logo
Advertisement

জামালপুরের বিখ্যাত মিল্লি, ঐতিহ্যের এই পদ রান্না করবেন যেভাবে

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
জামালপুরের বিখ্যাত মিল্লি, ঐতিহ্যের এই পদ রান্না করবেন যেভাবে
জামালপুরের বিখ্যাত মিল্লি বা পিঠালি। ছবি : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

জামালপুরের বিখ্যাত মিল্লি বা পিঠালি শুধু একটি খাবার নয়, এটি জেলার দীর্ঘদিনের খাদ্যঐতিহ্যের অংশ। স্থানীয়ভাবে এটি মিল্লি, পিঠালি, মেন্দা বা মিলানি নামেও পরিচিত। এর সঠিক উৎপত্তির সময় জানা না গেলেও বিভিন্ন সূত্রে খাবারটিকে শত বছরের পুরোনো বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে বিয়ে, আকিকা, ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও সামাজিক ভোজে একসময় বড় ডেগে মিল্লি রান্নার প্রচলন ছিল।

Advertisement

আগে মূলত ঘরোয়া ও সামাজিক অনুষ্ঠানের খাবার হলেও এখন জামালপুরের বিভিন্ন খাবারের দোকানেও মিল্লি পাওয়া যায়। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই খাবার আজ জামালপুরের অন্যতম পরিচিত ঐতিহ্যবাহী পদ। চলুন জেনে নেয়া যাক জামালপুরের মিল্লির পুরো রেসিপি-

উপকরণসমূহ

গরুর মাংস- ১ কেজি (হাড়সহ)

আলু- ৪টি (মাঝারি)

পেঁয়াজ কুচি- ৩টি

আদা বাটা- ১ টেবিল চামচ

রসুন বাটা- ১ টেবিল চামচ

হলুদ গুঁড়া- ১ চা-চামচ

মরিচ গুঁড়া- ১ থেকে দেড় চা-চামচ

ধনে গুঁড়া- ১ চা-চামচ

জিরা গুঁড়া- ১ চা-চামচ

গরম মসলা- আধা চা-চামচ

লবণ- স্বাদমতো

সরিষার তেল- ৪ থেকে ৫ টেবিল চামচ

কাঁচামরিচ- ৫ থেকে ৬টি

পানি- প্রয়োজনমতো

ঝোল ঘন করতে

চালের গুঁড়া- ৪ থেকে ৫ টেবিল চামচ

ঠান্ডা পানি- প্রয়োজনমতো

বাগাড়ের জন্য

রসুন কুচি - ৮ থেকে ১০ কোয়া

পেঁয়াজ- ১টি (পাতলা কুচি করা)

গোটা জিরা- ১ চা-চামচ

শুকনা মরিচ- ২টি

সরিষার তেল- ২ টেবিল চামচ

রান্নার প্রণালী

প্রথমে মাংস ভালোভাবে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। হাঁড়িতে সরিষার তেল গরম করে কুচি করা পেঁয়াজ দিয়ে দিন। পেঁয়াজ হালকা বাদামি হলে আদা ও রসুন বাটা দিয়ে কষিয়ে নিন। এরপর হলুদ, মরিচ, ধনে ও জিরার গুঁড়া দিন। সামান্য পানি দিয়ে মসলা কষাতে থাকুন। মসলার কাঁচা গন্ধ চলে গিয়ে তেল ওপরে উঠলে মাংস দিয়ে মাঝারি আঁচে ভালোভাবে কষাতে হবে।

মাংস থেকে পানি বের হলে হাঁড়ি ঢেকে কিছুক্ষণ রান্না করুন। প্রয়োজনমতো গরম পানি দিয়ে মাংস প্রায় সেদ্ধ করে নিন। এরপর বড় টুকরা করে কাটা আলু দিয়ে দিন। মাংস ও আলু নরম হয়ে এলে ঝোলের পরিমাণ ঠিক করে নিন।

এবার আসবে মিল্লির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ- চালের গুঁড়া। একটি বাটিতে চালের গুঁড়া নিয়ে অল্প ঠান্ডা পানি দিয়ে মসৃণ গোলা তৈরি করুন। চুলার আঁচ কমিয়ে ধীরে ধীরে গোলাটি মাংসের ঝোলে ঢালুন। একই সঙ্গে নেড়ে যেতে হবে, যাতে দলা না বাঁধে।

চালের গুঁড়া দেওয়ার পর কয়েক মিনিট ফুটলেই ঝোল ঘন হয়ে আসবে। তবে একবারে বেশি চালের গুঁড়া দেওয়া ঠিক নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প অল্প করে দিলে ঝোলের কাঙ্ক্ষিত ঘনত্ব পাওয়া সহজ হয়। সবশেষে কাঁচামরিচ দিয়ে আরও কয়েক মিনিট রান্না করে নিন।

বাগাড়েই আসল সৌন্দর্য

মিল্লি চুলা থেকে নামানোর আগে তৈরি করে নিতে হবে বাগাড়। কড়াইয়ে সরিষার তেল গরম করে গোটা জিরা ও শুকনা মরিচ দিন। এরপর কুচি করা রসুন ও পেঁয়াজ দিয়ে সোনালি করে ভেজে নিতে হবে। গরম বাগাড় মিল্লির ওপর ঢেলে দিয়ে একবার নেড়ে দিন। আরও দুই-তিন মিনিট কম আঁচে রেখে চুলা বন্ধ করে রাখুন। স্থানীয় বর্ণনাতেও রসুন, পেঁয়াজ ও জিরার এই বাগাড়কে মিল্লির স্বাদ পরিপূর্ণ করার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভালো মিল্লির জন্য কিছু টিপস

  • হাড় ও সামান্য চর্বিযুক্ত মাংস ব্যবহার করলে স্বাদ ভালো হয়।
  • চালের গুঁড়া ধীরে ধীরে দিন। বেশি দিলে ঝোল অতিরিক্ত ঘন ও আঠালো হয়ে যেতে পারে।
  • বাগাড় পুড়িয়ে ফেলবেন না। রসুন-পেঁয়াজ সোনালি হলেই যথেষ্ট।
  • ঝোল একেবারে শুকিয়ে ফেলবেন না। চুলা বন্ধ করার পর মিল্লি আরও কিছুটা ঘন হয়।
  • সরিষার তেল ব্যবহার করুন। এটি রান্নার ঐতিহ্যবাহী ঘ্রাণ ও স্বাদকে আরও ভালোভাবে ফুটিয়ে তোলে।

মিল্লির সৌন্দর্য অতিরিক্ত ঝাল বা মসলায় নয়। মাংসের স্বাদ, চালের গুঁড়ার ঘনত্ব এবং শেষের বাগাড়-এই তিনের ভারসাম্যেই এর আসল স্বাদ। জামালপুরের মিল্লির সবচেয়ে প্রচলিত সঙ্গী গরম সাদা ভাত। ঘন ঝোলের সঙ্গে নরম মাংস ও আলু দিয়ে ভাত মেখে খাওয়াই এর সবচেয়ে সহজ ও পরিচিত পরিবেশন। আর জামালপুরের ঐতিহ্য ঘরের রান্নাঘরে ফিরিয়ে আনতে খুব বেশি আয়োজনেরও দরকার নেই, খুব অল্প কিছু উপকরণেই এর স্বাদ নেওয়া যাবে পরিবারের মানুষের সাথে।