logo
Advertisement

করলা বা উচ্ছে খাওয়ার আগে জানুন, কখন উপকার আর কখন ক্ষতি

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
করলা বা উচ্ছে খাওয়ার আগে জানুন, কখন উপকার আর কখন ক্ষতি
ছবি : সংগৃহীত

করলা বা উচ্ছে হলো ভিটামিন সি এবং অন্যান্য পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ একটি সবজি। এতে এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদানও থাকে, যেগুলো শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

Advertisement

করলা, যাকে ইংরেজিতে Bitter gourd এবং বৈজ্ঞানিকভাবে Momordica charantia বলা হয়, একটি উষ্ণ অঞ্চলের লতা জাতীয় উদ্ভিদ। এটি কুমড়া পরিবারের অন্তর্ভুক্ত এবং জুকিনি, স্কোয়াশ, কুমড়া ও শসার সঙ্গে এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই গাছের ফল খাদ্য হিসেবে চাষ করা হয়। বিশেষ করে এশিয়ার অনেক দেশের রান্নায় করলা একটি সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

চীনা জাতের করলা সাধারণত লম্বা, হালকা সবুজ রঙের এবং এর গায়ে ছোট ছোট গর্তের মতো উঁচু দাগ থাকে। অন্যদিকে ভারতীয় জাতের করলা তুলনামূলকভাবে সরু, দুই প্রান্ত সূচালো এবং খোসা কিছুটা বেশি খসখসে ও কাঁটাযুক্ত হয়ে থাকে।

তীব্র তেতো স্বাদ এবং আলাদা ধরনের গঠনের জন্য করলা সহজেই চেনা যায়। শুধু স্বাদের কারণে নয়, বরং সম্ভাব্য স্বাস্থ্য উপকারিতার কারণেও করলা বিভিন্ন দেশে বিশেষ গুরুত্ব পেয়ে থাকে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ বা দ্রুত ওজন কমানোর উদ্দেশ্যে অনেকেই প্রতিদিন করলা বা উচ্ছের রস খান, আবার কেউ কেউ রান্না করে খেতে পছন্দ করেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, উপকারী এই সবজিটিও অতিরিক্ত খেলে শরীরের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।

করলা বা উচ্ছে পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ একটি সবজি। এতে থাকা কিছু সক্রিয় উপাদান রক্তে শর্করা কমাতে সাহায্য করে এবং বিপাকক্রিয়া উন্নত করতে ভূমিকা রাখে। কিন্তু প্রয়োজনের বেশি খেলে এই উপকারই উল্টো সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

রক্তে শর্করা অতিরিক্ত কমে যাওয়ার ঝুঁকি

করলার অন্যতম পরিচিত প্রভাব হলো রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমানো। কিন্তু ডায়াবেটিসের ওষুধের সঙ্গে নিয়মিত বেশি পরিমাণ করলার রস খেলে রক্তে শর্করা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক নিচে নেমে যেতে পারে।

এর ফলে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, ঘাম হওয়া, কাঁপুনি, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া এবং গুরুতর ক্ষেত্রে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

হজমের সমস্যা ও ডায়রিয়া

করলায় প্রচুর ফাইবার থাকে, যা স্বাভাবিক পরিমাণে হজমে সাহায্য করে। কিন্তু অতিরিক্ত খেলে এটি পেটের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। এর ফলে পেট ব্যথা, গ্যাস, বদহজম এবং পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে যাদের হজমশক্তি সংবেদনশীল।

লিভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ

করলায় থাকা কিছু প্রাকৃতিক যৌগ অতিরিক্ত গ্রহণে শরীরের এনজাইম কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে লিভারে চাপ তৈরি হতে পারে বলে চিকিৎসকরা সতর্ক করেন। যদিও সাধারণ খাদ্যাভ্যাসে এটি ক্ষতিকর নয়, তবে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

গর্ভাবস্থায় সতর্কতা প্রয়োজন

গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত করলা খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কিছু উপাদান জরায়ুর সংকোচনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হয়। এই কারণে গর্ভাবস্থায় করলা খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

কিছু গবেষণায় প্রাণীর ওপর দেখা গেছে, অতিরিক্ত করলার নির্যাস প্রজনন হরমোনে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে মানুষের ক্ষেত্রে এর প্রভাব এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। তবুও বিশেষজ্ঞরা পরিমিত গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

কতটা করলা খাওয়া নিরাপদ?

পুষ্টিবিদদের মতে, করলা সপ্তাহে ২ থেকে ৩ দিন খাওয়া সাধারণভাবে নিরাপদ। যারা নিয়মিত করলার রস পান করেন, তাদের ক্ষেত্রে পরিমাণ ৩০ থেকে ৫০ মিলিলিটারের মধ্যে সীমিত রাখা ভালো।

করলা নিঃসন্দেহে একটি উপকারী সবজি, তবে যেকোনো স্বাস্থ্যকর খাবারই অতিরিক্ত খেলে উপকারের বদলে ক্ষতি হতে পারে। তাই এটি খাদ্যতালিকায় রাখুন, কিন্তু পরিমিত পরিমাণে। সুস্থ থাকতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা