logo

ঘরোয়া উপায়েই টিকটিকি দূরে রাখুন

ঘরোয়া উপায়েই টিকটিকি দূরে রাখুন

গরমে ঘরে টিকটিকির উপদ্রব বাড়ে, এটা স্বাভাবিক। কারণ এই সময় পোকামাকড় বেশি থাকে, আর সেগুলোই টিকটিকির খাবার। তাই টিকটিকি তাড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় শুধু ভয় দেখানো নয়, বরং তাদের থাকার পরিবেশটাই বদলে দেওয়া।

চলুন আজ আমরা কিছু উপায় জেনে নিই যেগুলো টিকটিকি দূরে রাখতে কাজ করে, যেগুলো কাজ করে না আর যেগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো।

যেগুলো কিছুটা কাজ করতে পারে

পেঁয়াজ ও রসুনের গন্ধ: তীব্র গন্ধ অনেক সময় টিকটিকিকে দূরে রাখে। জানালা, ভেন্টিলেটর বা কোণায় পেঁয়াজ-রসুন রাখা যেতে পারে, বা হালকা স্প্রে ব্যবহার করা যেতে পারে।

গোলমরিচ বা মরিচের স্প্রে: গোলমরিচ বা লঙ্কার গুঁড়ো মিশ্রিত পানি স্প্রে করলে টিকটিকি ওই জায়গা এড়িয়ে চলতে পারে। তবে মানুষের চোখ বা ত্বকে লাগলে জ্বালা করতে পারে, তাই সাবধানে ব্যবহার করতে হবে।

ঠান্ডা পানি স্প্রে: হঠাৎ ঠান্ডা পানি দিলে টিকটিকি কিছু সময়ের জন্য ধীর হয়ে যায়। তখন সহজে বাইরে সরিয়ে দেওয়া যায়। এটি ক্ষতিকর নয়, তবে স্থায়ী সমাধানও নয়।

যেগুলো খুব নির্ভরযোগ্য নয় (বা ভুল ধারণা)

ময়ূরের পালক: বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয় যে টিকটিকি পালক দেখে ভয় পায়।

ডিমের খোসা: এটিও মূলত লোককথা। বাস্তবে খুব একটা কার্যকর প্রমাণ নেই।

যেগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো

কফি + তামাকের মিশ্রণ: এটি টিকটিকির জন্য বিষাক্ত হতে পারে, কিন্তু একই সঙ্গে শিশু বা পোষা প্রাণীর জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ।

ন্যাপথলিন: টিকটিকি কিছুটা দূরে থাকতে পারে, কিন্তু ন্যাপথলিনের গন্ধ ও রাসায়নিক মানুষের জন্যও ক্ষতিকর, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে।

সবচেয়ে কার্যকর সমাধান

পোকামাকড় কমান: টিকটিকি মূলত খাবারের খোঁজে আসে। ঘরে যদি পোকা না থাকে, তারা নিজে থেকেই কমে যাবে।

ঘর পরিষ্কার রাখুন: খাবারের উচ্ছিষ্ট, আবর্জনা বা অন্ধকার স্যাঁতসেঁতে জায়গা এড়িয়ে চলুন।

ফাটল ও ফাঁক বন্ধ করুন: দেওয়াল, জানালা বা দরজার ফাঁক দিয়ে টিকটিকি ঢোকে—এসব জায়গা সিল করে দিন।

আলো নিয়ন্ত্রণ করুন: রাতে অতিরিক্ত আলো পোকা আকর্ষণ করে—যত কম পোকা, তত কম টিকটিকি।

টিকটিকি তাড়াতে কোনো ম্যাজিক টিপসের চেয়ে বাস্তবসম্মত উপায় বেশি কার্যকর। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ এবং ঘরের ফাঁকফোকর বন্ধ রাখাই সবচেয়ে টেকসই সমাধান।

সূত্র: টিভি ৯