শিশুকে ১০ বছর বয়সের আগেই ৮ শিক্ষা দেওয়া জরুরি

প্রযুক্তির এই সময়ে শিশুরা খুব অল্প বয়সেই মোবাইল, ট্যাব কিংবা নানা গ্যাজেট ব্যবহার করতে শিখে যায়। কিন্তু শুধু প্রযুক্তি ব্যবহার জানলেই জীবনযুদ্ধে প্রস্তুত হওয়া যায় না। বাস্তব জীবনের ছোট ছোট দক্ষতাই একসময় তাদের আত্মবিশ্বাসী ও স্বনির্ভর মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে।
তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুর ১০ বছর বয়স হওয়ার আগেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ জীবনদক্ষতা শেখানো জরুরি। এসব শিক্ষা শুধু শিশুর নিরাপত্তাই বাড়ায় না, ভবিষ্যতের জন্যও তাকে প্রস্তুত করে তোলে।
আত্মরক্ষার প্রাথমিক শিক্ষা
শিশুকে ছোটবেলা থেকেই আত্মবিশ্বাসী হতে শেখাতে হবে। তাকে জানাতে হবে, বিপদের সময় ভয় পেলেও মাথা ঠান্ডা রাখতে হয়। পাশাপাশি সহজ কিছু আত্মরক্ষার কৌশল শেখানো যেতে পারে।
যেমন, কেউ আক্রমণ করলে হাঁটু, চোখ বা নাকের মতো সংবেদনশীল জায়গায় আঘাত করে দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার বিষয়টি শেখানো যেতে পারে।
মানচিত্র ও দিক চিনতে শেখানো
শিশুকে ছোটবেলা থেকেই নিজের এলাকা, রাস্তা এবং দিক চিনতে শেখান। ঘরে মানচিত্র বা গ্লোব রাখলে তারা আগ্রহ নিয়ে অনেক কিছু শিখে ফেলে।
বাড়ির আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা, স্কুলের রাস্তা বা নিকটস্থ পরিচিত স্থানগুলো চিনিয়ে দিলে জরুরি পরিস্থিতিতে সে সহজে পথ খুঁজে নিতে পারবে।
ঠিকানা ও ফোন নম্বর মুখস্থ করানো
শিশু কথা বলতে শেখার পর থেকেই তাকে নিজের নাম, বাড়ির ঠিকানা এবং মা-বাবার ফোন নম্বর শেখানো উচিত। এতে কোনো কারণে হারিয়ে গেলে বা বিপদে পড়লে এই তথ্যগুলো তাকে দ্রুত সাহায্য পেতে সহায়তা করবে।
বিপদের সময় কার কাছে যেতে হবে তা শেখানো
শিশুকে পুলিশ, সেনাবাহিনী বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক চিনিয়ে দিন। তাকে বুঝিয়ে বলুন, ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে গেলে বা সমস্যায় পড়লে কার কাছে সাহায্য চাইতে হবে।
এটি শিশুর নিরাপত্তাবোধ বাড়ায়।
‘না’ বলতে শেখানো
অনেক সময় শিশুরা ভয় বা চাপে নিজের মতপ্রকাশ করতে পারে না। তাই ছোটবেলা থেকেই তাকে স্পষ্টভাবে ‘না’ বলতে শেখানো জরুরি।
এতে সে নিজের সীমা বুঝতে শিখবে এবং ভবিষ্যতে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
প্রাথমিক চিকিৎসার ধারণা
খেলতে গিয়ে ছোটখাটো আঘাত লাগতেই পারে। তাই শিশুকে সহজ প্রাথমিক চিকিৎসা শেখানো ভালো।
যেমন- ক্ষত পরিষ্কার করা, ব্যান্ডেজ ব্যবহার করা ও কোথায় বড়দের সাহায্য নিতে হবে তা বোঝা। এসব জ্ঞান জরুরি মুহূর্তে কাজে আসে।
অর্থের মূল্য বোঝানো
শিশুকে ছোটবেলা থেকেই টাকার গুরুত্ব শেখাতে হবে। হাতখরচ বা ঈদের সালামির টাকা কীভাবে সঞ্চয় করতে হয়, প্রয়োজনীয় কাজে ব্যয় করতে হয় - এসব অভ্যাস ভবিষ্যতে তাকে দায়িত্বশীল হতে সাহায্য করবে।
রান্নাঘরের ছোটখাটো কাজ শেখানো
শিশুকে বয়স অনুযায়ী সহজ কাজ শেখানো যেতে পারে। যেমন - খাবার গরম করা, স্যান্ডউইচ বানানো, টেবিলে পানি রাখা বা সবজি ধুয়ে দেওয়ার মতো সহজ কাজ।
এসব কাজ শিশুকে আত্মনির্ভর হতে শেখায় এবং দায়িত্ববোধ তৈরি করে।
শিশুকে শুধু বইয়ের পড়াশোনা শেখালেই যথেষ্ট নয়। বাস্তব জীবনের এই ছোট ছোট দক্ষতাগুলোই তাকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করে। পরিবার থেকেই যদি এই শিক্ষা শুরু হয়, তাহলে শিশুর আত্মবিশ্বাস, সচেতনতা এবং সমস্যা মোকাবিলার ক্ষমতা অনেকটাই বেড়ে যায়।
সূত্র : প্রথম আলো
