প্রতিদিনের ছোট ৭ অভ্যাসেই ভালো থাকতে পারে আপনার চোখ

চোখ সুস্থ রাখতে সব সময় দামি চিকিৎসা বা বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হয় না। চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিনের কিছু সহজ অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে চোখের সুরক্ষা এবং দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় মোবাইল, কম্পিউটার বা ট্যাবের স্ক্রিন ব্যবহার করেন, তাদের জন্য এসব অভ্যাস আরও জরুরি।
বর্তমানে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের বড় একটি অংশ মোবাইল, কম্পিউটার ও ট্যাবের স্ক্রিনের সামনে কাটে। দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার কারণে চোখে শুষ্কতা, ঝাপসা দেখা, মাথাব্যথা এবং চোখে চাপ অনুভব করার মতো সমস্যা বাড়ছে। অনেকেই চোখের যত্ন বলতে শুধু চশমা ব্যবহার বা আই ড্রপকেই বোঝেন। কিন্তু চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ দৃষ্টিশক্তি ধরে রাখার জন্য প্রতিদিনের কিছু ছোট অভ্যাসই সবচেয়ে বেশি কার্যকর।
চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. মাজহার নাসিম খানের মতে, চোখের সুরক্ষায় দামি চিকিৎসার চেয়ে নিয়মিত কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো দীর্ঘমেয়াদে দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে।
২০-২০-২০ নিয়ম মেনে চলুন
যারা দীর্ঘ সময় কম্পিউটার বা মোবাইল ব্যবহার করেন, তাদের জন্য ২০-২০-২০ নিয়ম খুবই উপকারী। এই নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি ২০ মিনিট পর অন্তত ২০ সেকেন্ডের জন্য প্রায় ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে তাকান।
এতে চোখের পেশির ওপর চাপ কমে এবং ডিজিটাল আই স্ট্রেইনের ঝুঁকিও হ্রাস পায়।
সচেতনভাবে চোখের পাতা ফেলুন
স্ক্রিনের দিকে দীর্ঘ সময় তাকিয়ে থাকলে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম চোখের পাতা ফেলা হয়। ফলে চোখ দ্রুত শুকিয়ে যায়। মাঝেমধ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে সম্পূর্ণভাবে চোখের পাতা ফেলুন। এতে চোখের ওপর অশ্রুর স্তর সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং শুষ্কতা কমে।
কনট্যাক্ট লেন্স পরে কখনো ঘুমাবেন না
আপনি যদি কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করেন, তাহলে ঘুমানোর আগে অবশ্যই তা খুলে ফেলুন। লেন্স পরে ঘুমালে কর্নিয়ায় অক্সিজেনের সরবরাহ কমে যায় এবং চোখে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। গুরুতর ক্ষেত্রে এটি দৃষ্টিশক্তিরও ক্ষতি করতে পারে।
চোখের জন্য উপকারী খাবার খান
চোখের সুস্থতার সঙ্গে খাদ্যাভ্যাসেরও সম্পর্ক রয়েছে।
খাদ্যতালিকায় নিয়মিত পালং শাকসহ সবুজ শাকসবজি, ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ, রঙিন ফল ও সবজি এবং লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিনসমৃদ্ধ খাবার রাখুন। এসব পুষ্টি উপাদান রেটিনার স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে।
বছরে অন্তত একবার চোখ পরীক্ষা করান
চোখে কোনো সমস্যা না থাকলেও বছরে অন্তত একবার চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে পরীক্ষা করানো উচিত। গ্লুকোমা, ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি এবং বয়সজনিত কিছু চোখের রোগ শুরুতে কোনো লক্ষণ ছাড়াই দেখা দিতে পারে। নিয়মিত পরীক্ষা করলে এগুলো প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করা সম্ভব।
চোখ ঘষার অভ্যাস ত্যাগ করুন
চোখে চুলকানি বা অস্বস্তি হলে অনেকেই হাত দিয়ে জোরে ঘষেন। কিন্তু এতে চোখে জীবাণু প্রবেশ করতে পারে এবং কর্নিয়ার ক্ষতিও হতে পারে। চোখে অস্বস্তি হলে আগে হাত পরিষ্কার করুন। সমস্যা দীর্ঘদিন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
বাইরে গেলে সানগ্লাস ব্যবহার করুন
সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি দীর্ঘমেয়াদে চোখের ক্ষতি করতে পারে। তাই রোদে বের হলে ভালো মানের ইউভি-প্রোটেকশনযুক্ত সানগ্লাস ব্যবহার করা উচিত। মেঘলা দিনেও অতিবেগুনি রশ্মি থাকে, তাই প্রয়োজন অনুযায়ী সানগ্লাস ব্যবহার করা উপকারী।
চোখ ভালো রাখতে আরও কিছু পরামর্শ
- পর্যাপ্ত ঘুমান।
- ধূমপান এড়িয়ে চলুন।
- পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
- ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
- পর্যাপ্ত আলোতে বই পড়ুন বা কাজ করুন।
- স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা পরিবেশের আলোর সঙ্গে মিলিয়ে ব্যবহার করুন।
চোখের যত্ন নিতে সব সময় ব্যয়বহুল চিকিৎসা বা বিশেষ পণ্যের প্রয়োজন হয় না। প্রতিদিন কয়েকটি সহজ অভ্যাস, যেমন নিয়মিত বিরতি নেওয়া, সচেতনভাবে চোখের পাতা ফেলা, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করানো দীর্ঘমেয়াদে দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। চোখে ব্যথা, ঝাপসা দেখা, লালভাব বা দীর্ঘদিন অস্বস্তি থাকলে নিজে থেকে ওষুধ ব্যবহার না করে অবশ্যই চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
