logo

যেসব কারণে নারীরা স্বাভাবিকভাবেই বেশি ক্লান্তবোধ করেন

যেসব কারণে নারীরা স্বাভাবিকভাবেই বেশি ক্লান্তবোধ করেন

আজকের ব্যস্ত জীবনে অনেক নারী একটি অদৃশ্য কিন্তু চরম চাপের মুখোমুখি হন, যা সাধারণত ‘মেন্টাল লোড’ বা মানসিক চাপ হিসেবে পরিচিত। এটি হলো পরিবারের বা ঘরের কাজ চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় মানসিক শ্রম, যা অনেক সময় অচেতনভাবে করা হয় – যেমন শিশুর যত্নের পরিকল্পনা, স্বাস্থ্যকর খাবারের প্রস্তুতি, বিনোদনের ব্যবস্থা করা, বা দৈনন্দিন কাজগুলো সমন্বয় করা।

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্বের প্রফেসর এবং বই ড্রেইন্ড এর লেখক লিয়া রাপ্যানার বিবিসির সিনিয়র হেলথ করেসপন্ডেন্ট মেলিসা হোগেনবুমকে বলেছেন, মেন্টাল লোডের কোন একটি রূপ নেই। বরং এটি আট ধরনের হতে পারে। যদিও পুরুষরা বাড়িতে কিছু বেশি দায়িত্ব নিচ্ছেন, তবুও নারীরা এখনও অদৃশ্য এসব চাপের বেশি অংশ বহন করছেন, যা প্রায়ই বার্নআউটের কারণ হতে পারে।

মেন্টাল লোডের ৮টি ধরন

জীবন ব্যবস্থাপনা : এটি হলো ঘরের কাজ এবং দায়িত্বের পরিকল্পনা রাখা। কোনো কাজ যাতে বাধ্যতামূলকভাবে সময়মতো হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য এই শ্রম প্রয়োজন।

আবেগগত সহায়তা : পরিবার, বন্ধু বা সহকর্মীদের আবেগ বুঝে সাপোর্ট দেওয়া। কারো মেজাজ খেয়াল করা এবং প্রয়োজনমতো সমর্থন দেওয়া এখানে অন্তর্ভুক্ত।

সম্পর্ক রক্ষা : বাচ্চা, বন্ধু, সঙ্গী ও সম্প্রসারিত পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত রাখা। এটি সামাজিক নেটওয়ার্কিং-এর মতো, তবে মূলত সবাই যেন সংযুক্ত ও ভালোবাসা অনুভব করে তা নিশ্চিত করা।

বিশেষ মুহূর্ত তৈরি করা (Magic-making) : ঋতু, উৎসব বা জীবনের বিশেষ মুহূর্তগুলো সুন্দরভাবে আয়োজন করা। উদাহরণস্বরূপ, ক্রিসমাসে “ম্যাজিক্যাল মুহূর্ত” তৈরি করার দায়িত্ব প্রায়ই নারীর ওপরই থাকে।

স্বপ্ন তৈরি (Dream-building) : পরিবারের সবাই যেন তাদের স্বপ্ন ও আগ্রহ পূরণ করতে পারে তা নিশ্চিত করা। যেমন বাচ্চাদের আদর্শ হবি বা সঙ্গীর কাজের সময় ব্যবস্থাপনা।

ব্যক্তিগত যত্ন (Individual upkeep) : শরীর ও মানসিক স্বাস্থ্য বজায় রাখা এবং সবার সামনে উপযুক্ত চেহারা প্রদর্শন করা।

নিরাপত্তা : নিজ ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিছু পরিবার বিশেষভাবে নিরাপত্তা নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন থাকে, যেমন রঙিন সম্প্রদায়ের পরিবার বা প্রতিবন্ধী পরিবার।

মেটা কেয়ার (Meta-care) : বড় ছবির চিন্তা–আপনি যে সমাজে বাস করতে চান তা গড়ে তোলা এবং নিজের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা। উদাহরণস্বরূপ, সন্তানদের প্রতি এমনভাবে দায়িত্ব পালন করা যা আপনি চান।

মানসিক চাপ কমানোর উপায়

রাপ্যানার বলেন, প্রথমেই বোঝা জরুরি যে সব আবেগের দায় আমাদের নয়। নারী হিসেবে জন্ম থেকেই আমরা অনেক সময় নিজেকে অন্যদের জন্য উৎসর্গ করি। কিন্তু নিজের যত্ন নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। মেন্টাল লোড বোঝাপড়া এবং দায়িত্ব ভাগাভাগি করলে মানসিক চাপ অনেকটা কমানো সম্ভব।

একটি পাইলট স্টাডিতে দেখা গেছে, নারীদেরকে যদি নিজের জন্য বিনিয়োগ করার সুযোগ দেওয়া হয়, প্রথমে তারা অপরাধবোধ অনুভব করেন। তবে একবার নিজস্ব সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার পর তারা মানসিকভাবে অনেকটা হালকা বোধ করেন এবং নিজের গুরুত্ব বুঝতে পারেন।

নারীদের ক্ষমতায়ন শুধু তাদের জন্য নয়, বরং আমাদের সবার জন্য উপকারী। নারীরা যদি শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী হন, তা পরিবারের মধ্যে দায়িত্ব ভাগাভাগি ও সম্পর্কের মান উন্নত করে। তাই মানসিক চাপ কমানো এবং দায়িত্ব ভাগাভাগি নিশ্চিত করা প্রত্যেক পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এই গবেষণা আমাদের শেখায়, নারীরা যদি নিজের দায়িত্ব ও আবেগের সীমা বুঝে এবং যৌক্তিকভাবে কাজ ভাগাভাগি করেন, তবে তারা মানসিকভাবে শক্তিশালী হতে পারেন এবং বার্নআউট থেকে মুক্ত থাকতে পারেন।

সূত্র : বিবিসি