logo

সবসময় ক্লান্ত লাগলে সহজ সমাধান বিট কেভাস

সবসময় ক্লান্ত লাগলে সহজ সমাধান বিট কেভাস
ছবি : সংগৃহীত

প্রায়ই কি শরীর ক্লান্ত লাগে? হজমে সমস্যা হচ্ছে, ত্বক মলিন দেখাচ্ছে কিংবা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও আগের মতো নেই? অনেক সময় এসব সমস্যার মূল কারণ হতে পারে পেটের ভেতরের স্বাস্থ্যের অবনতি।

পেটের স্বাস্থ্য ভালো না থাকলে পুরো শরীরেই তার প্রভাব পড়ে। তবে সুখবর হলো, এই সমস্যা দূর করতে সাহায্য করতে পারে একটি প্রাকৃতিক পানীয়—বিট কেভাস। এটি বিট দিয়ে তৈরি এক ধরনের গাঁজনজাত পানীয়, যা শরীরের জন্য বেশ উপকারী বলে মনে করা হয়।

বিট কেভাস কী?

বিট কেভাস হলো বিট, পানি ও সামান্য লবণ দিয়ে তৈরি এক ধরনের গাঁজনজাত পানীয়। কয়েকদিন রেখে দিলে এটি স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়ে যায়।

এই পানীয়টির উৎপত্তি পূর্ব ইউরোপে। সেখানে দীর্ঘদিন ধরেই এটি শরীর ভালো রাখা, হজমশক্তি বাড়ানো এবং ত্বক উজ্জ্বল রাখতে পান করা হয়।

কেন খাবেন বিট কেভাস?

হজমশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে

এতে থাকা উপকারী জীবাণু পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। ফলে হজমের সমস্যা, পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি কমতে পারে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

বিটে রয়েছে বিভিন্ন উপকারী উপাদান ও ভিটামিন, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।

ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে

নিয়মিত পান করলে শরীরের ভেতরের অপ্রয়োজনীয় বর্জ্য বের হতে সাহায্য করে। এতে ত্বক আরও সতেজ ও উজ্জ্বল দেখাতে পারে।

ক্লান্তি কমিয়ে শক্তি বাড়ায়

বিটে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান রক্ত চলাচল ভালো রাখতে সাহায্য করে। ফলে শরীরে শক্তি বাড়ে এবং ক্লান্তি কম অনুভূত হয়।

হৃদ্‌যন্ত্রের জন্য উপকারী

এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে এবং হৃদ্‌যন্ত্র ভালো রাখতে ভূমিকা রাখে।

শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে

শরীরের ভেতরের ফোলাভাব বা প্রদাহ কমাতেও এই পানীয় উপকারী হতে পারে।


কীভাবে তৈরি করবেন বিট কেভাস?

যা যা লাগবে

  • ২ থেকে ৩টি বিট
  • পরিষ্কার কাচের বোতল বা বয়াম
  • পানি
  • স্বাদমতো লবণ
  • চাইলে সামান্য আদা

যেভাবে বানাবেন

প্রথমে বিট ভালোভাবে ধুয়ে ছোট টুকরো করে কাটুন। এরপর কাচের বোতলে বিট দিয়ে উপরে পানি ঢেলে দিন। সামান্য লবণ ও চাইলে একটু আদা যোগ করুন।

এরপর বোতলটি ঢেকে ৩ থেকে ৪ দিন ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রেখে দিন। সরাসরি রোদে রাখবেন না। কয়েকদিন পর পানীয়টি তৈরি হয়ে যাবে। এরপর ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে পান করতে পারেন।

কখন খাবেন?

প্রতিদিন খাবারের আগে এক কাপ করে পান করলেই যথেষ্ট। নিয়মিত খেলে শরীরের পরিবর্তন ধীরে ধীরে টের পাওয়া যেতে পারে।

খেয়াল রাখবেন, যাদের কিডনির সমস্যা আছে, তাদের জন্য এই পানীয় সবসময় উপযুক্ত নাও হতে পারে। তাই নিয়মিত পান করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

প্রাকৃতিক উপায়ে শরীর ভালো রাখতে চাইলে বিট কেভাস হতে পারে সহজ একটি অভ্যাস। ঘরেই তৈরি করা যায়, আবার নিয়মিত পান করলে শরীর ও ত্বকের যত্নেও সাহায্য করতে পারে।

সূত্র : ফিস্টিং এট হোম