ঝলমলে ত্বকের জন্য সকালে কাঁচা হলুদ ও মেথি জলের আশ্চর্য উপকারিতা

ঝলমলে, নিখুঁত ও উজ্জ্বল ত্বক আমরা সবাই চাই। সুন্দর ত্বক পেতে বিভিন্ন স্কিনকেয়ার প্রোডাক্টস ব্যবহার করা হয়, কিন্তু আশানুরূপ ফলাফল পাওয়া যায় না। এখন অনেকে ত্বকের যত্নে বাজারের কেনা পণ্যের থেকে ভেষজ উপাদানের দিকে বেশি ঝুঁকছেন।
ঝলমলে ত্বক পেতে কাঁচা হলুদ ও মেথি অনেকটা ম্যাজিকের মতো কাজ করে। কিন্তু অনেকেরই মনে প্রশ্ন থাকে, কাঁচা হলুদ আর মেথি জল কি আসলেই ঠিকঠাক কাজ করে কিনা। চলুন জেনে নিই সকালে কাঁচা হলুদ ও মেথি জলে পান করার আশ্চর্য উপকারিতা সম্পর্কে-
ত্বকের উজ্জলতায় কাঁচা হলুদের পানীয়
রূপচর্চায় কাঁচা হলুদের ব্যবহার বেশ প্রাচীন। বিয়ের আগের গায়েহলুদ থেকে শুরু করে সর্দি-কাশিতে গরম দুধের সঙ্গে হলুদ- সবখানেই এর কদর রয়েছে। কিন্তু এখন অনেকের মধ্যেই সকালে ঘুম থেকে উঠে হলুদ মেশানো পানি খাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। হলুদ মেশানো পানি খেলে কি আসলেই কোনো উপকার পাওয়া যায়?

হলুদের মূল উপাদান হলো 'কারকিউমিন', যাতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণ রয়েছে। এটি ম্যাজিকের মতো রাতারাতি ত্বক পরিবর্তন না করলেও ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে বেশ কার্যকরী। এটি ভেতর থেকে ত্বককে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত হলুদ মেশানো পানি খেলে ক্লান্তি ভাব কমে এবং ব্রণ কমাতেও সাহায্য করে।
এটি শুধু সরাসরি ত্বকের ওপর প্রভাব ফেলে তা কিন্তু নয়। সকালে স্বাস্থ্যকর কিছু দিয়ে দিন শুরু করলে সারাদিন সচেতন থাকার মানসিকতা তৈরি হয়, যা পরোক্ষভাবেও ত্বকের জন্য উপকারী।
কীভাবে হলুদ জল তৈরি করবেন?
এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে সামান্য পরিমাণে হলুদের গুড়ো মিশিয়ে নিন। ১/৪ চা চামচ হলুদ গুঁড়ো ভালো করে মিশিয়ে পান করুন। চাইলে সরাসরি কাচা হলুদ পেস্ট করে চিপে রস বের করে নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে পানির আন্দাজ অনুযায়ী হাফ চা চামচের মতো হলুদের রস মিশিয়ে নিতে পারেন।
স্বাদ বাড়াতে এর সঙ্গে সামান্য লেবুর রস, মধু এবং এক চিমটি গোলমরিচ মিশিয়ে নিতে পারেন। গোলমরিচ শরীরকে হলুদ শোষণ করতে সাহায্য করে। তবে মাত্রাতিরিক্ত হলুদ জল খেলে কিন্তু অ্যাসিডিটি হতে পারে।
ত্বকের উজ্জ্বলতায় মেথি পানীয়
চুলের যত্নে কিংবা ত্বকের যত্নে মেথি যে কতটা কার্যকরী তা কমবেশি আমরা সবাই জানি। কিন্তু নিয়মিত মেথি জল যে আপনার ত্বককে ঝলমলে করে তুলতে পারে তা হয়তো অনেকেরই অজানা। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত মেথি ভেজানো পানি পান করলে ব্রণের সমস্যা কমে, ত্বক পরিষ্কার হয়ে ভেতর থেকে একটা ন্যাচারাল গ্লো চলে আসে।

কীভাবে কাজ করে?
• ব্রণ দূর করে: মেথিতে থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান ত্বকের লালচে ভাব ও ফোলাভাব কমিয়ে ব্রণ দূর করতে সাহায্য করে। এটি শরীরের ভেতরের টক্সিন বা ক্ষতিকারক উপাদান বের করে দিয়ে ত্বক পরিষ্কার রাখে।
• দাগহীন ও উজ্জ্বল ত্বক: নিয়মিত এই পানি পান করলে রোদে পোড়া দাগ দূর হয়ে ত্বক আরো উজ্জ্বল হয়।
• বয়সের ছাপ কমায়: মেথিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন বাড়িয়ে বয়সের ছাপ কমাতে সাহায্য করে।
• ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে: এটি ভেতর থেকে ত্বককে হাইড্রেটেড রাখে, যার ফলে ত্বক মসৃণ ও কোমল থাকে।
মেথি জল কীভাবে বানাবেন
এক কাপ পানিতে এক চা চামচ মেথি দানা সারা রাত ভিজিয়ে রাখুন। সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে সেই পানি ছেঁকে পান করুন। আপনি চাইলে এই মেথি ভেজানো জলের সঙ্গে কিছুটা কাঁচা হলুদের রস অথবা এক টুকরা থেঁতো করা কাঁচা হলুদ মিশিয়ে সামান্য ফুটিয়ে বা হালকা গরম করে নিতে পারেন। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এই হালকা গরম পানীয়টি পান করুন।
এ ছাড়া ভেজানো মেথি ব্লেন্ড করে ফেসপ্যাক হিসেবেও ব্যবহার করতে পারেন।
কাঁচা হলুদ ও মেথি জল খেলেই কি ত্বক উজ্জ্বল হবে?
এটি ভুল ধারণা। ত্বক সুন্দর রাখতে এই পানীয়টি এককভাবে ভূমিকা রাখতে পারে না। এর সঙ্গে প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনতে হবে। নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত তেল মসলা বাদ দিয়ে স্বাস্থ্যকর উপায়ে রান্না করা এবং প্রচুর পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। রোদে গেলে সানস্ক্রিন বা ছাতা ব্যবহার করতে হবে।
মনে রাখবেন, কাঁচা হলুদ বা মেথি জল জাদুকরী ওষুধ নয়। বরং ভালো ঘুম, সুষম খাবার এবং ত্বকের নিয়মিত যত্নের পাশাপাশি এটি জীবনযাত্রার একটি অংশ হিসেবে বেশ ভালো কাজ করে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, টাইমস অব ইন্ডিয়া