logo

ফোনে কি ঘণ্টার পর ঘণ্টা রিলস দেখেন, চোখ বাঁচাতে মানুন ২০-২০-২০ নিয়ম

ফোনে কি ঘণ্টার পর ঘণ্টা রিলস দেখেন, চোখ বাঁচাতে মানুন ২০-২০-২০ নিয়ম
ছবি: আজতাক বাংলা

অফিসে কাজের সময় কম্পিউটার বা ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে কাজ করা। বাসায় ফিরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রিলস দেখা । এভাবেই চলছে প্রতিদিনের জীবন। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার কারণে আমাদের চোখের ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে, যা থেকে তৈরি হতে পারে একাধিক শারীরিক সমস্যা। চোখ জ্বালাপোড়া করা, চোখ শুকিয়ে যাওয়া কিংবা দিনশেষে প্রচণ্ড মাথাব্যথার মতো সমস্যায় কমবেশি সবাই ভুগছেন।

চোখের চিকিৎসকরা এই সমস্যার একটি অত্যন্ত কার্যকর ও বৈজ্ঞানিক একটি সমাধান দিয়েছেন- তা হলো ‘২০-২০-২০ নিয়ম’ (20-20-20 Rule)। চোখের চিকিৎসকদের মতে, কাজের ফাঁকে ছোট এই অভ্যাসটি গড়ে তুললে চোখকে অনেকটাই সুস্থ রাখা সম্ভব।

২০-২০-২০ নিয়মটি আসলে কী?

সহজ ভাষায়, এটি হলো স্ক্রিন দেখার মাঝে চোখকে সামান্য বিশ্রাম দেওয়ার একটি পদ্ধতি। নিয়মটি হলো-

• প্রতি ২০ মিনিট টানা স্ক্রিনে কাজ করার পর আপনাকে থামতে হবে।

• স্ক্রিন থেকে নজর সরিয়ে অন্তত ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে তাকাতে হবে।

• অন্তত ২০ সেকেন্ডের জন্য সেই দূরের বস্তুর দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।

অর্থাৎ প্রতি ২০ মিনিট পর, ২০ ফুট দূরের কোনো জিনিসের দিকে অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে তাকিয়ে থাকা।

কেন এই নিয়ম মেনে চলবেন?

আমরা যখন দীর্ঘক্ষণ কোনো স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকি, তখন স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম চোখের পাতা ফেলি। সাধারণ অবস্থায় আমরা মিনিটে প্রায় ১৫ থেকে ২০ বার চোখের পাতা ফেলি। কিন্তু স্ক্রিন ব্যবহারের সময় এই সংখ্যা কমে মাত্র ৫ থেকে ৭ বার হয়ে যায়। ফলে চোখ শুকিয়ে যায় এবং অস্বস্তি শুরু হয়।

নিয়মিত ২০-২০-২০ নিয়ম মেনে চললে যেসব উপকার পাবেন

টানা স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে চোখে যে টানটান ভাব বা ভারী অনুভূতি হয়, তা দ্রুত কমে যায়।

আপনি যখন দূরের কেনো কিছুর দিকে তাকিয়ে থাকবেন তখন স্বাভাবিকভাবেই চোখের পাতা ফেলার হার বেড়ে যাবে, যা আপনার চোখের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।

চোখের পেশির ওপর অতিরিক্ত চাপের কারণে যে মাথাব্যথা বা ঘাড়ে ব্যথা হয়, তা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

ছবি: ইটিভি ভারত
ছবি: ইটিভি ভারত

দীর্ঘক্ষণ এক দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখের ফোকাস করার ক্ষমতা সাময়িকভাবে দুর্বল হয়ে যায়। এই বিরতি চোখকে আবার নতুন করে ফোকাস করতে সাহায্য করে।

কীভাবে বুঝবেন আপনার চোখের বিশ্রাম দরকার?

কাজ করার সময় যদি নিচের লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তবে বুঝবেন আপনার চোখের দ্রুত বিশ্রামের প্রয়োজন:

• চোখ জ্বালাপোড়া করা, চুলকানো বা লাল হয়ে যাওয়া।

• চোখ অতিরিক্ত শুকিয়ে যাওয়া কিংবা অকারণে পানি পড়া।

• ঝাপসা দেখা বা একটি জিনিস দুটি দেখা (ডাবল ভিশন) ।

• মাথা ঘোরানো বা মাথার পেছনের দিকে ব্যথা করা।

• আলোতে তাকাতে কষ্ট হওয়া।

কাজের ব্যস্ততায় কীভাবে মনে রাখবেন?

অনেকেই কাজের চাপে এই ২০-২০-২০ নিয়মটির কথা ভুলে যেতে পারেন। ব্যস্ততার মধ্যে এই বিরতি নেয়ার কথা মনে রাখা আসলেই কিছুটা কঠিন। এর জন্য কিছু কৌশল কাজে লাগাতে পারেন-

ফোনে রিমাইন্ডার সেট করে দিন। কাজের সময় ফোনে ২০ মিনিট পর পর বাজার মতো অ্যালার্ম দিয়ে রাখতে পারেন। কম্পিউটার বা মোবাইলে এখন অনেক ফ্রি অ্যাপ পাওয়া যায় (যেমন EyeCare, Stretchly), যেগুলো নির্দিষ্ট সময় পর পর আপনাকে চোখ সরানোর কথা মনে করিয়ে দেবে।

ঘরের জানালার পাশে বসার চেষ্টা করুন। সম্ভব হলে পড়ার বা কাজ করার টেবিলটি এমন স্থানে রাখুন যেন সামনে বা পাশে জানালা থাকে। এতে ২০ ফুট দূরে তাকানো সহজ হবে। এ ছাড়া প্রতি ২০ মিনিট পর দূরের দিকে তাকানোর পাশাপাশি উঠে এক গ্লাস পানি খেয়ে আসতে পারেন। এতে চোখের পাশাপাশি শরীরেরও যত্ন নেওয়া হয়ে যাবে।

চোখের সুস্থতায় কিছু জরুরি পরামর্শ

নিয়মটি মানার পাশাপাশি প্রতিদিনের জীবনে আরও কয়েকটি ছোট অভ্যাস যোগ করতে পারেন-

স্ক্রিন সব সময় চোখ থেকে অন্তত ২০-২৫ ইঞ্চি দূরে এবং সামান্য নিচের দিকে রাখুন। ঘরের আলো আর স্ক্রিনের ব্রাইটনেস যেন সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। যাদের চোখ খুব বেশি শুকিয়ে যায়, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে আই ড্রপ ব্যবহার করতে পারেন।

ছবি: টিভি৯ বাংলা
ছবি: টিভি৯ বাংলা

চোখ ভালো রাখতে রাতে কমপক্ষে ৭–৮ ঘণ্টা ঘুমানের চেষ্টা করুন। খাবার তালিকায় গাজর, পালং শাক, মিষ্টি কুমড়া ও ছোট মাছের মতো ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ খাবার রাখুন।

আজকের ডিজিটাল যুগে স্ক্রিন পুরোপুরি এড়িয়ে চলা সম্ভব নয়, তবে সামান্য সচেতনতার মাধ্যমে চোখকে সুস্থ রাখা সম্ভব। এখন থেকেই তাই চেষ্টা করুন ২০-২০-২০ নিয়মটি মেনে চলার।

সূত্র: হেলথলাইন