কিমা মোঘলাই পরোটা

মোঘলাই পরোটা বা মুঘলাই পরোটা একটি জনপ্রিয় বাঙালি খাবার যা বাংলাদেশের পুরান ঢাকায় উৎপন্ন মুঘলীয় রন্ধনশৈলীর একটি খাবার এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও এটি বেশ জনপ্রিয়। মোঘল শাসনামল বাংলার অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় ঢাকার রন্ধনশৈলীতে অধিক প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়। ব্রিটিশ শাসনামলে এই মোঘলাই পরোটা কলকাতায়ও নাস্তা হিসেবে জনপ্রিয়তা পায়। বাংলাদেশের শহরে ও গ্রামে সব জায়গায় স্ন্যাকস হিসেবে এটি সবার পছন্দের তালিকায় রয়েছে।
শুধু মোগলাই পারোটা নামেই নয় এর আরও বেশ কিছু নাম রয়েছে যেমন শাহী পরোটা, পারাটায়ে কিমা, তকমা পরোটা ইত্যাদি। এটি মূলত মচমচে রুটিজাতীয় খাবার যার মধ্যে গরু বা খাসি অথবা মুরগি মাংসের কিমা, ডিম, পেঁয়াজ, মরিচ, ধনেপাতা, গরম মসলা গুঁড়া ইত্যাদি ব্যবহার হয়ে থাকে। সাধারণ মুঘলাই পরোটায় পুর তৈরিতে মাংসের বদলে শুধু ডিম ব্যবহার করা হয়।
কিমা মোঘলাই পরোটা বানাতে যা যা উপকরণ লাগবে-
পরোটা বা খামিরের জন্য
- ময়দা- ২ কাপ
- লবণ- আধা চা চামচ
- তেল বা ঘি- ২ টেবিল চামচ
- কুসুম গরম পানি- প্রয়োজনমতো
পুরের জন্য
- ডিম- ২ থেকে ৩টি
- মুরগি বা গরুর কিমা- আধা কাপ রান্না করা
- পেঁয়াজ- ১টি (কুচি করা)
- কাঁচামরিচ -২ থেকে ৩টি (কুচি করা)
- ধনেপাতা- ২ টেবিল চামচ (কুচি করা)
- গোলমরিচ গুঁড়ো- আধা চা চামচ
- গরম মসলা গুঁড়ো- আধা চা চামচ
- লবণ-স্বাদমতো
- তেল- ভাজার জন্য
রান্নার প্রণালি
ডো তৈরি: একটি পাত্রে ময়দা, তেল ও লবণ ভালো করে মিশিয়ে নিন। অল্প অল্প করে কুসুম গরম পানি দিয়ে নরম একটি খামির বা ডো তৈরি করতে হবে। ডো ঢেকে ১৫-২০ মিনিট রেখে দিতে হবে।

ডিম প্রস্তুত করা: বাটিতে ডিম ভেঙে তাতে পেঁয়াজ কুচি, কাঁচা মরিচ, ধনেপাতা, লবণ ও গোলমরিচ গুঁড়ো দিয়ে ভালোভাবে ফেটিয়ে নিন।
পরোটা বেলা: ডো থেকে বড় লেচি কেটে পাতলা করে রুটির মতো বেলে নিতে হবে।
ভাজ করা: বেলার পর মাঝখানে ডিমের মিশ্রণ ও কিমার কিমার পুর দিয়ে চার দিক ভাঁজ করে দিন। এরপর রুটির চারপাশ ভাঁজ করে খামের মতো চারকোনা আকৃতি দিতে হবে।
ভাজা: কড়াইতে তেল গরম করে মাঝারি আঁচে পরোটাটি সাবধানে ছেড়ে দিন। উভয়পিঠ সোনালী ও মচমচে হওয়া পর্যন্ত ভাজতে হবে।
পরিবেশন
গরম গরম কিমা মোঘলাই পরোটা পরিবেশন করতে পারেন আলু বা কোন সবজির তরকারি, শসা-টমেটোর সালাদ, রিং করা কাঁচা পেঁয়াজ, দইয়ের রাইতা, টমেটো সস বা কেচাপ কিংবা পুদিনার চাটনির সঙ্গে। চাইলে এক কাপ গরম চা বা কফি এই আয়োজনকে করে তুলবে আরও উপভোগ্য।
কিছু টিপস
- খামির অন্তত ৩০ মিনিট বিশ্রামে রাখলে পরোটা সহজে পাতলা করা যায়।
- কিমা আগে থেকেই ভালোভাবে রান্না করে ঠান্ডা করে ব্যবহার করুন।
- খুব বেশি আঁচে ভাজবেন না। মাঝারি আঁচে ভাজলে ভেতরের ডিম ভালোভাবে সেদ্ধ হবে এবং বাইরের অংশ হবে মচমচে।
- পরিবেশনের ঠিক আগে ভেজে নিলে স্বাদ ও মচমচে ভাব সবচেয়ে ভালো থাকে।
ছুটির সকালের নাশতা হোক কিংবা বিকেলের আড্ডা- কিমা মোঘলাই পরোটা বাঙালির রসনায় এক বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। বাইরে খাস্তা, ভেতরে ডিম, কিমা আর সুগন্ধি মসলার সমৃদ্ধ পুর- প্রতিটি স্তরেই যেন লুকিয়ে থাকে ঐতিহ্য আর স্বাদের মেলবন্ধন। একসময় এই খাবারের স্বাদ পেতে ভরসা ছিল শুধু রেস্তোরাঁ বা পুরান ঢাকার নামকরা খাবারের দোকান। তবে সামান্য যত্ন আর সঠিক উপকরণ ব্যবহার করলে সেই একই স্বাদ এখন সহজেই মিলতে পারে নিজের রান্নাঘরেই।



