logo
Advertisement

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে উপকারী হতে পারে এই ৫ পানীয়

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে উপকারী হতে পারে এই ৫ পানীয়
ছবি : এআই

উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেসার বর্তমানে বিশ্বজুড়ে অন্যতম সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। এটি হৃদযন্ত্রকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পরিশ্রম করতে বাধ্য করে এবং ধীরে ধীরে রক্তনালিকে শক্ত ও কম নমনীয় করে তুলতে পারে। সময়মতো নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং অন্যান্য হৃদ্‌রোগজনিত জটিলতার ঝুঁকি বাড়ে।

Advertisement

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেকেই এ ক্ষেত্রে গ্রিন টি-কে সবচেয়ে উপকারী পানীয় মনে করেন। গ্রিন টিতে থাকা ক্যাটেচিন নামের উদ্ভিজ্জ উপাদান রক্তনালিকে শিথিল করতে এবং রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করতে পারে।

তবে পুষ্টিবিদদের মতে, এমন আরও কিছু পানীয় রয়েছে যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গ্রিন টির চেয়েও বেশি উপকার দিতে পারে।

প্রুন জুস

প্রুন বা শুকনো বরইয়ের রস পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ একটি পানীয়। এতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, পটাশিয়াম ও খাদ্যআঁশ। এক কাপ প্রুন জুসে প্রায় ৭০৭ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকতে পারে, যা শরীরের সোডিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া এতে থাকা ফাইবার হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।

ব্যস্ত জীবনে সহজে পান করা যায় বলে অনেক বিশেষজ্ঞ প্রুন জুসকে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে একটি সুবিধাজনক বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করেন।

হিবিস্কাস চা

হিবিস্কাস বা জবা ফুলের চা গরম কিংবা ঠান্ডা - দুইভাবেই পান করা যায়। এই চায়ে থাকা পলিফেনল রক্তনালিকে শিথিল করতে সাহায্য করে, ফলে রক্তচাপ কমতে পারে। এছাড়া এটি এমন কিছু এনজাইমের কার্যক্রম কমাতে পারে, যা রক্তচাপ বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত।

গরমের দিনে বরফ ও কিছু ফল মিশিয়ে এটি পান করলে স্বাদ আরও বাড়তে পারে।

ডালিমের রস

ডালিমে রয়েছে পিউনিকালাজিন ও অ্যান্থোসায়ানিনের মতো শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এসব উপাদান রক্তনালির স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ডালিম খেলে সিস্টোলিক ও ডায়াস্টোলিক উভয় ধরনের রক্তচাপই কমতে পারে। তবে ডালিমের জুস বেছে নেওয়ার সময় অতিরিক্ত চিনি ছাড়া শতভাগ বিশুদ্ধ রস খাওয়াই ভালো।

বিটের রস

বিটরুট বা লাল বিট প্রাকৃতিক নাইট্রেটের অন্যতম ভালো উৎস। শরীরে এই নাইট্রেট নাইট্রিক অক্সাইডে রূপান্তরিত হয়, যা রক্তনালিকে প্রসারিত করে এবং রক্ত চলাচল সহজ করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন বিটের রস পান করলে উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের সিস্টোলিক রক্তচাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে।

বিটের স্বাদ অনেকের কাছে কিছুটা তীব্র মনে হতে পারে। তাই এটি আপেল, লেবু বা আদার রসের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে।

কমলার রস

কমলায় হেসপেরিডিন নামের একটি ফ্ল্যাভোনয়েড রয়েছে, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত।

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন কমলার রস পান করলে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের সিস্টোলিক রক্তচাপ ও পালস প্রেসার কমতে পারে।

তবে মনে রাখতে হবে, ফলের রসের তুলনায় পুরো ফল খাওয়া বেশি উপকারী। কারণ পুরো ফলে ফাইবার থাকে, যা রসে অনেকাংশে কমে যায়। তাই সকালে নাশতার সঙ্গে বা শরীরচর্চার পর অল্প পরিমাণ কমলার রস পান করা যেতে পারে।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আরও যা করবেন

শুধু পানীয় নয়, কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাসও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

নিয়মিত শরীরচর্চা করুন

দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো বা সাঁতার কাটা এক্ষেত্রে কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। এসব ব্যায়াম হৃদযন্ত্রকে শক্তিশালী করে এবং রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞরা সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ব্যায়ামের পরামর্শ দেন।

মানসিক চাপ কমান

অতিরিক্ত মানসিক চাপ দীর্ঘমেয়াদে রক্তচাপ বাড়াতে পারে। ধ্যান, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।

সোডিয়াম কমিয়ে পটাশিয়াম বাড়ান

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ফলমূল, শাকসবজি, ডাল ও বাদাম খান। এসব পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার বেশি খাওয়ার চেষ্টা করুন।

এছাড়া অতিরিক্ত লবণ, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং ফাস্ট ফুড কম খাওয়া উচিত যদি আপনি আপনার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কোনো কিছুই একমাত্র বিকল্প নয়। প্রুন জুস, হিবিস্কাস চা, ডালিমের রস, বিটের রস এবং কমলার রসও হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে কোনো পানীয়ই একা উচ্চ রক্তচাপের সমাধান নয়। সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জীবনযাপনই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

সূত্র: ইটিং ওয়েল