Advertisement

মাঝরাতে হঠাৎ পায়ে টান, জেনে নিন কারণ ও মুক্তির উপায়

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
মাঝরাতে হঠাৎ পায়ে টান, জেনে নিন কারণ ও মুক্তির উপায়
ছবি : সংগৃহীত

গভীর ঘুমের মধ্যে হঠাৎ পায়ের পেশিতে তীব্র টান বা ক্র্যাম্প ধরা একটি খুব সাধারণ কিন্তু অত্যন্ত কষ্টদায়ক সমস্যা। অনেকেই মাঝরাতে এ ধরনের ব্যথায় ঘুম ভেঙে যান এবং কিছুক্ষণ পা নাড়ানোও কঠিন হয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত পানিশূন্যতা, খনিজের ঘাটতি বা পেশির অতিরিক্ত চাপের কারণে এই সমস্যা দেখা দেয়।

কেন পায়ে টান ধরে?

মাঝরাতে পায়ের পেশিতে ক্র্যাম্প হওয়ার পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ রয়েছে।

পানিশূন্যতা (ডিহাইড্রেশন): শরীরে পর্যাপ্ত পানি না থাকলে পেশির স্বাভাবিক সংকোচন ও প্রসারণ ব্যাহত হয়, ফলে টান ধরে যেতে পারে।

খনিজের ঘাটতি: ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পেশির সঠিক কাজের জন্য অপরিহার্য। এদের ঘাটতি হলে ক্র্যাম্পের ঝুঁকি বাড়ে।

রক্ত চলাচল কমে যাওয়া: ঘুমের সময় শরীরের নিচের অংশে রক্তপ্রবাহ কিছুটা কমে যেতে পারে, ফলে পেশিতে অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ ব্যাহত হয়।

দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা বা অতিরিক্ত চাপ: যারা সারাদিন দাঁড়িয়ে কাজ করেন বা অতিরিক্ত হাঁটাচলা করেন, তাদের পায়ের পেশিতে ক্লান্তি জমে গিয়ে রাতে টান ধরতে পারে।

গর্ভাবস্থা ও হরমোন পরিবর্তন: অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ক্ষেত্রে ওজন ও হরমোন পরিবর্তনের কারণে পেশিতে ক্র্যাম্প হওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।

টান ধরলে কী করবেন?

হঠাৎ পায়ে টান ধরলে আতঙ্কিত না হয়ে কিছু সহজ পদক্ষেপ নিলে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়—

  • আক্রান্ত পেশিতে হালকা হাতে মালিশ করুন
  • ধীরে ধীরে পা স্ট্রেচ করুন
  • হাঁটুর দিক থেকে পা সোজা করে টান কমানোর চেষ্টা করুন
  • রক্ত চলাচল বাড়াতে হালকা নড়াচড়া করুন

অনেক সময় গরম সেঁক পেশিকে শিথিল করতে সাহায্য করে, আবার কিছু ক্ষেত্রে *ঠান্ডা সেঁক* ব্যথা কমাতে কার্যকর হতে পারে।

প্রতিরোধের উপায়

এই সমস্যা ঘন ঘন হলে কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করলে উপকার পাওয়া যায়-

  • পর্যাপ্ত পানি পান করুন
  • ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খান
  • নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করুন
  • দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা এড়িয়ে চলুন
  • ঘুমের আগে হালকা স্ট্রেচিং করুন

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

যদি এই সমস্যা নিয়মিত হয় বা খুব তীব্রভাবে দেখা দেয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা করে খনিজের ঘাটতি আছে কি না, তা যাচাই করা যেতে পারে।

সঠিক যত্ন ও সচেতনতার মাধ্যমে মাঝরাতে পায়ে টান ধরা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। শরীরের ছোট সংকেতগুলোকে অবহেলা না করাই সুস্থ থাকার প্রথম শর্ত।

সূত্র: টিভি ৯