শিশুর উচ্চতা বাড়াতে প্রতিদিনের খাবারে রাখুন এই ৭ জিনিস

শিশুর উচ্চতা কতটা হবে, তার বড় একটি অংশ নির্ভর করে বংশগত বৈশিষ্ট্যের ওপর। তবে বেড়ে ওঠার সময়ে পর্যাপ্ত পুষ্টি না পেলে শিশু তার স্বাভাবিক বৃদ্ধির সম্ভাবনা অনুযায়ী বেড়ে উঠতে নাও পারে। তাই শিশুর উচ্চতা বাড়ানোর জন্য কোনো একটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, আয়রন, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করা জরুরি।
শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও হাড়ের বিকাশে সহায়ক কয়েক ধরনের খাবারের কথা বলা হয়েছে। তবে মনে রাখা দরকার, কোনো খাবারই শিশুকে তার জেনেটিক সম্ভাবনার চেয়ে বেশি লম্বা করে দিতে পারে না। ভালো পুষ্টি মূলত শিশুকে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করে।
দুধ ও দুধজাত খাবার
দুধ, টক দই ও পনির ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস। শিশুর বেড়ে ওঠার সময়ে শক্তিশালী হাড় তৈরিতে ক্যালসিয়াম গুরুত্বপূর্ণ। দুধে ক্যালসিয়ামের পাশাপাশি ফসফরাস ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানও থাকে।
যেসব শিশু দুধ খেতে চায় না, তাদের টক দই বা পনিরের মতো বিকল্প দেওয়া যেতে পারে।
ডিম
ডিমে উচ্চমানের প্রোটিন রয়েছে। পাশাপাশি এতে ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি১২ এবং আরও কিছু প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়া যায়। প্রোটিন শিশুর হাড়, পেশি ও অন্যান্য টিস্যুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও মেরামতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শিশুর বয়স অনুযায়ী রান্না করা ডিম নাশতা বা দিনের অন্য কোনো খাবারের সঙ্গে দেওয়া যেতে পারে।
মাছ
মাছ প্রোটিনের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পুষ্টির উৎস। চর্বিযুক্ত মাছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডও পাওয়া যায়, যা শিশুর সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের খাবারে রুই, কাতলা, ইলিশসহ বিভিন্ন মাছ সহজেই রাখা যায়। শিশুকে মাছ খাওয়ানোর সময় কাঁটা বেছে দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
ডাল ও ছোলা
শিশুর প্রোটিনের চাহিদা শুধু মাছ, মাংস বা ডিম থেকেই পূরণ করতে হবে এমন নয়। মসুর ডাল, মুগ ডাল, ছোলা, রাজমা ও অন্যান্য ডালজাতীয় খাবারেও প্রোটিন থাকে। এসব খাবারে আয়রনসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানও পাওয়া যায়।
প্রতিদিনের ভাতের সঙ্গে ডাল রাখা তাই সহজ ও পুষ্টিকর একটি অভ্যাস।
শাকসবজি
পালংশাক, অন্যান্য সবুজ শাক, গাজর, মিষ্টি আলু, কুমড়া ও বিভিন্ন সবজিতে ভিটামিন ও খনিজ থাকে। ভিটামিন এ কোষের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশে ভূমিকা রাখে। আবার বিভিন্ন ফল ও সবজিতে থাকা ভিটামিন সি কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করে, যা হাড় ও শরীরের বিভিন্ন টিস্যুর জন্য প্রয়োজনীয়।
শিশু শাকসবজি খেতে না চাইলে ডাল, খিচুড়ি, ডিম বা পছন্দের অন্য খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া যেতে পারে।
ফল
কলা, কমলা, পেয়ারা, পেঁপে ও অন্যান্য মৌসুমি ফল শিশুর খাদ্যতালিকায় রাখা ভালো। ফলে থাকা বিভিন্ন ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শিশুর সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
একই ফল প্রতিদিন না দিয়ে বিভিন্ন ধরনের মৌসুমি ফল খাওয়ানো ভালো।
বাদাম ও বীজ
কাঠবাদাম, কাজুবাদাম, চিনাবাদাম, তিসি ও কুমড়ার বীজে স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন ও বিভিন্ন খনিজ পাওয়া যায়। বাদাম ও বীজ শিশুর সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে।
তবে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে গোটা বাদাম শ্বাসনালিতে আটকে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই বয়স অনুযায়ী বাদাম গুঁড়া বা মিহি করে দেওয়া নিরাপদ।
ভিটামিন ডি কেন গুরুত্বপূর্ণ
শুধু ক্যালসিয়াম খেলেই শক্তিশালী হাড় তৈরি হয় না। শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণ ও হাড়ের স্বাভাবিক বিকাশের জন্য ভিটামিন ডিও প্রয়োজন। চর্বিযুক্ত মাছ, ডিমের কুসুম এবং ভিটামিন ডি যুক্ত কিছু খাবার এর উৎস।
শিশুর ভিটামিন ডির ঘাটতি আছে বলে সন্দেহ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন ছাড়া নিজের সিদ্ধান্তে ভিটামিন ডির সাপ্লিমেন্ট দেওয়া ঠিক নয়।
শুধু খাবার খেলেই কি শিশু লম্বা হবে?
না। শিশুর উচ্চতা নির্ধারণে জেনেটিক বা বংশগত বৈশিষ্ট্য গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পুষ্টি, নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ড ও পর্যাপ্ত ঘুম শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য সুষম খাদ্য, ব্যায়াম ও পর্যাপ্ত ঘুমও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কোন খাবার কম দেওয়া ভালো?
শিশুর নিয়মিত খাবারে অতিরিক্ত চিনি, অতিরিক্ত লবণ, অস্বাস্থ্যকর চর্বি ও অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার কম রাখা ভালো। কোমল পানীয়, অতিরিক্ত মিষ্টি ও প্যাকেটজাত খাবার পেট ভরালেও প্রয়োজনীয় পুষ্টির ভালো উৎস নয়।
শিশুর বৃদ্ধি নিয়ে কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
শিশুর উচ্চতা বা ওজন বয়স অনুযায়ী বাড়ছে না বলে মনে হলে, সমবয়সী শিশুদের তুলনায় বৃদ্ধি অনেক ধীর হলে বা দীর্ঘদিন অপুষ্টির লক্ষণ থাকলে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
চিকিৎসক শিশুর বয়স, উচ্চতা, ওজন এবং সময়ের সঙ্গে তার বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা দেখে প্রয়োজনীয় মূল্যায়ন করতে পারেন।
শিশুর উচ্চতা বাড়ানোর জন্য কোনো জাদুকরি খাবার নেই। দুধ, ডিম, মাছ, ডাল, শাকসবজি, ফল, বাদাম ও পূর্ণ শস্যের মতো পুষ্টিকর খাবারের বৈচিত্র্যই গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত পুষ্টি শিশুকে জেনেটিক সীমার চেয়ে বেশি লম্বা করতে পারে না, তবে স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও হাড়ের সুস্থ বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
সূত্র:লিভ হসপিটাল
.png)


