logo
Advertisement

রূপার গায়ে ৮০০ ও ৯২৫ লেখা থাকে কেন, জানুন আসল রহস্য

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
রূপার গায়ে ৮০০ ও ৯২৫ লেখা থাকে কেন, জানুন আসল রহস্য
ছবি: এশিয়া পোস্ট কোলাজ

রূপার গয়না কিংবা থালা-বাসন কেনার সময় গায়ে ছোট করে ৯২৫ বা ৮০০ খোদাই করা দেখেছেন নিশ্চয়ই? সহজ ভাষায়, এগুলো হলো রূপার হলমার্ক বা বিশুদ্ধতার মানদণ্ড। গয়নায় কতটা খাঁটি রূপা ব্যবহার করা হয়েছে, এই সংখ্যাগুলো মূলত সেটাই বুঝিয়ে দেয়।

বাংলাদেশে রূপার ব্যবহার এবং গয়না কেনার সময় কোন বিষয়গুলো খেয়াল রাখা দরকার, চলুন তা সহজ ভাষায় জেনে নেওয়া যাক।

৯২৫ এবং ৮০০ হলমার্ক বলতে কী বোঝায়

৮০০ (ইউরোপিয়ান বা কনটিনেন্টাল সিলভার): এই সংকেতের অর্থ হলো এতে ৮০ শতাংশ খাঁটি রূপা আছে এবং বাকি ২০ শতাংশ অন্যান্য ধাতু। রূপার চামচ, থালা-বাটি, অ্যান্টিক মুদ্রা বা ভারী সাজসজ্জার সামগ্রী তৈরিতে এই মানের রূপা বেশি ব্যবহৃত হয়।

৯২৫ (স্টার্লিং সিলভার): ৯২৫ লেখা থাকার অর্থ হলো ওই অলংকারে ৯২.৫ শতাংশ খাঁটি রূপা আছে এবং বাকি ৭.৫ শতাংশ অন্য ধাতু মিশ্রিত। সাধারণত তামা মিশিয়ে এটি তৈরি করা হয়। ১০০ শতাংশ বিশুদ্ধ রূপা অনেক নরম হওয়ায় তা দিয়ে সরাসরি শক্ত গয়না বানানো সম্ভব হয় না। তাই স্থায়িত্ব বাড়াতে তামার মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ৯২৫-কে রূপার গয়না তৈরির আদর্শ মান ধরা হয়।

বাংলাদেশে রূপার ক্যাটাগরি ও দাম নির্ধারণ

বাংলাদেশে সোনার পাশাপাশি রূপার বাজার দর নিয়মিত নির্ধারণ করে দেয় বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। বাজুস নির্ধারিত মান অনুযায়ী আমাদের দেশে রূপা মূলত ৪টি ক্যাটাগরিতে বিক্রি হয়-

  • ২২ ক্যারেট রূপা (হলমার্ক যুক্ত)
  • ২১ ক্যারেট রূপা
  • ১৮ ক্যারেট রূপা
  • সনাতন পদ্ধতির রূপা

সাধারণত প্রতি ভরি (১১.৬৬ গ্রাম) হলমার্ক যুক্ত ৯২৫ বা ২২ ক্যারেট রূপার দাম সনাতন পদ্ধতির রূপার চেয়ে কিছুটা বেশি হয়ে থাকে।

ঘরে বসেই খাঁটি রূপা চেনার ৪টি সহজ উপায়

পরীক্ষাগারে না গিয়েও কিছু সাধারণ উপায়ে রূপার আসল-নকল পরখ করে নেওয়া সম্ভব-

চুম্বক পরীক্ষা: খাঁটি রূপা কখনো চুম্বকে আকর্ষণ করে না। গয়নার কাছে একটি চুম্বক ধরলে তা যদি আটকে যায়, তবে বুঝবেন এতে লোহা বা অন্য কোনো ধাতুর পরিমাণ বেশি আছে।

সুতি কাপড়ের পরীক্ষা: একটি পরিষ্কার সাদা সুতি কাপড় দিয়ে রূপার গয়না কিছুক্ষণ ঘষুন। আসল রূপা বাতাসের সংস্পর্শে এসে কিছুটা অক্সিডাইজড হয়, যার ফলে কাপড়ে হালকা কালচে দাগ পড়ে।

বরফ পরীক্ষা: রূপা বেশ দ্রুত তাপ পরিবহন করে। বরফের টুকরোর ওপর রূপার অলংকার রাখলে বরফটি সাধারণ সময়ের চেয়ে অনেক দ্রুত গলতে শুরু করবে।

শব্দ পরীক্ষা: রূপার গয়না বা মুদ্রা ওপর থেকে শক্ত মেঝের ওপর ফেললে বেশ মিষ্টি ও পরিষ্কার ঝংকার শব্দ তৈরি হয়। খাদযুক্ত ধাতুর ক্ষেত্রে এই শব্দ ভোঁতা শোনায়।


রূপা কেনার আগে যা খেয়াল রাখবেন

প্রতারণা এড়াতে সবসময় রেজিস্টার্ড বা বিশ্বাসযোগ্য জুয়েলারি শপ থেকে রূপা কেনা উচিত এবং কেনাকাটার রশিদ সংগ্রহে রাখা প্রয়োজন। গয়নার গায়ে ৯২৫ বা অন্য কোনো হলমার্ক খোদাই করা আছে কিনা ভালো করে দেখে নিন।ব্যবসায়ীরা সাধারণত তাদের রূপার উৎস সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা দিয়ে থাকেন। পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার বা ইসলামপুরের মতো পরিচিত পাইকারি উৎস কিংবা আমদানিকৃত দুবাই সাপ্লাইয়ের কথা উল্লেখ করলে জুয়েলারি শপের পণ্যের নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়।

সূত্র: বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (BAJUS), সিলভার রেট ও ক্যাটাগরি গাইড