logo

দিনে দুইবার ব্রাশ করেও মুখে দুর্গন্ধ, সমাধান মিলতে পারে ৬ উপায়ে

দিনে দুইবার ব্রাশ করেও মুখে দুর্গন্ধ, সমাধান মিলতে পারে ৬ উপায়ে
ছবি : সংগৃহীত

মুখে দুর্গন্ধ বা হ্যালিটোসিস (Halitosis) এমন একটি সমস্যা যা প্রায় সবাই জীবনের কোনো না কোনো সময়ে অনুভব করে। কিন্তু যখন এটি নিয়মিত হয়ে যায়, বিশেষ করে দিনে দুইবার দাঁত ব্রাশ করার পরও যদি মুখ থেকে দুর্গন্ধ আসে, তখন বিষয়টি শুধু অস্বস্তিকরই নয়, বরং আত্মবিশ্বাসেও প্রভাব ফেলে। অনেকেই এই সমস্যার কারণে কথা বলার সময়, কাছাকাছি বসার সময় বা সামাজিক পরিস্থিতিতে অস্বস্তি অনুভব করেন এবং মনে মনে উদ্বিগ্ন থাকেন অন্যরা গন্ধ টের পাচ্ছে কি না।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, মুখের দুর্গন্ধ সবসময় শুধু দাঁতের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবের কারণে হয় না। এর পেছনে থাকতে পারে জিবে ব্যাকটেরিয়া জমে থাকা, মুখের শুষ্কতা, দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা খাবার, মাড়ির রোগ কিংবা কিছু ক্ষেত্রে হজমজনিত সমস্যাও। এমনকি ধূমপান, কিছু খাবার এবং পানিশূন্যতাও এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

ভালো খবর হলো, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণযোগ্য এবং জীবনযাপনের কিছু সহজ পরিবর্তনের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। নিচে মুখে দুর্গন্ধ হওয়ার বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত কারণ এবং কার্যকর সমাধানগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।

মুখে দুর্গন্ধ হওয়ার প্রধান কারণ

জিবে ব্যাকটেরিয়া জমা হওয়া: মুখের দুর্গন্ধের অন্যতম প্রধান কারণ হলো জিবের ওপর ব্যাকটেরিয়া ও ডেড সেল জমে থাকা। শুধু দাঁত ব্রাশ করলে এটি পরিষ্কার হয় না।

শুষ্কতা (Dry mouth): লালা বা স্যালাইভা মুখ পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত লালা না থাকলে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বৃদ্ধি পায়, ফলে দুর্গন্ধ হয়।

দাঁতের ফাঁকে খাবার আটকে থাকা: দাঁতের মাঝে আটকে থাকা খাবার পচে গিয়ে সালফার যৌগ তৈরি করে, যা দুর্গন্ধের প্রধান উৎস।

মাড়ির রোগ (Gingivitis/Periodontitis): মাড়ির ইনফেকশন বা প্রদাহ থাকলে দীর্ঘস্থায়ী দুর্গন্ধ হতে পারে, যা সাধারণ ব্রাশিংয়ে ঠিক হয় না।

খাবার ও জীবনযাপন অভ্যাস: পেঁয়াজ, রসুন, কফি, ধূমপান ও অ্যালকোহল মুখের দুর্গন্ধ বাড়াতে পারে।

হজমজনিত সমস্যা (কিছু ক্ষেত্রে): অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা বদহজম থাকলে মুখে দুর্গন্ধ অনুভূত হতে পারে, তবে এটি তুলনামূলক কম সাধারণ কারণ।

মুখের দুর্গন্ধ দূর করার ৬টি কার্যকর উপায়

জিব পরিষ্কার করা (Tongue cleaning): প্রতিদিন টাং ক্লিনার ব্যবহার করুন। এটি ব্যাকটেরিয়া ও সালফার যৌগ কমাতে সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি।

সঠিকভাবে ফ্লসিং করা: ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করে দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা খাবার পরিষ্কার করুন। এটি ব্রাশের চেয়ে বেশি কার্যকর হতে পারে আন্তঃদাঁত পরিষ্কারে।

পর্যাপ্ত পানি পান করা: দিনে পর্যাপ্ত পানি পান করলে মুখ শুষ্ক হয় না এবং লালা উৎপাদন ঠিক থাকে, যা ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

অ্যান্টিসেপটিক বা অ্যালকোহল-ফ্রি মাউথওয়াশ ব্যবহার: ক্লোরহেক্সিডিন বা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল মাউথওয়াশ ব্যাকটেরিয়া কমাতে সাহায্য করে। তবে দীর্ঘদিন ব্যবহারের আগে ডেন্টিস্টের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

ডায়েট নিয়ন্ত্রণ করা: রসুন, পেঁয়াজ, অতিরিক্ত কফি এবং চিনি কমানো মুখের দুর্গন্ধ কমাতে সহায়ক।

নিয়মিত ডেন্টাল চেকআপ: মাড়ির রোগ বা দাঁতের ক্যাভিটি থাকলে তা নিজে থেকে ভালো হয় না। তাই বছরে অন্তত ১–২ বার ডেন্টিস্ট দেখানো জরুরি।

আরও কিছু টিপস

  • খাবারের পর কুলি করার অভ্যাস করুন
  • রাতে ঘুমানোর আগে অবশ্যই ব্রাশ ও ফ্লস করুন
  • চিনি-যুক্ত চুইংগামের পরিবর্তে সুগার-ফ্রি চুইংগাম ব্যবহার করতে পারেন
  • ধূমপান এড়িয়ে চলুন
  • নাক-কান-গলার দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা থাকলে চিকিৎসা নিন

কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?

যদি নিয়মিত যত্ন নেওয়ার পরও দুর্গন্ধ না কমে, তাহলে এটি মাড়ির রোগ, দাঁতের গভীর সংক্রমণ ও গ্যাস্ট্রিক বা রিফ্লাক্স সমস্যা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ডেন্টিস্ট বা মেডিকেল বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

মুখের দুর্গন্ধ সাধারণ হলেও এটি অবহেলা করা উচিত নয়। সঠিক ওরাল হাইজিন, জিহ্বা পরিষ্কার, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত ডেন্টাল কেয়ার অনুসরণ করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস