রিয়াজাত খাবার শক্তি হঠাৎ বাড়ায় বা কমিয়ে দেয়।

পরামর্শ: ফল, সবজি, ওট, মাছ খাওয়া; নিয়মিত ব্যায়াম।

অতিরিক্ত ক্যাফেইন

বেশি ক্যাফেইন ঘুমে বাধা দেয়।

পরামর্শ: দুপুর ২টার পর ক্যাফেইন এড়িয়ে হারবাল চা ব্যবহার।

অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম

মানসিক উদ্দীপনা এবং ব্লু লাইট ঘুমের প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটায়।

পরামর্শ: বেডরুমে ফোন বা ট্যাব ব্যবহার না করা।

ঘুমের আগে ব্যস্ততা

টিভি দেখা বা কাজ করা শরীরকে শান্ত হতে দেয় না।

পরামর্শ: ধ্যান, বই পড়া বা সহজ রিল্যাক্সেশন রুটিন।

মদ্যপান

ঘুম আনার মতো হলেও গভীর ঘুমকে ব্যাহত করে।

পরামর্শ: সপ্তাহে ১৪ ইউনিটের বেশি না পান, পানির সঙ্গে বিকল্প ব্যবহার করা।

সপ্তাহান্তে অতিরিক্ত ঘুমানো

দেহের ঘড়ি বিভ্রান্ত হয়, ‘সোশ্যাল জেটল্যাগ’ হয়।

পরামর্শ: প্রতিদিন একই সময়ে ঘুম ও ওঠা।

হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে শুধু খাদ্য ও ব্যায়ামই যথেষ্ট নয়। মানসম্মত ঘুম হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষায় সমান গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ৭-৯ ঘণ্টা ঘুম, ভালো ঘুমের অভ্যাস, প্রাকৃতিক আলো গ্রহণ, কম ক্যাফেইন ও স্ক্রিন টাইম, সঠিক ঘুমের সময় নিশ্চিত করা-এগুলো হৃদযন্ত্রকে শক্তিশালী রাখে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।

মানসম্মত ঘুমকে গুরুত্ব না দিলে হৃদযন্ত্রের সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। তাই প্রতিদিনের ঘুমের মানের দিকে লক্ষ রাখা জরুরি।