৪৭ বছরেও ফিট ইমরান হাশমি, কেমন তার দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস

৪৭ বছর বয়সেও ফিট এবং সুস্থ থাকা অনেকের কাছেই চ্যালেঞ্জের বিষয়। তবে বলিউড অভিনেতা ইমরান হাশমি দেখিয়েছেন বয়স যতই বাড়ুক না কেন, সঠিক অভ্যাস থাকলে ফিট থাকা সম্ভব। তার ফিটনেসের মূল রহস্য কোনো জটিল ডায়েট নয়, বরং নিয়ম মেনে চলা সহজ একটি খাবারের রুটিন।
অনেকেই ভাবেন ফিট থাকতে হলে কঠোর ডায়েট বা কঠিন ব্যায়াম দরকার। কিন্তু ইমরানের ক্ষেত্রে বিষয়টি একটু ভিন্ন। তিনি বরাবরই সহজ খাবার খেতে পছন্দ করেন এবং একই রুটিন ধরে রাখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
ইমরান দৈনন্দিন খাবারে খুব বেশি পরিবর্তন আনেন না। প্রায় প্রতিদিন একই ধরনের খাবার খান। এমনকি ভ্রমণ বা শুটিংয়ের সময়ও তিনি নিজের রুটিন থেকে খুব একটা সরেন না।
সকাল শুরু হয় হালকা খাবার দিয়ে
দিনের শুরুতে তিনি হালকা খাবার খান। সকালে সালাদ দিয়ে শুরু করেন। এরপর খান চিকেন কিমা, যা প্রোটিনে ভরপুর এবং সহজে হজম হয়। পাশাপাশি ম্যাশ করা সেদ্ধ মিষ্টি আলুও তার সকালের তালিকায় থাকে।
বুলেট কফির অভ্যাস
একসময় তিনি নিয়মিত বুলেট কফি খেতেন। এতে কফি, ঘি এবং নারকেল তেল মেশানো থাকে। দিনে দুইবার এই পানীয় তাকে দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করত। ফলে বারবার খাওয়ার প্রয়োজন হতো না।
মধ্যাহ্নভোজ এবং রাতের খাবার
দুপুরের খাবারে তিনি সাধারণত সবজি, ডাল এবং রুটি খান। ভাত কম খেতে পছন্দ করেন।
আরও পড়ুন : টক দইয়ের উপকারিতা
আরও পড়ুন : পেটের স্বাস্থ্যের জন্য যেসব খাবার উপকারী
রাতে খান হালকা খাবার। অনেক সময় রুটি বাদ দেন। তার বদলে থাকে চিকেন বা সবজি, ডাল এবং দই।
খাবারের নিয়ন্ত্রণ
আগে তিনি দিনে ছয়বার খাবার খেতেন। এখন দিনে তিন থেকে চারবার খান এবং মাঝখানে ফাস্টিং রাখেন। এতে শরীরের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং অপ্রয়োজনীয় নাস্তা খাওয়ার প্রবণতা কমে।
ফল এবং চিনি নিয়ে সচেতনতা
প্রাকৃতিক চিনি কম রাখতে তিনি সব ধরনের ফল খান না। তবে স্ট্রবেরি এবং মৌসুমে আম খেতে পছন্দ করেন।
যা তিনি এড়িয়ে চলেন
- নিয়মিত ফাস্ট ফুড
- গ্লুটেন, এলার্জির কারণে
- অতিরিক্ত চিনি
চিট মিলেও তার নিয়ন্ত্রণ থাকে। ডেজার্ট হলে চিনি ছাড়া বা গুড় দিয়ে তৈরি কিছু বেছে নেন। পিৎজা খেলে গ্লুটেন ফ্রি অপশন নেন।
তার পছন্দের খাবারের তালিকায় আছে সুশি, থাই খাবার এবং ক্র্যাব। ডেজার্ট হিসেবে রাস মালাই এবং তিরামিসু পছন্দ করেন। মাঝে মাঝে মদ্যপান করেন, তবে এখন রেড ওয়াইন বেশি পছন্দ।
খাবারের প্রস্তুতি ও শৃঙ্খলা
তিনি দীর্ঘ সময় ধরে একটি নির্দিষ্ট ডায়েট অনুসরণ করছেন। তার কুক একসঙ্গে কয়েক দিনের খাবার প্রস্তুত করে রাখেন। পরে তা ভাগ করে নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়া হয়। এতে রুটিন বজায় রাখা সহজ হয়।
৪৭ বছর বয়সেও ইমরান হাশমির ফিট থাকার পেছনে কোনো বাড়াবাড়ি নেই। নিয়মিততা, নিয়ন্ত্রণ এবং সহজ খাবারের ওপর ভরসা করেই তিনি নিজেকে সুস্থ রেখেছেন।
সূত্র : এনডিটিভি