বাচ্চাদের মেধা ও স্মৃতিশক্তি বাড়াতে নাশতায় যে ৫ খাবার দেবেন

সকালের নাশতায় বাচ্চাকে কী খেতে দেবেন তা নিয়ে অনেকেই চিন্তিত থাকেন। সকালে শিশুদের মস্তিষ্ক সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে, তাই এসময় তারা কী খাচ্ছে তা তাদের মেধা ও স্মৃতিশক্তি বাড়াতে অনেক বেশি ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া স্কুলে যাওয়ার আগে বাচ্চারা কী খাচ্ছে, তার ওপর ক্লাসে মনোযোগী হওয়ার বিষয়টিও নির্ভর করে।
অনেকেই বাচ্চাদেরকে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত (প্রসেসড) খাবার দেন, এতে তাদের শরীরে শক্তির অভাব দেখা দেয় এবং মনোযোগের ঘাটতি হয়। শরীরের বৃদ্ধিও ব্যাহত হতে পারে। তাই সকালের নাশতায় এমন কিছু দেওয়া উচিত যা প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা মেটাবে এবং ব্রেনকে চাঙা রাখতেও সাহায্য করবে।
জেনে নিন শিশুর মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সকালের নাশতায় কোন খাবারগুলো দেবেন-
ডিম

ডিমকে বলা হয় বাচ্চাদের জন্য পরিপূর্ণ ব্রেন ফুড। ডিমে আছে মানসম্মত প্রোটিন এবং ‘কোলিন’ (Choline) নামক একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি মস্তিষ্কের এমন কিছু রাসায়নিক উপাদান তৈরি করে, যা শিশুর শেখার ক্ষমতা আর স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। সকালে একটি ডিম খেলে বেশ দীর্ঘ সময় ধরে বাচ্চাদের পেট ভরা থাকে।
ওটস

ওটস হলো দীর্ঘস্থায়ী কর্মক্ষমতার জন্য ধীরগতির শক্তির উৎস। ওটসে থাকা কার্বোহাইড্রেট শরীরে খুব ধীরে ধীরে শক্তি জোগায়। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে বা কমে যায় না। ওটসে প্রচুর ফাইবার ও ভিটামিন-বি থাকায় সকালের নাশতায় ওটস বা ওভারনাইট ওটস খেলে শিশুরা দীর্ঘ সময় ধরে স্কুলে পড়াশোনায় মনোযোগী এবং শান্ত থাকতে পারে।
বাদাম ও বীজ

আখরোট, কাঠবাদাম, তিশি এবং চিয়া বীজে রয়েছে প্রচুর ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড, ভিটামিন-ই এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এগুলো ব্রেন সেলকে সুরক্ষার পাশাপাশি স্মৃতিশক্তি বাড়ায়। সকালে দুধ, দই বা স্মুদির সঙ্গে ভিজিয়ে রাখা বাদাম ও বীজ মিশিয়ে দিলে ব্রেন দারুণ নিউট্রিশন পায়।
তাজা ফলমূল

কলা, বেরি, আপেল বা কমলার মতো তাজা ফলে ফাইবার, ভিটামিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের সঙ্গে থাকে প্রাকৃতিক চিনি। এটি ব্রেনকে হাইপার-অ্যাক্টিভ না করে একটা ব্যালেন্সড এনার্জি দেয়। বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের বেরি মেমোরি শার্প করতে সাহায্য করে। সকালের নাশতায় ফল রাখলে শিশুরা সতেজ এবং প্রাণবন্ত থাকে।
দুধ ও দই

দুধ ও দইকে বলা হয় ক্যালসিয়াম ও প্রোটিনের খনি। এতে থাকা ক্যালসিয়াম, প্রোটিন এবং ভিটামিন-বি মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে। বিশেষ করে দইয়ের প্রোপায়োটিক উপাদান পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখার পাশাপাশি ব্রেনের ফাংশন বাড়াতেও কার্যকর। সকালে এক গ্লাস দুধ বা কিছুটা দই শিশুর মনোযোগ বাড়াতে খুব ভালো কাজ করে।
শিশুদের পড়াশোনায় মনোযোগ ও মস্তিষ্কের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে প্রক্রিয়াজাত বা প্রসেসড খাবার এড়িয়ে সকালে এই প্রোটিন, ভিটামিন ও ভালো ফ্যাটযুক্ত খাবারগুলো দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
সোর্স: টাইমস এন্টারটেইনমেন্ট


