logo

ঘরের ভেতরেই লুকিয়ে আছে বিষাক্ত রাসায়নিক, ঝুঁকি কমাবেন যেভাবে

ঘরের ভেতরেই লুকিয়ে আছে বিষাক্ত রাসায়নিক, ঝুঁকি কমাবেন যেভাবে
ছবি : সংগৃহীত

ঘরকে আমরা সাধারণত সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা মনে করি। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘরের ভেতরেই এমন কিছু পণ্য ও উপকরণ থাকতে পারে, যেগুলো থেকে ধীরে ধীরে ক্ষতিকর রাসায়নিক নির্গত হয়। এসব রাসায়নিকের দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শ কিছু ক্ষেত্রে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা এবং নির্দিষ্ট কিছু রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন না থাকলেও, অপ্রয়োজনীয় সংস্পর্শ কমাতে সচেতন থাকা জরুরি।

ঘরের আসবাবপত্র, রান্নার বাসন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সামগ্রী এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের কিছু পণ্য থেকেই এসব রাসায়নিক নির্গত হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব ধরনের পণ্য সমান ঝুঁকিপূর্ণ নয়। তাই দৈনন্দিন জীবনযাপনে কয়েকটি সহজ পরিবর্তন আনলেই ঘরের পরিবেশকে আরও স্বাস্থ্যকর রাখা সম্ভব।

চলুন প্রথমেই জেনে নিই পিএফএএস কী। পিএফএএস হলো হাজার হাজার কৃত্রিম রাসায়নিকের একটি বড় পরিবার। এগুলো পানি, তেল ও দাগ প্রতিরোধ করতে পারে বলে বহু বছর ধরে বিভিন্ন পণ্যে ব্যবহার করা হয়েছে।

এসব রাসায়নিক পাওয়া যেতে পারে নন-স্টিক রান্নার পাত্র, পানি প্রতিরোধী পোশাক, দাগ প্রতিরোধী কার্পেট ও আসবাব, কিছু প্রসাধনী, ফাস্ট ফুডের মোড়ক এবং কিছু পরিষ্কারক ও শিল্পপণ্য।

গবেষণায় দেখা গেছে, পিএফএএস পরিবেশে দীর্ঘদিন থেকে যেতে পারে এবং মানুষের শরীরেও জমা হতে পারে।

কেন উদ্বেগের বিষয়?

সব ধরনের পিএফএএসের স্বাস্থ্যপ্রভাব একই নয়। তবে কিছু বহুল ব্যবহৃত পিএফএএসের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শের ক্ষেত্রে উচ্চ কোলেস্টেরল, থাইরয়েডের সমস্যা, রোগ প্রতিরোধক্ষমতার পরিবর্তন, কিডনির কিছু রোগ এবং নির্দিষ্ট কিছু ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধির সম্পর্ক বিভিন্ন গবেষণায় পাওয়া গেছে। তবে কোনো ব্যক্তির অসুস্থতার একমাত্র কারণ হিসেবে পিএফএএসকে দায়ী করা যায় না।

ঘরে কীভাবে সংস্পর্শ কমাবেন?

নন-স্টিক পাত্র সাবধানে ব্যবহার করুন: পুরোনো বা আঁচড় পড়া নন-স্টিক প্যান বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলে বদলে ফেলুন। রান্নার সময় অতিরিক্ত উচ্চ তাপে খালি প্যান গরম না করাই ভালো।

খাবারের মোড়কের ব্যবহার কমান: ফাস্ট ফুড বা তেলযুক্ত খাবারের কিছু মোড়কে পিএফএএসজাতীয় রাসায়নিক থাকতে পারে। তাই যতটা সম্ভব তাজা ও ঘরে তৈরি খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।

ঘরের ধুলা পরিষ্কার রাখুন: পিএফএএসসহ বিভিন্ন রাসায়নিক ঘরের ধুলায় জমতে পারে। নিয়মিত ভেজা কাপড় দিয়ে আসবাব মুছুন এবং ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করলে ভালো হয়।

কেনাকাটার সময় লেবেল দেখুন: পানি বা দাগ প্রতিরোধী পোশাক, কার্পেট কিংবা প্রসাধনী কেনার সময় সম্ভব হলে পিএফএএসমুক্ত পণ্য বেছে নিন।

হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন: বিশেষ করে খাবার খাওয়ার আগে এবং ঘর পরিষ্কার করার পরে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন। এতে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক ও ধুলাবালির সংস্পর্শ কমানো সম্ভব।

প্রয়োজনের অতিরিক্ত রাসায়নিক পণ্য ব্যবহার করবেন না: যেসব পরিষ্কারক বা গৃহস্থালি পণ্যের প্রয়োজন নেই, সেগুলো অযথা ব্যবহার না করাই ভালো। প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপদ বিকল্প বেছে নেওয়া যেতে পারে।

সব পিএফএএস কি এড়িয়ে চলা সম্ভব?

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে পিএফএএস এত বিস্তৃতভাবে পরিবেশে ছড়িয়ে পড়েছে যে এগুলো পুরোপুরি এড়িয়ে চলা প্রায় অসম্ভব। তবে সচেতনভাবে কিছু অভ্যাস বদলালে অপ্রয়োজনীয় সংস্পর্শ অনেকটাই কমানো যায়।

আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন আছে কি?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং সচেতন হওয়াই গুরুত্বপূর্ণ। সব নন-স্টিক পাত্র, প্রসাধনী বা গৃহস্থালি পণ্য যে সমানভাবে ক্ষতিকর, এমন নয়। অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে পিএফএএসের ব্যবহার কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে এবং বিভিন্ন দেশে এসব রাসায়নিকের ব্যবহার সীমিত করার বিষয়ে নতুন নীতিমালা নিয়ে কাজ চলছে।

ঘরের পরিবেশ নিরাপদ রাখতে বড় কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় না। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সচেতন কেনাকাটা, ক্ষতিগ্রস্ত নন-স্টিক পাত্র বদলে ফেলা এবং অপ্রয়োজনীয় রাসায়নিক ব্যবহার কমানোর মতো ছোট ছোট পদক্ষেপই দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। মনে রাখবেন, সচেতনতা মানেই ভয় নয়। বরং সঠিক তথ্য জেনে দৈনন্দিন জীবনে বাস্তবসম্মত কিছু পরিবর্তন আনাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান