logo

আজ জাতীয় কুমড়া দিবস, জানুন কুমড়া নিয়ে মজার তথ্য

আজ জাতীয় কুমড়া দিবস, জানুন কুমড়া নিয়ে মজার তথ্য
ছবি: সিসেমি স্প্রিংকেলস

মিষ্টি কুমড়া আমাদের পরিচিত একটি সবজি। বাংলাদেশের প্রায় সব এলাকাতেই এই সবজি পাওয়া যায়। ভাজি, ভর্তা, ডাল কিংবা মাছের সঙ্গে রান্না করে কুমড়া খাওয়া হয়। মিষ্টি স্বাদের এই সবজি দিয়ে তৈরি করা যায় নানা ধরনের খাবারও। তবে কুমড়া শুধু রান্নার উপকরণ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এটি উৎসব, ঐতিহ্য ও আনন্দেরও অংশ।

প্রতি বছর ২৬ অক্টোবর পালিত হয় জাতীয় কুমড়া দিবস বা ন্যাশনাল পাম্পকিন ডে। দিনটি মূলত কুমড়ার নানা ব্যবহার, পুষ্টিগুণ ও জনপ্রিয়তা তুলে ধরার উপলক্ষ। বিশেষ করে শরৎকালীন উৎসব ও হ্যালোইন উদ্‌যাপনে কুমড়ার বিশেষ ভূমিকা আছে। কুমড়া দিয়ে তৈরি সাজসজ্জা থেকে শুরু করে সুস্বাদু খাবার, সবকিছুই এই সবজিকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ বাড়ায়।

চলুন, জাতীয় কুমড়া দিবসের ইতিহাস, কোন কোন দেশে দিনটি পালিত হয়, কুমড়ার পুষ্টিগুণ এবং এই সবজি নিয়ে কিছু মজার তথ্য জেনে নেওয়া যাক।

জাতীয় কুমড়া দিবসের ইতিহাস

জাতীয় কুমড়া দিবসের সূচনা ঠিক কবে এবং কীভাবে হয়েছিল, সে সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য খুব বেশি পাওয়া যায় না। তবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর ২৬ অক্টোবর দিনটি পালন করা হয়। কুমড়ার নানা ব্যবহার, খাবার এবং শরৎকালীন ঐতিহ্যের সঙ্গে এই দিবসের সম্পর্ক রয়েছে।

কুমড়ার সঙ্গে শরৎকালীন উৎসবের সম্পর্ক বহু পুরোনো। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে থ্যাংকসগিভিং উৎসবে কুমড়ার পাই বেশ জনপ্রিয়। এই মিষ্টি খাবারটি সাধারণত কুমড়ার শাঁস, দুধ, ডিম, চিনি ও বিভিন্ন মসলা দিয়ে তৈরি করা হয়।

অন্যদিকে, ৩১ অক্টোবর হ্যালোইন উৎসবেও কুমড়ার ব্যাপক ব্যবহার দেখা যায়। এ সময় কুমড়ার গায়ে চোখ, নাক ও মুখের নকশা কেটে ভেতরে আলো জ্বালানো হয়। এই সাজানো কুমড়াকে বলা হয় জ্যাক-ও-ল্যান্টার্ন।

এই প্রথার সঙ্গে আয়ারল্যান্ডের পুরোনো লোককথার সম্পর্ক আছে। একসময় সেখানে কুমড়ার পরিবর্তে শালগমের মতো সবজি কেটে সাজানো হতো। পরে যুক্তরাষ্ট্রে কুমড়া সহজলভ্য হওয়ায় এটি হ্যালোইন সাজসজ্জার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।

যেসব দেশে জাতীয় কুমড়া দিবস পালিত হয়

জাতীয় কুমড়া দিবস মূলত যুক্তরাষ্ট্রে পরিচিত। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দিবসের তালিকায় কানাডা ও যুক্তরাজ্যেও ২৬ অক্টোবর দিনটি পালনের উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে সব দেশে দিবসটি একইভাবে বা একই মাত্রায় পালিত হয় না।

যুক্তরাষ্ট্রে কুমড়া শরৎকালীন খাবার ও সাজসজ্জার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হ্যালোইন উপলক্ষে কুমড়ার গায়ে নানা নকশা কেটে সাজানোর পাশাপাশি কুমড়ার পাই, স্যুপ ও অন্যান্য খাবার তৈরি করা হয়।

কানাডাতেও শরৎকালীন উৎসব ও হ্যালোইন উদ্‌যাপনে কুমড়ার ব্যবহার বেশ পরিচিত। বিভিন্ন খামার ও বাজারে কুমড়া প্রদর্শন, কুমড়া বাছাই এবং কুমড়ার তৈরি খাবারের আয়োজন দেখা যায়।

যুক্তরাজ্যেও হ্যালোইন উপলক্ষে কুমড়া কেটে সাজানোর প্রচলন রয়েছে। শরৎকালে বিভিন্ন বাজার ও খামারে কুমড়ার প্রদর্শনী এবং কুমড়া সংগ্রহের আয়োজন করা হয়।

তবে একটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন, জাতীয় কুমড়া দিবস এসব দেশে সরকারি জাতীয় ছুটির দিন নয়। এটি মূলত একটি বিশেষ খাবার ও ফলকে কেন্দ্র করে পালিত দিবস। বাংলাদেশেও ২৬ অক্টোবর কুমড়ার নতুন রেসিপি তৈরি কিংবা এর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানার মাধ্যমে দিনটি উদ্‌যাপন করা যেতে পারে।

কুমড়ার পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা

কুমড়া শুধু স্বাদেই ভালো নয়, পুষ্টিগুণের দিক থেকেও বেশ উপকারী। এতে রয়েছে বিভিন্ন ভিটামিন, খনিজ উপাদান, খাদ্যআঁশ ও পানি। নিয়মিত সুষম খাবারের অংশ হিসেবে কুমড়া খেলে শরীর প্রয়োজনীয় কিছু পুষ্টি উপাদান পেতে পারে।

চোখের স্বাস্থ্যে সহায়ক: মিষ্টি কুমড়ায় বিটা-ক্যারোটিন থাকে। শরীর এই উপাদানকে ভিটামিন এ তৈরিতে ব্যবহার করে। ভিটামিন এ স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে। তাই চোখের স্বাস্থ্যের জন্য কুমড়া উপকারী খাবার হতে পারে।

রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রমে সাহায্য করে: কুমড়ায় ভিটামিন এ ও ভিটামিন সি রয়েছে। এসব পুষ্টি উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। তবে শুধু কুমড়া খেলেই সব ধরনের রোগ থেকে সুরক্ষিত থাকা যায় না।

হজমে সহায়তা করে: কুমড়ায় থাকা খাদ্যআঁশ অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত পানি পান ও অন্যান্য আঁশযুক্ত খাবারের সঙ্গে কুমড়া খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধেও সহায়তা হতে পারে।

কম ক্যালরির খাবার: কুমড়ায় পানির পরিমাণ বেশি এবং ক্যালরি তুলনামূলক কম। তাই পরিমিত পরিমাণে কুমড়া খেলে পেট ভরা রাখতে সাহায্য করতে পারে। তবে রান্নায় অতিরিক্ত তেল, চিনি বা ঘি ব্যবহার করলে খাবারের মোট ক্যালরি বেড়ে যায়।

শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান সরবরাহ করে: কুমড়ায় পটাশিয়ামসহ কিছু প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান থাকে। পটাশিয়াম পেশির স্বাভাবিক কাজ এবং শরীরের তরল ভারসাম্য বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে।

কুমড়া নিয়ে মজার ৭টি তথ্য

কুমড়া আসলে ফল

রান্নায় কুমড়াকে সবজি হিসেবে ব্যবহার করা হলেও উদ্ভিদবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি ফল। কারণ ফুলের গর্ভাশয় থেকে কুমড়া তৈরি হয় এবং এর ভেতরে বীজ থাকে। তবে খাবারের শ্রেণিবিভাগে কুমড়াকে সাধারণত সবজি হিসেবেই ধরা হয়।

কুমড়ার বীজও খাওয়া যায়

কুমড়ার ভেতরের বীজ ফেলে না দিয়ে পরিষ্কার করে শুকিয়ে বা ভেজে খাওয়া যায়। এতে প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান পাওয়া যায়। তবে লবণ ও তেল কম ব্যবহার করাই ভালো।

অ্যান্টার্কটিকা ছাড়া প্রায় সব মহাদেশেই কুমড়া জন্মে

কুমড়া বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চাষ করা হয়। উষ্ণ ও অনুকূল আবহাওয়ায় এই গাছ ভালো জন্মায়। তবে জাত ও পরিবেশের ওপর নির্ভর করে কুমড়া চাষের উপযোগিতা বদলে যায়।

কুমড়ার ওজন কয়েকশ কেজিও হতে পারে

সাধারণ কুমড়া সহজেই হাতে বহন করা যায়। কিন্তু বিশেষ জাতের কুমড়া প্রতিযোগিতার জন্য বিশাল আকারে চাষ করা হয়। এসব কুমড়ার ওজন কয়েকশ কেজি ছাড়িয়ে যেতে পারে। বিশ্বে এক টনেরও বেশি ওজনের কুমড়া উৎপাদনের রেকর্ড রয়েছে।

কুমড়ার ফুলও খাওয়া যায়

কুমড়ার শুধু ফল নয়, এর ফুলও কিছু দেশের রান্নায় ব্যবহার করা হয়। ফুল দিয়ে ভাজা, পুর ভরা খাবার ও সালাদ তৈরি করা যায়। তবে ফুল সংগ্রহের ক্ষেত্রে গাছের পরাগায়ন ও ফল ধরার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

হ্যালোইনের কুমড়া একসময় ছিল শালগম

আয়ারল্যান্ডে হ্যালোইনের সময় শালগমের মতো সবজি কেটে মুখের নকশা তৈরির প্রথা ছিল। পরে যুক্তরাষ্ট্রে কুমড়ার ব্যবহার শুরু হয়। কুমড়ার ভেতরটা ফাঁপা করা এবং নকশা কাটা তুলনামূলক সহজ হওয়ায় এটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

সব কুমড়ার রং কমলা নয়

কুমড়া মানেই কমলা, এমন ধারণা সঠিক নয়। জাতভেদে কুমড়ার রং সবুজ, হলুদ, সাদা কিংবা লালচে হতে পারে। আকার ও স্বাদেও বিভিন্ন জাতের মধ্যে পার্থক্য দেখা যায়।

কুমড়া আমাদের প্রতিদিনের খাবারের পরিচিত একটি উপাদান হলেও এর পুষ্টিগুণ, ইতিহাস ও বৈচিত্র্য সম্পর্কে অনেকেরই জানা নেই। এই সবজি দিয়ে যেমন সুস্বাদু খাবার তৈরি করা যায়, তেমনি এর বীজও পুষ্টিকর খাবার হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কুমড়াকে ঘিরে রয়েছে নানা উৎসব ও ঐতিহ্য।

জাতীয় কুমড়া দিবস তাই শুধু একটি সবজিকে উদ্‌যাপনের দিন নয়, বরং পরিচিত খাবারের পুষ্টিগুণ ও বহুমুখী ব্যবহার সম্পর্কে জানারও একটি উপলক্ষ। এই দিনে কুমড়া দিয়ে নতুন কোনো খাবার তৈরি করতে পারেন কিংবা পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারেন কুমড়া নিয়ে জানা মজার তথ্যগুলো।