logo

রমজানে পিপাসা কমানোর কিছু উপায়

রমজানে পিপাসা কমানোর কিছু উপায়

রমজান মাসে দীর্ঘ সময় রোজা রাখার কারণে অনেকেরই অতিরিক্ত পিপাসা অনুভব হয়। বিশেষ করে দিনের গরমে এই সমস্যা আরও বেশি দেখা দেয়। তবে কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললে পিপাসা অনেকটাই কমানো সম্ভব। নিচে রমজান মাসে অতিরিক্ত পিপাসা কমানোর কার্যকর ও স্বাস্থ্যসম্মত কিছু উপায় নিয়ে কথা বলছেন রাজধানীর অরোরা স্পেশালাইজড হসপিটালের ওবেসিটি,ডায়েট থেরাপি ও পুষ্টিবিদ কনসালটেন্ট ইসরাত জাহান রিমনি।

ইফতার থেকে সাহরি পর্যন্ত সঠিকভাবে পানি পান

রোজার সময় শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে ইফতার থেকে সাহরি পর্যন্ত ধীরে ধীরে পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। একসঙ্গে অনেক পানি না খেয়ে নির্দিষ্ট বিরতিতে অল্প অল্প করে পানি পান করুন। এতে শরীর পানি ভালোভাবে ধরে রাখতে পারে। সাহরিতে অন্তত ২ থেকে ৩ গ্লাস পানি পান করার চেষ্টা করুন। চাইলে লেবু পানি বা ডাবের পানি রাখতে পারেন।

পানি সমৃদ্ধ খাবার খান

ইফতার ও সাহরিতে শসা, তরমুজ, বাঙ্গি, কমলা ইত্যাদি পানি সমৃদ্ধ ফল খেলে শরীর আর্দ্র থাকে। শসা ও দই দিয়ে সালাদ বা রায়তা খেতে পারেন। এতে পিপাসা কম লাগে এবং শরীর সতেজ থাকে।

অতিরিক্ত লবণ ও ঝাল এড়িয়ে চলুন

সাহরিতে বেশি লবণ, ভাজাপোড়া ও ঝাল খাবার খেলে শরীর দ্রুত পানি হারায় এবং দিনের বেলা বেশি পিপাসা লাগে। তাই সাহরিতে হালকা ও কম মসলাযুক্ত খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।

ক্যাফেইন কম গ্রহণ করুন

চা ও কফিতে থাকা ক্যাফেইন শরীর থেকে পানি বের করে দিতে সাহায্য করে। তাই ইফতার ও সাহরিতে অতিরিক্ত চা বা কফি না খাওয়াই ভালো।

সাহরির সঠিক খাদ্যতালিকা পিপাসা কমাতে সহায়ক।

জটিল শর্করা বা কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট

সাহরিতে এমন কার্বোহাইড্রেট রাখুন যা ধীরে হজম হয়। যেমন- লাল চালের ভাত, আটার রুটি, ওটস কিংবা চিঁড়া। উপকারিতা হলো এই খাবারগুলো ধীরে গ্লুকোজ সরবরাহ করে। ফলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে, এনার্জি বজায় থাকে এবং দ্রুত ক্ষুধা বা দুর্বলতা আসে না।

প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার

সাহরিতে প্রোটিন থাকলে শরীর বেশি সময় শক্তি ধরে রাখতে পারে। যেমন - ডিম সিদ্ধ বা হালকা তেলে ডিম ভাজি, ডাল, মাছ বা মুরগি অথবা দুধ বা টক দই। উপকারিতা হলো প্রোটিন পেশী শক্ত রাখে, ক্ষুধা দেরিতে লাগে এবং সারাদিন ক্লান্তি কমায়।

আঁশযুক্ত সবজি ও ফল

আঁশযুক্ত খাবার হজম ভালো রাখে এবং শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। যেমন- শসা, লাউ, ঝিঙে, গাজর, টমেটো,কলা, আপেল বা পেঁপে। উপকারিতা হলো এগুলো কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে, পেট পরিষ্কার রাখে এবং শরীরকে দীর্ঘ সময় হাইড্রেটেড রাখতে সহায়তা করে।

অতিরিক্ত রোদ ও পরিশ্রম এড়িয়ে চলুন

রোজার সময় অপ্রয়োজনীয় রোদে বের হওয়া ও কঠোর শারীরিক পরিশ্রম করলে ঘাম বেশি হয় এবং পিপাসা বেড়ে যায়। প্রয়োজন ছাড়া রোদে না বের হওয়াই ভালো।

প্রাকৃতিক পানীয় বেছে নিন

ইফতারে ঘরে তৈরি লেবুর শরবত বা ডাবের পানি খেতে পারেন। তবে অতিরিক্ত চিনি না দেওয়াই ভালো। প্রাকৃতিক পানীয় শরীরকে দ্রুত সতেজ করে এবং পানিশূন্যতা কমায়।

রমজান মাস আত্মসংযম ও ইবাদতের মাস। তাই সুস্থভাবে রোজা রাখতে শরীরের যত্ন নেওয়াও জরুরি। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান এবং সামান্য সচেতনতা অতিরিক্ত পিপাসার সমস্যা অনেকটাই কমাতে পারে। সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন এবং রমজানের প্রতিটি দিন শক্তি ও স্বস্তির সঙ্গে কাটান।