‘অন্যকে ভালোবাসার আগে নিজেকে ভালোবাসা জরুরি’ কথাটা কতটুকু সঠিক

সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা প্রায়ই একটি জনপ্রিয় উক্তি দেখি- নিজেকে ভালো না বাসলে অন্যকে ভালোবাসা যায় না। তবে এই ধারণাটি পুরোপুরি সঠিক নয় বলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের এক থেরাপিস্ট।
পোর্টল্যান্ডভিত্তিক একজন লাইসেন্সপ্রাপ্ত কাউন্সেলর জেফ গুন্টার, সম্প্রতি এই বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তার মতে, বাস্তবজীবনের সম্পর্কের সঙ্গে এই কথার মিল খুব কম।
কেন এই উক্তি বিভ্রান্তিকর
থেরাপিস্ট জেফ গুন্টারের মতে, এই উক্তিটি মানুষের বাস্তব আচরণকে সঠিকভাবে তুলে ধরে না।
তিনি বলেন, যাদের আত্মসম্মান কম, তারাও সন্তানকে গভীরভাবে ভালোবাসেন। আবার ডিপ্রেশনে থাকা মানুষও বন্ধুদের পাশে থাকেন। অনেকে নিজেকে অপছন্দ করলেও অনেকেই অন্যের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখেন।
অর্থাৎ ভালোবাসার ক্ষমতা আত্মসম্মানের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করে না।
আসল সমস্যাটা কোথায়
জেফ গুন্টার ব্যাখ্যা করেন, এই উক্তিটি আসলে একটি জটিল বিষয়কে খুব সরল করে ফেলেছে। অনেক সময় অতীতের অভিজ্ঞতা বা মানসিক আঘাত থেকে কিছু আচরণ তৈরি হয়, যেমন- অস্থির বা উদ্বিগ্ন সম্পর্কের ধরন, নিজের প্রয়োজনকে উপেক্ষা করাবা বারবার ভুল মানুষ বেছে নেওয়া।
এসবই বাস্তব সমস্যা, কিন্তু এগুলো মানে এই নয় যে কেউ ভালোবাসতে পারে না।
সম্পর্কই হতে পারে আত্মমর্যাদা গড়ার পথ
থেরাপিস্টের মতে, অনেক মানুষ সম্পর্কের মাধ্যমেই নিজেদের মূল্য বুঝতে শেখেন। নিয়মিত প্রিয় মানুষের পাশে থাকা, কঠিন সময়েও সম্পর্ক না ছেড়ে দেওয়া ও দায়িত্বশীল আচরণ- এসব অভিজ্ঞতা একজন মানুষকে বুঝতে সাহায্য করে যে সে ভালোবাসতে সক্ষম এবং অন্যের কাছেও মূল্যবান।
একা থাকা সবসময় সমাধান নয়
এই জনপ্রিয় উক্তির কারণে অনেকেই মনে করেন, আগে নিজেকে ‘ঠিক’ করতে হবে, তারপর সম্পর্ক করা যাবে।
কিন্তু এতে সমস্যা হতে পারে যে- মানুষ একা হয়ে যায়, নিজেকে আরও অযোগ্য মনে হয় এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বাড়ে।
জেফ গুন্টারের মতে, অনেক সময় এটি আত্মোন্নয়ন নয় বরং একাকীত্বের একটি রূপ হয়ে ওঠে।
নিজেকে ভালোবাসা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেটি অন্যকে ভালোবাসার পূর্বশর্ত নয়। মানুষ একই সঙ্গে নিজের সংগ্রাম এবং ভালোবাসার ক্ষমতা-দুটোই বহন করতে পারেন। মানুষ স্বাভাবিকভাবেই সম্পর্কমুখী। মানসিক সুস্থতা ও আত্মোন্নয়ন অনেক সময় একা নয়, বরং সম্পর্কের মধ্য দিয়েই গড়ে ওঠে।
তাই নিজেকে ‘পুরোপুরি ঠিক’ না হওয়া পর্যন্ত সম্পর্ক এড়িয়ে চলার ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। বরং সঠিক সম্পর্ক অনেকের জন্য সুস্থতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হতে পারে।
সূত্র : এনডিটিভি