logo

শীতকালে টক দই খেলে কি সর্দি-কাশি হয়

শীতকালে টক দই খেলে কি সর্দি-কাশি হয়
ছবি: টিভি৯ বাংলা

অনেকেই মনে করেন শীতে টকদই খেলে ঠান্ডা লাগতে পারে বা সর্দি-কাশি বাড়তে পারে। তাই শীত এলেই অনেকে খাবারের তালিকা থেকে টক দই বাদ দিয়ে দেন। বিশেষ করে যাদের সহজেই ঠান্ডা লাগে, তারা এই সময়ে দই খাওয়া এড়িয়ে চলেন। কিন্তু সত্যিই কি শীতকালে টক দই খেলে সর্দি-কাশি হয়? নাকি এটি একটি প্রচলিত ভুল ধারণা?

পুষ্টিবিদদের মতে, শীতকালে দই খাওয়ার ক্ষেত্রে সবার জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য না। দইয়ের পুষ্টিগুণ শরীরের জন্য বেশ উপকারী। এতে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও উপকারী ব্যাকটেরিয়া আছে, যা হজমশক্তি ভালো রাখতে ও অন্ত্রের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। তাই শীতের কারণে অকারণে দই খাওয়া বন্ধ করার দরকার নেই।

শীতকালে দই খেলে কি ঠান্ডা লাগে?

চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সাধারণত সর্দি-কাশির মূলে থাকে বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস। দই খাওয়ার কারণে সরাসরি সর্দি বা কাশি হয়, এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বরং দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক বা উপকারী ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। আর অন্ত্রের সঙ্গে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে।

তবে সবার শরীরের প্রতিক্রিয়া এক রকম না। কারও কারও দই খাওয়ার পর গলায় শ্লেষ্মা জমার মতো অনুভূতি হতে পারে। আবার আগে থেকেই গলাব্যথা, কাশি বা অ্যালার্জির সমস্যা থাকলে ঠান্ডা দই খেয়ে অস্বস্তি বাড়তে পারে। তাই নিজের শরীরের সহ্যক্ষমতা বুঝে দই খাওয়া উচিত।

শীতকালে টক দই খাওয়ার উপকারিতা কী?

শীতকালে নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে টক দই খেলে শরীর বেশ কিছু পুষ্টি উপাদান পেতে পারে। এর উল্লেখযোগ্য উপকারিতাগুলো হলো-

হজমশক্তি ভালো রাখে

টক দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে আর পেটের অস্বস্তি কমাতে এটি সহায়ক হতে পারে।

রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো রাখতে সাহায্য করে

দইয়ের উপকারী ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভূমিকা রাখে। আর শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ অন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত। এ কারণে সুষম খাবারের অংশ হিসেবে দই খাওয়া আপনার জন্য ভালো হতে পারে।

হাড় ও দাঁত মজবুত রাখতে সাহায্য করে

দই ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের ভালো উৎস। এই দুটি খনিজ উপাদান হাড় ও দাঁতের গঠন ও সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শরীরে প্রোটিনের চাহিদা পূরণে সহায়ক

দইয়ে ভালো মানের প্রোটিন থাকে। এটি পেশি গঠন ও শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রোটিনের উৎস হিসেবে দই রাখা যেতে পারে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে

দইয়ে থাকা প্রোটিন দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। ফলে বারবার ক্ষুধা লাগা বা অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে। তবে ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য চিনি ছাড়া সাধারণ টক দই বেছে নেওয়া ভালো।

শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ সরবরাহ করে

দইয়ে ভিটামিন বি১২, বি২, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়ামসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান থাকে। এগুলো শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়তা করে।

শীতকালে কীভাবে টক দই খাবেন?

শীতকালে দই খাওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখতে পারেন। যেমন-

• ফ্রিজ থেকে বের করেই একেবারে ঠান্ডা দই খাবেন না। কিছুক্ষণ স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রেখে খেতে পারেন।

• দুপুরের খাবারের সঙ্গে টক দই খাওয়া একটি ভালো অভ্যাস হতে পারে।

• খিচুড়ি, ভাত বা পরোটার সঙ্গে অল্প পরিমাণে দই খেতে পারেন।

• দইয়ের পুষ্টিগুণ পেতে অতিরিক্ত চিনি মেশাবেন না।

• সব সময় ফ্রেশ ও পরিষ্কারভাবে সংরক্ষিত দই খাওয়ার চেষ্টা করুন।

রাতে টক দই খাওয়া কি ক্ষতিকর?

শীতকালে রাতে দই খাওয়া নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন আছে। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, রাতে দই খেলে কফ বা শ্লেষ্মা বেড়ে যায়। তবে রাতে দই খেলেই শ্লেষ্মা তৈরি হয় বা সর্দি-কাশি বাড়ে, এমন দাবির পক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

যাদের হজমে সমস্যা নেই বা দই খেলে অস্বস্তি হয় না, তারা চাইলে রাতেও দই খেতে পারেন। তবে যাদের দই খাওয়ার পর গলায় অস্বস্তি, কাশি বা হজমের সমস্যা হয়, তাদের এটি এড়িয়ে চলা ভালো।

কারা টক দই খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকবেন?

যাদের দুধ বা দুগ্ধজাত খাবারে অ্যালার্জি আছে, তাদের দই খাওয়ার আগে সতর্ক থাকতে হবে। ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স থাকলে কারও কারও দই খাওয়ার পর পেট ফাঁপা, গ্যাস বা ডায়রিয়া হতে পারে।

এ ছাড়া যাদের আগে থেকেই গলাব্যথা বা কাশি আছে, তারা দই খাওয়ার পর শরীরের প্রতিক্রিয়া লক্ষ করুন। কোনো খাবার খেলে নিয়মিত অস্বস্তি হলে সেটি এড়িয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

তাহলে কি শীতকালে দই খাওয়া বন্ধ করবেন?

শীতকালে টক দই খাওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। বরং পরিমিত পরিমাণে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখা দই খেলে এর পুষ্টিগুণ পাওয়া সম্ভব। দই সরাসরি সর্দি-কাশি সৃষ্টি করে না। তবে ব্যক্তিভেদে এর প্রতিক্রিয়া আলাদা হতে পারে। তাই প্রচলিত ধারণার ওপর নির্ভর না করে নিজের শরীরের প্রয়োজন ও সহ্যক্ষমতা বুঝে শীতের খাদ্যতালিকায় টক দই রাখতে পারেন।

তথ্যসূত্র: Healthians , TV9 Bangla