গ্যাস সিলিন্ডার বেশি দিন চালানোর ৬ সহজ উপায়

রান্নার গ্যাসের খরচ কমানো এখন অনেক পরিবারের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোকে মাসের বাজেট ঠিক রাখতে গ্যাসের ব্যবহার নিয়ে সচেতন থাকতে হয়। তবে রান্নার অভ্যাসে কিছু ছোট পরিবর্তন আনলেই অপ্রয়োজনীয় গ্যাসের অপচয় কমানো সম্ভব।
বেশ কিছু সহজ উপায়ে গ্যাস সাশ্রয়ের করা যায়। পাশাপাশি চুলার বার্নার পরিষ্কার রাখা এবং গ্যাসের পাইপ ও রেগুলেটরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি।
ভারতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টিভি৯ বাংলার একটি প্রতিবেদনে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার বেশি দিন ব্যবহার করার জন্য এমন কয়েকটি সহজ কৌশলের কথা বলা হয়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, কীভাবে দৈনন্দিন রান্নায় গ্যাসের অপচয় কমিয়ে খরচ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
রান্নার আগে সব গুছিয়ে নিন
অনেকেই চুলা জ্বালানোর পর সবজি কাটা, মসলা খোঁজা বা রান্নার অন্যান্য প্রস্তুতি নেন। এতে রান্নার কাজ না হলেও গ্যাস জ্বলতে থাকে।
এই অভ্যাস বদলাতে রান্না শুরুর আগেই সবজি কেটে নিন, মসলা ও প্রয়োজনীয় উপকরণ হাতের কাছে রাখুন। এরপর চুলা জ্বালিয়ে রান্না শুরু করুন। এতে অপ্রয়োজনীয় সময় ধরে গ্যাস জ্বলবে না।
পাত্রের ঢাকনা ব্যবহার করুন
রান্নার সময় হাঁড়ি বা কড়াই ঢেকে রাখলে ভেতরের তাপ ও বাষ্প সহজে বেরিয়ে যায় না। ফলে খাবার দ্রুত সেদ্ধ হয় এবং রান্নার সময় কম লাগে।
বিশেষ করে ভাত, ডাল, সবজি ও ঝোল রান্নার সময় পাত্রের ঢাকনা ব্যবহার করতে পারেন। তবে খাবার উপচে পড়ছে কি না, সেদিকেও মনে করে খেয়াল রাখুন।
প্রেশার কুকারে রান্না করুন
ডাল, ছোলা, মাংস ও শক্ত সবজি সেদ্ধ করতে প্রেশার কুকার বেশ কার্যকর। এতে বাষ্পের চাপ ব্যবহার করে খাবার তুলনামূলক দ্রুত রান্না করা যায়। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে চুলা জ্বালিয়ে রাখার প্রয়োজন কমে।
প্রেশার কুকার ব্যবহারের সময় প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা মেনে চলুন। কুকারের ভালভ ও সিল ঠিক আছে কি না, তা ওখয় রাখুন। নিরাপত্তার জন্য কুকারের চাপ সম্পূর্ণ বের হওয়ার আগে ঢাকনা খোলার চেষ্টা করবেন না।
খাবার ফুটে উঠলে আঁচ কমিয়ে দিন
রান্না দ্রুত করার জন্য অনেকেই পুরো সময় চুলার আঁচ বেশি রাখেন। কিন্তু খাবার ফুটে ওঠার পরও সব ক্ষেত্রে বেশি আঁচের প্রয়োজন হয় না।
পানি, ডাল বা ঝোল ফুটতে শুরু করলে খাবারের ধরন অনুযায়ী আঁচ কমিয়ে দিন। এতে অপ্রয়োজনীয় গ্যাস খরচ কমবে। তবে খাবার যেন ঠিকমতো সিদ্ধ হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
আরেকটি বিষয় মনে রাখবেন, পাত্রের তুলনায় আগুনের শিখা অতিরিক্ত বড় হলে তাপের কিছু অংশ পাত্রের পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। তাই পাত্রের আকার অনুযায়ী বার্নার ও আঁচ নির্বাচন করুন।
চুলার বার্নার পরিষ্কার রাখুন
বার্নারের ছিদ্রে খাবারের অবশিষ্টাংশ বা ময়লা জমলে আগুনের শিখা ঠিকভাবে বের হতে বাধা পেতে পারে। ফলে রান্নার কার্যকারিতা কমে যায়।
এ জন্য নিয়মিত বার্নার পরিষ্কার করুন। পরিষ্কারের আগে চুলা বন্ধ করে ঠান্ডা হতে দিন এবং গ্যাসের সংযোগ বন্ধ রাখুন। বার্নার খুলে পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে চুলার প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
আগুনের শিখা নীল না হয়ে দীর্ঘ সময় হলুদ বা কমলা থাকলে অথবা অস্বাভাবিকভাবে জ্বললে, শুধু নিজে পরিষ্কার করার ওপর নির্ভর না করে দক্ষ মেকানিকের সাহায্য নিন। মনে রাখবেন, বার্নারের ছিদ্রে ধারালো ধাতব বস্তু ঢুকিয়ে পরিষ্কার করা বা গ্যাসের সংযোগ নিজে মেরামত করা নিরাপদ না।
রান্নার পরিকল্পনা করে নিন
একই সময়ে কয়েকটি খাবার রান্না করতে হলে আগে থেকেই পরিকল্পনা করুন। কোন খাবার আগে রান্না করবেন, কোনটি একসঙ্গে করা সম্ভব এবং কোন খাবারের জন্য প্রেশার কুকার ব্যবহার করবেন, তা ঠিক করে নিলে সময় ও গ্যাস দুটোই বাঁচতে পারে।
চাল, ডাল বা ছোলার মতো কিছু শুকনো খাবার রান্নার আগে নিরাপদভাবে পানিতে ভিজিয়ে রাখলে সেগুলো দ্রুত সেদ্ধ হতে পারে। তবে খাবারের ধরন ও প্রয়োজনীয় রান্নার সময় অনুযায়ী এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে।
বারবার খাবার গরম করার প্রয়োজন কমাতেও চেষ্টা করুন। পরিবারের সদস্যদের খাবারের সময় কাছাকাছি রাখা সম্ভব হলে একাধিকবার চুলা জ্বালানোর প্রয়োজন কমতে পারে।
গ্যাস সাশ্রয়ের পাশাপাশি নিরাপত্তার দিকেও নজর দিন
রান্নার গ্যাস সাশ্রয় করতে গিয়ে নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করা যাবে না। এ জন্য নিচের কয়েকটি বিষয় মনে রাখুন।
- রান্না শেষ হলে চুলার নব বন্ধ করুন এবং সিলিন্ডারের রেগুলেটরও বন্ধ রাখুন।
- সিলিন্ডার সোজা অবস্থায়, তাপের উৎস থেকে দূরে ও বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় রাখুন।
- গ্যাসের পাইপে ফাটল বা রেগুলেটরে সমস্যা আছে কি না, নিয়মিত পরীক্ষা করুন।
- জ্বলন্ত চুলা কখনো অযত্নে ফেলে রাখবেন না।
- গ্যাসের গন্ধ পেলে আগুন জ্বালাবেন না এবং বৈদ্যুতিক সুইচ চালু বা বন্ধ করবেন না। নিরাপদ হলে রেগুলেটর বন্ধ করে দরজা-জানালা খুলুন এবং বাইরে থেকে গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
গ্যাসের পাইপ, রেগুলেটর বা সিলিন্ডারের কোনো অংশ নিজে মেরামত করার চেষ্টা করবেন না। প্রয়োজনে অনুমোদিত মেকানিকের সাহায্য নিন।
রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার বেশি দিন চালানোর জন্য ব্যয়বহুল কোনো সরঞ্জাম কেনার প্রয়োজন নেই। রান্নার আগে প্রস্তুতি নেওয়া, পাত্র ঢেকে রান্না করা, প্রেশার কুকার ব্যবহার এবং সঠিক আঁচে খাবার রান্নার মতো অভ্যাসই গ্যাসের অপচয় কমাতে সাহায্য করতে পারে।
তবে কতটা গ্যাস সাশ্রয় হবে, তা নির্ভর করে পরিবারের সদস্যসংখ্যা, রান্নার ধরন, চুলার কার্যকারিতা এবং দৈনিক ব্যবহারের ওপর। তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিলিন্ডার শেষ হওয়ার হিসাব রেখে নিজের রান্নার অভ্যাসে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনুন।
সূত্র: টিভি ৯ বাংলা।


