শুধু ক্যালরির খেয়াল নয়, খাওয়ার অভ্যাসেও পরিবর্তন জরুরি

সুস্থ ওজন ধরে রাখতে অনেকেই ক্যালরি গণনার ওপর নির্ভর করেন। অর্থাৎ কত ক্যালরি খাচ্ছেন আর কত ক্যালরি খরচ করছেন, তার হিসাব মিলিয়ে চলা। বিষয়টি সহজ মনে হলেও গবেষণা বলছে, বাস্তবতা এতটা সরল নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমরা কী খাচ্ছি তার পাশাপাশি কখন খাচ্ছি, কত দ্রুত খাচ্ছি এবং কীভাবে খাচ্ছি, এসব বিষয়ও শরীরে ক্যালরি কীভাবে কাজ করবে তা নির্ধারণ করে।
সব ক্যালরি একরকম নয়
খাবারের ক্যালরি একই হলেও শরীর সব সময় একইভাবে তা গ্রহণ করে না। খাবারের ধরন, হজমের গতি এবং অন্ত্রে থাকা উপকারী জীবাণুর ওপর নির্ভর করে শরীরের প্রতিক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, একই খাবার একজন মানুষের শরীরে যেভাবে কাজ করে, অন্যজনের শরীরে তা ভিন্নভাবে কাজ করতে পারে।
কখন খাচ্ছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ
খাবারের সময়ও ওজন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
- সকালে বেশি খাবার খেলে ওজন কমাতে সুবিধা হতে পারে
- দেরিতে খেলে শরীর বেশি চর্বি জমাতে পারে
- রাত ৯টার পর নাস্তা করলে রক্তে সুগার ও খারাপ কোলেস্টেরল বাড়তে পারে
এ ছাড়া দিনের প্রথম ও শেষ খাবারের সময়ের ব্যবধান কম রাখলে মোট ক্যালরি গ্রহণও কম হতে পারে।
কত দ্রুত খাচ্ছেন
দ্রুত খাওয়ার অভ্যাস ওজন বাড়ার একটি বড় কারণ হতে পারে।
- দ্রুত খেলে বেশি খাবার খেয়ে ফেলা হয়
- ধীরে খেলে শরীর তৃপ্তির সংকেত ঠিকভাবে পায়
- ধীরে খাওয়া রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধীরে ধীরে ভালোভাবে চিবিয়ে খেলে কম খেয়েও পেট ভরা অনুভূতি পাওয়া যায়।
খাবারের গঠনও গুরুত্বপূর্ণ
একই খাবার ভিন্নভাবে খেলে শরীর ভিন্ন পরিমাণ ক্যালরি গ্রহণ করে।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বাদাম ভালোভাবে চিবিয়ে খেলে বেশি ক্যালরি শোষিত হয়, কিন্তু কম চিবালে কিছু অংশ শরীর গ্রহণ করতে পারে না। আবার পুরো ফলের তুলনায় জুস বা পিউরি করা খাবার দ্রুত খাওয়া যায়, ফলে বেশি ক্যালরি গ্রহণের সম্ভাবনা থাকে।
এ কারণেই অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার দ্রুত হজম হয় এবং ওজন বাড়াতে পারে।
শরীরভেদে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া
প্রত্যেক মানুষের শরীর খাবারের প্রতি আলাদা প্রতিক্রিয়া দেখায়।
- একই খাবারে কারও রক্তে সুগার বেশি বাড়ে, কারও কম
- অন্ত্রের জীবাণুর ভিন্নতার কারণে হজম ও ক্যালরি ব্যবহারও ভিন্ন হয়
- এমনকি যমজদের ক্ষেত্রেও একই খাবারে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে
এ কারণে এখন ব্যক্তিভিত্তিক খাদ্যাভ্যাস নিয়ে গবেষণা বাড়ছে।
কী করবেন
- বেশি আঁশযুক্ত খাবার খান
- ফল ও সবজি নিয়মিত রাখুন
- চিনি, লবণ ও অতিরিক্ত চর্বি কমান
- ধীরে ধীরে খাবার খান
- রাতে দেরি করে নাস্তা এড়িয়ে চলুন
- প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খান
শুধু ক্যালরি গোনা দিয়ে সুস্থ থাকা সম্ভব নয়। খাবারের ধরন, সময় এবং খাওয়ার অভ্যাস সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ। তাই সুস্থ থাকতে হলে সঠিক খাবার বেছে নেওয়ার পাশাপাশি কীভাবে এবং কখন খাচ্ছেন, সেদিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
সূত্র : বিবিসি