logo

কাউকে অপমান করতে ‘কাঁচকলা’ কেন বলা হয় , কথাটির মানে জানেন কী

কাউকে অপমান করতে ‘কাঁচকলা’ কেন বলা হয় , কথাটির মানে জানেন কী
ছবি: টাইমস অব ইন্ডিয়া

কথায় কথায় কাউকে অবজ্ঞা করতে বা তার কথা যে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না, তা বোঝাতে অনেকেই কাঁচকলা শব্দটি ব্যবহার করেন। কেউ কোনো কিছু আশা করেও না পেলে বলা হয়, তার ভাগ্যে কাঁচকলা জুটেছে। আবার কাউকে চ্যালেঞ্জ করে বলা হয়, তুমি আমার কাঁচকলা করবে! কিন্তু সাধারণ একটি সবজির নাম কীভাবে বাংলা ভাষায় অবজ্ঞা, প্রত্যাখ্যান বা তুচ্ছতাচ্ছিল্যের অর্থে ব্যবহার হতে শুরু করল, তা জানেন কি?

বাংলা ভাষায় কাঁচকলা নিয়ে এমন নানা কথার প্রচলন রয়েছে। তবে এর পেছনে নির্দিষ্ট কোনো ঐতিহাসিক ঘটনা বা নিশ্চিত উৎসের প্রমাণ পাওয়া যায় না। বরং দীর্ঘদিনের লোকমুখে প্রচলিত ভাষা ও রূপক অর্থের ব্যবহার থেকেই শব্দটি এমন অর্থ পেয়েছে বলে মনে করা যায়।

কাঁচকলা বলার অর্থ কী?

কাঁচকলা শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো কাঁচা অবস্থায় থাকা এক ধরনের কলা, যা সাধারণত সবজি হিসেবে রান্না করে খাওয়া হয়। কিন্তু কথ্য বাংলায় শব্দটি শুধু খাবারের নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয় না। বাগধারা হিসেবে এটি কিছুই না পাওয়া, কাউকে পাত্তা না দেওয়া বা তার দাবি প্রত্যাখ্যান করার অর্থেও ব্যবহৃত হয়।

যেমন, কেউ অনেক আশা করে কোনো কাজের ফল না পেলে বলতে পারেন, এত পরিশ্রম করেও শেষ পর্যন্ত কাঁচকলা জুটল। আবার কেউ অন্যের হুমকি বা দাবি গুরুত্ব না দিলে বলতে পারেন, তোমার কাঁচকলা করার ক্ষমতা নেই।

অর্থাৎ, এখানে কাঁচকলা দিয়ে আসলে সবজিটিকে বোঝানো হচ্ছে না। শব্দটি ব্যবহার করা হচ্ছে কাউকে গুরুত্ব না দেওয়া, তার প্রত্যাশা পূরণ না করা কিংবা তার ক্ষমতাকে তুচ্ছ করে দেখানোর অর্থে।

কেন অপমানের সঙ্গে জড়িয়ে গেল কাঁচকলার নাম?

কাঁচকলা পাকা কলার মতো মিষ্টি নয়। এটি সাধারণত তরকারি, ভর্তা কিংবা ভাজি হিসেবে খাওয়া হয়। তবে কাঁচকলা স্বাদে পাকা কলার চেয়ে আলাদা বলেই যে একে অপমানের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা শুরু হয়, এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই। এই ব্যাখ্যাকে শব্দটির উৎপত্তির প্রমাণ হিসেবে দেখাও ঠিক হবে না।

বাংলা ভাষায় অনেক সাধারণ শব্দই সময়ের সঙ্গে বিশেষ অর্থ পেয়েছে। দৈনন্দিন কথাবার্তা, সামাজিক অভিজ্ঞতা ও লোকমুখে প্রচলিত ব্যবহারের মধ্য দিয়ে শব্দের আক্ষরিক অর্থের বাইরে নতুন অর্থ তৈরি হতে পারে। কাঁচকলার ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটেছে বলে ধারণা করা যায়।

কাঁচকলা দেখানো কথাটির অর্থ কী?

কাঁচকলা দেখানো বলতে সাধারণত কাউকে উপেক্ষা করা, তার কথা না শোনা অথবা তার আশা পূরণ না করাকে বোঝানো হয়। আবার কাউকে তুচ্ছ করে তার ক্ষমতাকে গুরুত্ব না দেওয়ার অর্থেও কথাটি ব্যবহৃত হয়।

বাংলা ভাষার অভিধানেও কাঁচকলা শব্দের আলংকারিক অর্থ হিসেবে কাউকে বিদ্রুপ করা বা তার ক্ষমতাকে তুচ্ছ করে দেখানোর কথা উল্লেখ করা হয়।

এই ধরনের কথার ব্যবহার শুধু বাংলা ভাষাতেই সীমাবদ্ধ না। বিভিন্ন ভাষায় খাবার, প্রাণী বা দৈনন্দিন জীবনের পরিচিত জিনিসকে কেন্দ্র করে নানা বাগধারা তৈরি হয়েছে। এসব বাগধারার অর্থ অনেক সময় শব্দগুলোর সরাসরি অর্থ থেকে আলাদা হয়।

অপমানের অর্থ থাকলেও কাঁচকলা পুষ্টিকর খাবার

কথাবার্তায় কাঁচকলা শব্দটির নেতিবাচক অর্থ থাকলেও খাবার হিসেবে এর গুরুত্ব রয়েছে। কাঁচকলা দিয়ে নানা ধরনের তরকারি, ভর্তা ও ভাজি তৈরি করা হয়। এতে শর্করা ও খাদ্যআঁশ থাকে। তাই শব্দটির রূপক অর্থের সঙ্গে খাবারটির পুষ্টিগুণকে এক করে দেখার সুযোগ নেই।

কাউকে কাঁচকলা বলা বা কাঁচকলা দেখানোর মতো কথা বাংলা ভাষায় দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত। এর মাধ্যমে সাধারণত কাউকে অবজ্ঞা করা, তার দাবি প্রত্যাখ্যান করা বা তার ক্ষমতাকে গুরুত্ব না দেওয়ার ভাব প্রকাশ পায়। তবে এই বাগধারার নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক উৎস নিশ্চিতভাবে জানা যায় না। তাই কাঁচকলার নাম অপমানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পেছনে কোনো একটি নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে বলে দাবি করার চেয়ে, এটিকে বাংলা ভাষার প্রচলিত রূপক ব্যবহারের উদাহরণ হিসেবে দেখা বেশি যুক্তিসংগত।

সূত্র: ভারতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টিভি ৯ বাংলাতে ‘কাউকে হেয় করতে কেন কাঁচকলা বলা হয়?’ শিরোনামে প্রকাশিত আর্টিকেল থেকে সম্পাদনা করেছেন সারিকা সাইয়ারা।