logo
Advertisement

কিডনি ভালো রাখবেন যেভাবে

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
কিডনি ভালো রাখবেন যেভাবে
কিডনি সুরক্ষায় জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন ও আগাম সতর্ক হওয়া জরুরি। ছবি: সংগৃহীত

মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কিডনি। আমাদের কিছু দৈনন্দিন অভ্যাস যেমন কিডনিকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে, তেমনি কিছু অসচেতনতামূলক অভ্যাসের কারণে অজান্তেই দানা বাঁধে কিডনির মারাত্মক রোগ।

Advertisement

অনেক সময় রোগের লক্ষণ প্রকাশ পেতে পেতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। কিডনি সুরক্ষায় জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন ও আগাম সতর্ক হওয়া জরুরি। তাই জানতে হবে কিডনি ভালো রাখার উপায়, প্রতিরোধ করতে হবে কিডনিবৈকল্যকে।

কিডনি রোগের ১০টি প্রাথমিক লক্ষণ

কিডনিতে কোনো জটিলতা দেখা দিলে শরীরে কিছু প্রাথমিক উপসর্গ দেখা যায়। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত সতর্ক হতে হবে। এখানে কিডনি রোগের ১০টি প্রাথমিক লক্ষণ উল্লেখ করা হলো—

১. প্রস্রাবের স্বাভাবিক পরিমাণে পরিবর্তন আসা।

২. পা, গোড়ালি, হাত কিংবা মুখ ফুলে যাওয়া।

৩. অনবরত ক্লান্তি ও শারীরিক দুর্বলতা অনুভব করা।

৪. প্রস্রাবে ফেনা বা বুদবুদ সৃষ্টি হওয়া।

৫. প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

৬. হঠাৎ ক্ষুধা কমে যাওয়া।

৭. বমি বমি ভাব বা ঘন ঘন বমি হওয়া।

৮. পেশিতে তীব্র টান বা ক্র্যাম্প ধরা।

৯. ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যাওয়া এবং চুলকানি হওয়া।

১০. সামান্য পরিশ্রমে বা বিশ্রামরত অবস্থায় শ্বাসকষ্ট হওয়া।

যেসব অভ্যাস কিডনির জন্য উপকারী

রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করতে হবে। ডায়াবেটিস থাকলে রক্তে শর্করার মাত্রা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।

নিয়মিত শরীরচর্চা: কিডনি ও রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সপ্তাহে অন্তত ১২০ মিনিট ব্যায়াম বা শরীরচর্চা করা উচিত।

পর্যাপ্ত পানি পান: শরীর সচল রাখতে ও ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রতিদিন খাবারের তরল বাদ দিয়েও অন্তত ২ থেকে ২.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি। তবে যাদের ইতিমধ্যে কিডনির জটিলতা রয়েছে, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পানির পরিমাণ নির্ধারণ করবেন।

দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া: প্রস্রাবে রক্ত বা যে কোনো অস্বাভাবিক অস্বস্তি দেখা দিলে অবহেলা না করে সরাসরি চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।

যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি

অতিরিক্ত ব্যথানাশক এড়ানো: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দোকান থেকে কিনে ‘ওভার-দ্য-কাউন্টার’ ব্যথানাশক (পেইনকিলার) বা যে কোনো ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস কিডনি বিকল করে দিতে পারে।

নিয়মিত ফলোআপ করা: কোনো রোগ নির্ণয় হওয়ার পর অনেকে নিয়মিত ওষুধ খান না বা চিকিৎসকের কাছে পরবর্তী চেকআপে (ফলো-আপ) যান না। এই অবহেলার কারণে রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। তাই চিকিৎসাধীন থাকলে নিয়ম মেনে ফলো-আপ করা বাধ্যতামূলক।

সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন