ঘুম থেকে উঠেই বুকব্যথা, যেসব কারণে হতে পারে বিপজ্জনক

ঘুম থেকে উঠে হঠাৎ বুকব্যথা অনুভব করা অনেকের কাছেই আতঙ্কের বিষয়। কখনো এটি সাধারণ গ্যাস বা মানসিক চাপের কারণে হতে পারে, আবার কখনো এটি হার্ট অ্যাটাক বা ফুসফুসজনিত গুরুতর সমস্যার লক্ষণও হতে পারে। তাই বুকব্যথাকে কখনোই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বুকব্যথা কয়েক মিনিটের বেশি স্থায়ী হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। কারণ কিছু ক্ষেত্রে এটি প্রাণঘাতী সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
চলুন জেনে নিইগ্যাস বা মানসিক চাপের কারণ ছাড়া যেসব বড় সমস্যার জন্য সকাল সকাল বুকব্যথা হতে পারে।
হার্টজনিত কারণ
হার্ট অ্যাটাক: হৃদপিণ্ডে অক্সিজেন বহনকারী ধমনিতে ব্লক তৈরি হলে হার্ট অ্যাটাক হয়। সাধারণত রক্ত জমাট বাঁধার কারণে এই ব্লক তৈরি হয়। এতে বুকের মাঝখানে চাপধরা ব্যথা হতে পারে।
অ্যাঞ্জাইনা: হৃদপিণ্ডে রক্তপ্রবাহ কমে গেলে বুকব্যথা দেখা দেয়, যাকে অ্যাঞ্জাইনা বলা হয়। ধমনিতে চর্বি জমে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে এই সমস্যা হতে পারে।
পেরিকার্ডাইটিস: হৃদপিণ্ডের চারপাশের আবরণে প্রদাহ হলে তাকে পেরিকার্ডাইটিস বলা হয়। গভীর শ্বাস নেওয়া বা শুয়ে পড়লে ব্যথা বেড়ে যেতে পারে।
মায়োকার্ডাইটিস: হৃদপেশিতে প্রদাহ হলে হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে এবং বুকব্যথা অনুভূত হতে পারে।
অর্টিক ডিসেকশন বা ধমনি ছিঁড়ে যাওয়া: এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থা। হৃদপিণ্ড থেকে বের হওয়া প্রধান ধমনির ভেতরের স্তর ছিঁড়ে গেলে তীব্র বুকব্যথা শুরু হয় এবং দ্রুত চিকিৎসা না পেলে প্রাণহানি ঘটতে পারে।
হজমজনিত কারণ
হার্টবার্ন বা অ্যাসিডিটি: পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালিতে উঠে এলে বুকজ্বালা বা জ্বালাপোড়া ধরনের ব্যথা হয়। এটি জিইআরডি বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সাধারণ লক্ষণ।
ডিসফ্যাজিয়া: খাবার গিলতে সমস্যা হলে খাদ্যনালিতে ব্যথা তৈরি হতে পারে, যা বুক পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে।
প্যানক্রিয়াটাইটিস: অগ্ন্যাশয়ে প্রদাহ হলে পেটের ওপরের অংশে ব্যথা শুরু হয়ে বুক পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
গলস্টোন: পিত্তথলিতে পাথর বা প্রদাহ থাকলেও পেটের ব্যথা বুক পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে।
ফুসফুসজনিত কারণ
পালমোনারি এম্বোলিজম: ফুসফুসের ধমনিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তীব্র বুকব্যথা ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে। এটি জরুরি চিকিৎসার বিষয়।
প্লুরিসি: ফুসফুসের আবরণে প্রদাহ হলে কাশি বা গভীর শ্বাসে বুকব্যথা বাড়তে পারে।
পালমোনারি হাইপারটেনশন: ফুসফুসে রক্ত বহনকারী ধমনিতে উচ্চ রক্তচাপ হলে বুক ভারী লাগা ও দ্রুত হৃদস্পন্দনের সমস্যা দেখা দেয়।
ফুসফুসের ক্যানসার: গভীর শ্বাস নেওয়া বা কাশির সময় বাড়তে থাকা বুকব্যথা ফুসফুসের ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।
ফুসফুস ধসে যাওয়া: ফুসফুস ও বুকের দেয়ালের মাঝখানে বাতাস ঢুকে গেলে ফুসফুস ঠিকমতো প্রসারিত হতে পারে না। এতে হঠাৎ বুকব্যথা ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।
অন্যান্য কারণ
কস্টোকন্ড্রাইটিস: পাঁজরের হাড়ের সংযোগস্থলের তরুণাস্থিতে প্রদাহ হলে হার্ট অ্যাটাকের মতো বুকব্যথা হতে পারে।
প্যানিক অ্যাটাক: অতিরিক্ত ভয় বা উদ্বেগের কারণে বুক ধড়ফড়, ঘাম, মাথা ঘোরা ও বুকব্যথা হতে পারে।
আঘাত: মাংসপেশিতে টান বা পাঁজরের হাড় ভাঙার মতো আঘাত থাকলে ঘুমের মধ্যে শরীর ঘোরানোর সময় ব্যথা বাড়তে পারে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন
যদি বুকব্যথা হঠাৎ শুরু হয়, কয়েক মিনিটের বেশি থাকে, শ্বাসকষ্ট হয় বা ব্যথা হাত, ঘাড় কিংবা চোয়ালে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।
চিকিৎসকদের মতে, বুকব্যথা গ্যাস বা মানসিক চাপের কারণেও হতে পারে। তবে নিজে নিজে নিশ্চিত হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ হার্ট অ্যাটাক, ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধা বা বড় ধমনি ছিঁড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দ্রুত চিকিৎসা না পেলে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
তাই ঘুম থেকে উঠে বুকব্যথা অনুভব করলে অবহেলা না করে দ্রুত পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।
সূত্র: হেল্থলাইন



