যেসব অভ্যাস আপনার ত্বক জাপানিদের মতো তরুণ ও সতেজ রাখে

অনেক সময় জাপানিদের দিকে তাকালে মনে হয় বয়স যেন তাদের জন্য শুধু একটি সংখ্যা। বয়স বাড়লেও তাদের ত্বকে খুব একটা বার্ধক্যের ছাপ দেখা যায় না। উজ্জ্বল, মসৃণ ও সতেজ ত্বকের জন্য জাপানিরা বিশ্বজুড়ে পরিচিত।
অনেকে ভাবেন এটি হয়তো শুধুই জেনেটিক কারণে। তবে বাস্তবে এর পেছনে রয়েছে তাদের স্বাস্থ্যকর জীবনধারা, সচেতন খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত স্কিনকেয়ার রুটিন। প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাসই তাদের ত্বককে দীর্ঘদিন সুস্থ ও উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে।
চলুন জেনে নেওয়া যাক জাপানিদের ত্বকের যত্নে গুরুত্বপূর্ণ কিছু অভ্যাস সম্পর্কে।
সচেতন খাদ্যাভ্যাস
জাপানিরা সাধারণত কম প্রসেসড ও কম চিনি যুক্ত খাবার খেতে পছন্দ করেন। অতিরিক্ত চিনি ও প্রসেসড খাবার ত্বকের কোলাজেন ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং হজমের সমস্যাও তৈরি করে। কোলাজেন কমে গেলে ত্বকে দ্রুত বয়সের ছাপ পড়ে।
এ কারণে তারা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং বিভিন্ন ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার বেশি খান। এসব খাবার শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে এবং ত্বককে ভেতর থেকে সুস্থ রাখে।
গ্রিন টি পান
গ্রিন টি জাপানি সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। এটি শুধু জনপ্রিয় পানীয়ই নয়, স্বাস্থ্যকর অভ্যাসও বটে। গ্রিন টিতে প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে যা শরীরের টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে।
নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে ত্বক সতেজ থাকে এবং বার্ধক্যের লক্ষণ ধীরে আসে। পাশাপাশি এটি শরীরের জন্যও উপকারী।
হারা হাচি বু পদ্ধতি
জাপানে হারা হাচি বু নামে একটি খাদ্যাভ্যাস রয়েছে। এর অর্থ হলো পেট প্রায় ৮০ শতাংশ ভরে খাওয়া। অর্থাৎ পুরোপুরি পেট ভরে না খেয়ে কিছুটা জায়গা খালি রাখা।
এই অভ্যাস অতিরিক্ত খাওয়া কমাতে সাহায্য করে এবং হজম ভালো রাখে। ফলে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ত্বকও সুস্থ ও প্রাণবন্ত থাকে।
ফার্মেন্টেড খাবার
জাপানিদের খাদ্যতালিকায় ফার্মেন্টেড বা গাঁজানো খাবারের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তাদের জনপ্রিয় খাবারের মধ্যে মিসো স্যুপ অন্যতম, যা মূলত সয়া ও শস্যদানা ফার্মেন্ট করে তৈরি করা হয়।
ফার্মেন্টেড খাবারে প্রোবায়োটিক ও উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে যা পরিপাকতন্ত্র ভালো রাখতে সাহায্য করে। পরিপাকতন্ত্র সুস্থ থাকলে ত্বকের অবস্থাও ভালো থাকে। আমাদের দেশেও টকদইয়ের মতো কিছু ফার্মেন্টেড খাবার সহজেই পাওয়া যায়।
খাদ্যতালিকায় মিষ্টি আলু ও মূলা
জাপানিদের খাবারে প্রায়ই মিষ্টি আলু ও মূলা দেখা যায়। মিষ্টি আলুতে জটিল শর্করা এবং বিটা ক্যারোটিন থাকে, যা ত্বকের জন্য উপকারী।
অন্যদিকে মূলা ভিটামিন সি সমৃদ্ধ একটি সবজি। ভিটামিন সি ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সামুদ্রিক মাছ
জাপানিদের খাদ্যতালিকায় সামুদ্রিক মাছের উপস্থিতি বেশ বেশি। স্যামন বা টুনার মতো মাছ তাদের খাবারে নিয়মিত থাকে।
সামুদ্রিক মাছে প্রোটিন ও ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে যা ত্বকের কোলাজেন উৎপাদনে সহায়তা করে। ফলে ত্বক দীর্ঘদিন টানটান ও উজ্জ্বল থাকে।
পর্যাপ্ত পানি পান
ত্বক সুস্থ রাখতে পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাপানিরা প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করেন।
পানি ত্বককে হাইড্রেটেড রাখে এবং শুষ্কতা কমায়। পর্যাপ্ত পানি না খেলে ত্বক দ্রুত শুষ্ক হয়ে যায় এবং বয়সের ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
নিয়মিত ব্যায়াম
জাপানিদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যায়াম একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। নিয়মিত ব্যায়াম শরীরের রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। ফলে ত্বক প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও পুষ্টি পায়।
ব্যায়ামের সময় ঘামের মাধ্যমে শরীরের কিছু টক্সিন বের হয়ে যায় এবং মানসিক চাপও কমে। এতে ত্বক স্বাভাবিকভাবেই উজ্জ্বল দেখায়।
নিয়মিত স্কিনকেয়ার
জাপানিদের স্কিনকেয়ার রুটিনও বেশ পরিচিত। তারা সাধারণত সহজ কিন্তু নিয়মিত একটি রুটিন মেনে চলেন।
ক্লেনজিং, ত্বককে হাইড্রেটেড রাখা এবং সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষা দেওয়া তাদের স্কিনকেয়ারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিয়মিত সান প্রোটেকশন ব্যবহার করা তাদের অভ্যাসের মধ্যে পড়ে।
সুন্দর ত্বক পাওয়ার জন্য কোনো জাদুকরী উপায় নেই। এটি মূলত নিয়মিত যত্ন, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং সঠিক জীবনধারার ফল।
জাপানিদের মতো স্বাস্থ্যকর অভ্যাস ধীরে ধীরে দৈনন্দিন জীবনে যুক্ত করলে ত্বক দীর্ঘদিন সুস্থ ও উজ্জ্বল রাখা সম্ভব। ছোট কিছু পরিবর্তনই ত্বকের যত্নে বড় পার্থক্য এনে দিতে পারে।
সূত্র : সাজগোজ