আজ মন খুলে চিৎকার করার দিন

নিজের যত্ন নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এর মানে সবসময় নিজেকে সময় দেওয়ার জন্য ঘুম, ভালো খাবার খাওয়া বা ধ্যান জরুরি নয়। অনেক সময় ভেতরের চাপ কমাতে দরকার হয় মন খুলে জোরে চিৎকার করা।
এই ব্যস্ত আধুনিক জীবনে চাপ, দুশ্চিন্তা আর মানসিক ক্লান্তি যখন জমতে থাকে, তখন আজকের দিবসটির মতো একটি দিনের ধারণা অস্বাভাবিক কিছু নয়। বরং অনেকের কাছেই এটি স্বস্তি পাওয়ার একটি সহজ উপায় হতে পারে।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, কখনও কখনও জোরে চিৎকার করা মানসিকভাবে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। যখন কেউ নিজের ভেতরের চাপ বা হতাশা বাইরে প্রকাশ করে, তখন মস্তিষ্ক কিছুটা হালকা অনুভব করতে পারে। এতে সাময়িক হলেও মানসিক চাপ কমতে পারে।
বিশ্ব চিৎকার দিবস বা ‘স্ক্রিম ডে’ (Scream day) মূলত তাদের জন্য, যারা দীর্ঘদিন ধরে ভেতরে জমে থাকা চাপ বা বিরক্তি প্রকাশ করতে পারছেন না। এই দিনটি মানুষকে মনে করিয়ে দেয় যে, কখনও কখনও নিজের অনুভূতি প্রকাশ করাও জরুরি।
আপনি চাইলে বাথরুমে, গাড়ির ভেতর, বালিশে মুখ গুঁজে বা নির্জন কোনো জায়গায় চিৎকার করতে পারেন নিজের মতো। এটি অনেকের জন্য মানসিক চাপ কমানোর একটি সহজ উপায় হিসেবে কাজ করে।
এই দিনটির মূল উদ্দেশ্য হলো নিরাপদভাবে এবং নিয়ন্ত্রিত উপায়ে নিজের ভেতরের চাপ বাইরে বের করে আনা, যাতে মানসিকভাবে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যায়।
ইতিহাস
চিৎকার বা শব্দের মাধ্যমে মানসিক চাপ কমানোর ধারণা নতুন নয়। প্রায় ২০০০ বছর ধরে পূর্বের চিকিৎসা পদ্ধতিতে এর কিছু উপকারের কথা বলা হয়ে আসছে। চীনা চিকিৎসা মতে, চিৎকার শরীরের শক্তির প্রবাহ বা চি ঠিক রাখতে সাহায্য করতে পারে।
১৯৬০-এর দশকে আর্থার ইয়ানোভ নামের এক মনোবিজ্ঞানী প্রাইমাল স্ক্রিম থেরাপি চালু করেন। এই পদ্ধতিতে জোরে চিৎকারের মাধ্যমে মানুষের ভেতরে জমে থাকা আবেগ প্রকাশ করতে উৎসাহ দেওয়া হয়, যা কিছুটা মানসিক স্বস্তি দিতে পারে।
বিশ্ব চিৎকার দিবস নিজে খুব পুরোনো নয়। প্রতিদিনের ব্যস্ততা আর চাপের মাঝে মাঝে নিজেকে একটু হালকা করা দরকার। আর সেই সুযোগটাই মনে করিয়ে দেয় এই দিনটি।