Advertisement

ওজন কমাতে সকালে ওটস খাচ্ছেন, যে ভুলগুলো করলে ক্ষতি হবে শরীরের

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
ওজন কমাতে সকালে ওটস খাচ্ছেন, যে ভুলগুলো করলে ক্ষতি হবে শরীরের
ছবি : সংগৃহীত

ওজন কমাতে কিংবা স্বাস্থ্যকর খাবারের খোঁজে অনেকেই এখন সকালের নাশতায় ওটস রাখছেন নিয়মিত। সহজে তৈরি করা যায়, কম পরিমাণেই পেট ভরে যায় এবং তুলনামূলকভাবে কম ক্যালোরি থাকায় এটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, শুধু ওটস খেলেই স্বাস্থ্য ভালো থাকবে এমন ধারণা ঠিক নয়। ভুলভাবে খেলে উল্টো শরীরে পুষ্টির ঘাটতিও দেখা দিতে পারে।

বিশেষ করে অনেকেই শুধু গরম পানিতে ওটস মিশিয়ে খেয়ে নেন। এতে পেট ভরলেও শরীর প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি পায় না। কারণ ওটসে পর্যাপ্ত প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট থাকে না। ফলে দীর্ঘদিন এভাবে খেলে দুর্বলতা, লো প্রেসার বা ক্লান্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ওটসকে একক খাবার হিসেবে না দেখে সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে খাওয়া উচিত। যেমন ভাতের সঙ্গে ডাল, সবজি বা মাছ-মাংস খাওয়া হয়, ঠিক তেমনি ওটসের সঙ্গেও অন্য পুষ্টিকর খাবার যোগ করা প্রয়োজন।

ওটস খাওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো দুধ বা দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া। এর সঙ্গে ফল, বাদাম, মধু বা ড্রাই ফ্রুট যোগ করলে পুষ্টিগুণ আরও বাড়ে। এতে শরীর প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও ভালো ফ্যাট পায়।

অনেকে ওটস দিয়ে খিচুড়িও তৈরি করেন। ডাল ও বিভিন্ন সবজি দিয়ে রান্না করা ওটসের খিচুড়ি হতে পারে স্বাস্থ্যকর ও পেটভরা একটি খাবার। সঙ্গে ডিম থাকলে খাবারের পুষ্টিমান আরও বাড়ে।

এ ছাড়া ডিমের সঙ্গে ওটস মিশিয়ে অমলেটও তৈরি করা যায়। এতে পেঁয়াজ, টমেটো বা সবজি যোগ করলে স্বাদ যেমন বাড়ে, তেমনি দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে।

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

তবে ওটসকে সুস্বাদু করতে গিয়ে অতিরিক্ত চিনি, সিরাপ, চকোলেট চিপস বা মিষ্টি উপকরণ ব্যবহার করা ঠিক নয়। এতে খাবারের ক্যালোরি অনেক বেড়ে যায় এবং স্বাস্থ্যকর দিকটি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তখন সেটি আর স্বাস্থ্যকর খাবার থাকে না।

কতটুকু ওটস খাবেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য প্রতিদিন ৪০ থেকে ৬০ গ্রাম ওটস যথেষ্ট। দেখতে কম মনে হলেও এই পরিমাণেই পেট ভরে যায়। অতিরিক্ত ওটস খেলে পেট ফাঁপা, হজমের সমস্যা বা অস্বস্তি হতে পারে।

সব মিলিয়ে, ওটস অবশ্যই স্বাস্থ্যকর খাবার। তবে সঠিক উপায়ে এবং পরিমাণ বুঝে খাওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন