নিজের শরীর সম্পর্কে জেনে নিন ১০ চমকপ্রদ তথ্য

আমরা প্রতিদিন নিজের শরীর ব্যবহার করলেও এর অনেক বিস্ময়কর দিক সম্পর্কে জানি না। মানবদেহ এমন একটি জটিল ব্যবস্থা, যেখানে প্রতি মুহূর্তে অসংখ্য প্রক্রিয়া একসঙ্গে কাজ করে আমাদের বাঁচিয়ে রাখে। বিজ্ঞানীদের গবেষণায় এমন অনেক তথ্য উঠে এসেছে, যা শুধু চমকপ্রদই নয়, বরং শরীর কীভাবে কাজ করে তা বুঝতেও সাহায্য করে।
হৃদ্যন্ত্রের স্পন্দন থেকে শুরু করে মস্তিষ্কের কার্যক্রম, হাড়ের পুনর্গঠন, ত্বকের নবায়ন কিংবা কোষের অবিরাম কাজ, সবকিছুই নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকে। এসবের অনেকটাই আমাদের অজানা থেকে যায়।
চলুন জেনে নেওয়া যাক মানুষের শরীর সম্পর্কে এমনই ১০টি মজার, বিস্ময়কর ও বৈজ্ঞানিক তথ্য।
আপনার ত্বক সব সময় নতুন হচ্ছে
মানুষের ত্বক একটি জীবন্ত অঙ্গ। প্রতিনিয়ত পুরোনো কোষ ঝরে পড়ে এবং নতুন কোষ তৈরি হয়। সাধারণত ৩ থেকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে ত্বকের বাইরের স্তর নতুন কোষ দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়। এ কারণেই শরীর নিয়মিত নিজেকে নবায়ন করতে পারে।
মস্তিষ্ক শরীরের সবচেয়ে বেশি শক্তি ব্যবহারকারী অঙ্গগুলোর একটি
মস্তিষ্কের ওজন শরীরের মোট ওজনের মাত্র ২ শতাংশের মতো হলেও এটি শরীরের মোট শক্তির প্রায় ২০ শতাংশ ব্যবহার করে। চিন্তা করা, স্মৃতিশক্তি, শেখা এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ নিয়ন্ত্রণের জন্য এই শক্তি প্রয়োজন হয়।
মানুষের শরীরে ২০৬টি হাড় থাকে
একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের শরীরে সাধারণত ২০৬টি হাড় থাকে। তবে জন্মের সময় একটি শিশুর শরীরে প্রায় ২৭০টিরও বেশি হাড় থাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু হাড় একত্রে জোড়া লেগে যায়, তাই প্রাপ্তবয়স্কদের হাড়ের সংখ্যা কমে যায়।
হৃদ্যন্ত্র কখনও বিশ্রাম নেয় না
হৃদ্যন্ত্র দিন-রাত নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে। একজন সুস্থ মানুষের হৃদ্যন্ত্র দিনে প্রায় এক লাখ বার স্পন্দিত হয় এবং সারা শরীরে রক্ত পৌঁছে দেয়।
হাড় দেখতে শক্ত হলেও সব সময় পরিবর্তিত হয়
অনেকেই মনে করেন হাড় একবার তৈরি হলে আর বদলায় না। বাস্তবে হাড় একটি জীবন্ত টিস্যু। পুরোনো হাড়ের অংশ ভেঙে নতুন হাড় তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়া সারা জীবন চলতে থাকে। এ কারণেই ভাঙা হাড়ও অনেক ক্ষেত্রে জোড়া লাগতে পারে।
নাক হাজার হাজার গন্ধ আলাদা করে চিনতে পারে
মানুষের ঘ্রাণশক্তি অনেক বেশি উন্নত। গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের নাক অসংখ্য ভিন্ন ধরনের গন্ধ শনাক্ত ও মনে রাখতে সক্ষম। এ কারণে বহু বছর পরও কোনো পরিচিত গন্ধ পুরোনো স্মৃতি মনে করিয়ে দিতে পারে।
পাকস্থলী নিজেকে নিজেই রক্ষা করে
পাকস্থলীতে থাকা অ্যাসিড খাবার হজম করার জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী। কিন্তু সেই অ্যাসিড যাতে পাকস্থলীর ক্ষতি না করে, সে জন্য পাকস্থলীর ভেতরের আবরণ নিয়মিত নতুন করে তৈরি হয়।
শরীরে কোটি কোটি জীবাণু বাস করে
আমাদের শরীরে থাকা কোষের পাশাপাশি অসংখ্য ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও অন্যান্য অণুজীবও বসবাস করে। এদের অনেকেই উপকারী। বিশেষ করে অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া খাবার হজম, ভিটামিন তৈরি এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শরীরে সবচেয়ে ছোট হাড়টি কানে
মানুষের শরীরের সবচেয়ে ছোট হাড়টির নাম স্টেপিস। এটি মধ্যকর্ণে থাকে এবং শব্দ শোনার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর দৈর্ঘ্য মাত্র কয়েক মিলিমিটার।
যকৃত নিজেকে পুনর্গঠন করতে পারে
যকৃত মানুষের শরীরের অন্যতম বিশেষ অঙ্গ। এর একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অবশিষ্ট সুস্থ অংশ থেকে নতুন কোষ তৈরি হয়ে অনেক ক্ষেত্রে যকৃত আবার স্বাভাবিক আকার ও কার্যক্ষমতা ফিরে পেতে পারে। তবে দীর্ঘদিনের গুরুতর ক্ষতি বা সিরোসিসের ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা সীমিত হয়ে যায়।
কেন মানবদেহ এত বিস্ময়কর?
মানবদেহে প্রায় ৩৭ ট্রিলিয়ন কোষ একসঙ্গে কাজ করে। শ্বাস-প্রশ্বাস, রক্ত সঞ্চালন, হজম, রোগ প্রতিরোধ, চিন্তা এবং চলাফেরার মতো অসংখ্য কাজ প্রতিটি মুহূর্তে সমন্বিতভাবে সম্পন্ন হয়। এই জটিল সমন্বয়ই মানুষের শরীরকে প্রকৃতির অন্যতম বিস্ময়কর সৃষ্টি করে তুলেছে।
আমাদের শরীর সম্পর্কে যত জানবেন, ততই নতুন নতুন বিস্ময়ের মুখোমুখি হবেন। তাই সুস্থ থাকতে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম সম্পর্কে সচেতন থাকা, সুষম খাবার খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিজের শরীরকে যত ভালোভাবে বুঝবেন, সুস্থ জীবনযাপনও তত সহজ হবে।
সূত্র: এই সময় অনলাইন
