logo

৯ কারণে কিছু মানুষ অন্যদের তুলনায় বেশি মশার কামড়ের শিকার হন

৯ কারণে কিছু মানুষ অন্যদের তুলনায় বেশি মশার কামড়ের শিকার হন

আপনি কি কখনো ভেবেছেন, কেন কিছু মানুষ সবসময় মশার কামড় বেশি খায়? হয়তো সেই মানুষটি আপনি নিজেই এবং আপনি বারবার ভাবেন, মশা কেন আমাকে বেশি কামড়ায়? গুড আরএক্স-এর প্রতিবেদন বলছে গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু মানুষ প্রকৃতপক্ষে ‘মশার চুম্বক’।

মশার কামড় শুধু বিরক্তিকর নয়, কখনো কখনো সংক্রমণ সৃষ্টি করতে পারে। মশা কামড়ের মাধ্যমে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস, ডেঙ্গু জ্বর বা ম্যালেরিয়ার মতো রোগ ছড়াতে পারে।

মশা আকৃষ্ট হওয়ার ৯টি কারণ

কার্বন ডাইঅক্সাইড

শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার সময় আপনি কার্বন ডাইঅক্সাইড বের করেন। মশা কার্বন ডাইঅক্সাইড দ্বারা মানুষকে শনাক্ত করে। কার্বন ডাইঅক্সাইড শনাক্ত করাই প্রথম ধাপ, এরপর তারা গন্ধ, তাপ ও দৃষ্টির মাধ্যমে মানুষ খুঁজে বের করে।

শরীরের গন্ধ

আপনি ঘামলে শরীর থেকে বিভিন্ন রাসায়নিক নিঃসৃত হয়, যেমন ল্যাকটিক অ্যাসিড, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি। কেউ কেউ মশার জন্য বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে কারণ তাদের শরীরের গন্ধ মশার কাছে বিশেষ ‘প্রফিউম’ হিসেবে কাজ করে।

শরীরের তাপমাত্রা

মশা তাপ-সন্ধানী। যারা ব্যায়ামের পরে বা সাধারণত উচ্চ তাপমাত্রায় থাকে, তারা মশার শিকার হয় বেশি।

রক্তের গ্রুপ

কিছু রক্তের গ্রুপের মানুষ বেশি কামড় খায়। যেমন- ও গ্রুপের রক্তের মানুষকে মশা বেশি কামড়ায়। এ গ্রুপের রক্তের মানুষ তুলনামূলকভাবে কম আকর্ষণীয় মশার জন্য।

খাদ্যাভ্যাস

সাধারণত খাদ্যাভ্যাসের প্রভাব খুব কম। তবে কিছু ছোট গবেষণায় দেখা গেছে, কলা খাওয়া মশা আকৃষ্ট করতে পারে।

পোশাকের রঙ

গোলাপি ও লাল রঙের পোশাক মশাকে আকৃষ্ট করতে পারে। অন্ধকার রঙও মশার দৃষ্টি বেশি আকর্ষণ করে। হালকা নীল বা সবুজ রঙ তুলনামূলকভাবে কম আকর্ষণীয়।

গর্ভাবস্থা

গর্ভবতী নারীদের শরীরের বিপাক ক্রিয়ার বৃদ্ধি মশা আকৃষ্ট করতে পারে। কারণ বেশি কার্বন ডাইঅক্সাইড এবং তাপ নিঃসৃত হয়।

ত্বকের ব্যাকটেরিয়া

ত্বকের ব্যাকটেরিয়াও মশা আকৃষ্ট করতে পারে। ব্যাকটেরিয়াগুলো ঘাম ভাঙতে সাহায্য করে এবং কিছু গন্ধ মশার কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

অ্যালকোহল সেবন

বিয়ার বা অন্যান্য অ্যালকোহল খাওয়ার পরে মশা বেশি আকৃষ্ট হতে পারে।

মশার কামড় থেকে নিজেকে রক্ষা করার উপায়

আশপাশের স্থির পানি দূর করুন: মশা সাধারণত স্থির জলে ডিম দেয়। তাই বাড়ির আশপাশে পানি জমতে দেবেন না।

ত্বক ঢেকে রাখুন: লম্বা হাতা এবং প্যান্ট ব্যবহার করুন।

বাইরে যাওয়ার সময় নির্বাচন করুন: মশা সন্ধ্যা বা ভোরে বেশি সক্রিয়। তাই এই সময়ে বাইরে কাজ বা ব্যায়াম এড়াতে হবে।

হালকা রঙের পোশাক পরুন: ডার্ক রঙের পরিবর্তে হালকা রঙের পোশাক পরুন।

মশা প্রতিরোধী স্প্রে ব্যবহার করুন: ডিইইটি, পিএমডি বা পিকারিডিনের মতো উপাদান সংবলিত স্প্রে ব্যবহার করুন। প্রয়োজনে ঘরে তৈরি প্রাকৃতিক স্প্রে ব্যবহার করতে পারেন, যেমন লেবু ইউক্যালিপটাস তেল বা ল্যাভেন্ডার তেল।

মশা তাড়ানোর গাছ ব্যবহার করুন: তুলসী বা পুদিনার মতো কিছু গাছ মশা দূর করতে সাহায্য করতে পারে, যদিও প্রমাণ সীমিত।

মশার কামড়ের চিকিৎসা

সাবান ও পানি দিয়ে ধুয়ে নিন: সংক্রমণ এড়াতে কামড়ের স্থান পরিষ্কার করুন।

বরফের প্যাক ব্যবহার করুন: এটি ফুলে ওঠা কমায় এবং চুলকানি কমায়।

অ্যান্টি-ইচ ক্রিম ব্যবহার করুন: হাইড্রোকোর্টিসন বা ক্যালামাইন লোশন ব্যবহার করা যায়।

মৌখিক অ্যান্টিহিস্টামিন: চুলকানি বেশি হলে ডিপহেনহাইড্রামিন বা লোরাটাডিন ব্যবহার করতে পারেন।

প্রাকৃতিক উপায় চেষ্টা করুন: ওটমিল বাথ, অ্যালোভেরা বা হানি কিছুটা আরাম দিতে পারে।

চুলকানি এড়াতে চেষ্টা করুন: চুলকানি হলে সংক্রমণ হতে পারে। প্রয়োজনে ব্যান্ডেজ ব্যবহার করুন।

সংক্রমণের লক্ষণ দেখুন: লাল হওয়া, ফোলা বা পুঁজ বের হলে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

কিছু মানুষ প্রকৃতপক্ষে মশার চুম্বক। যদিও আপনি আপনার রক্তের গ্রুপ বা ঘামের রাসায়নিক পরিবর্তন করতে পারবেন না, তবে হালকা রঙের পোশাক পরা, ত্বক ঢেকে রাখা এবং অনুমোদিত স্প্রে ব্যবহার করে মশার কামড় কমানো সম্ভব।