logo
Advertisement

শিং মাছ কি আসলেই শরীরে রক্ত বাড়ায়

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
শিং মাছ কি আসলেই শরীরে রক্ত বাড়ায়
শিং মাছ। ছবি : গণমাধ্যম থেকে নেওয়া

শিং মাছকে ঘিরে আমাদের দেশে একটি প্রচলিত ধারণা আছে, এই মাছ খেলে শরীরে রক্ত বাড়ে। বিশেষ করে রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন এমন কাউকে অনেক সময় শিং মাছ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। শিং মাছ পুষ্টিকর, এতে ভালো পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন ও বিভিন্ন খনিজ রয়েছে। কিন্তু শুধু শিং মাছ খেলেই রক্তের পরিমাণ বেড়ে যাবে, বিষয়টি এতটা সরল নয়।

Advertisement

তাহলে শিং মাছ খাওয়ার সঙ্গে রক্ত তৈরির সম্পর্ক কোথায়? আর রক্তস্বল্পতা থাকলে এই মাছ কতটা উপকারী?

শিং মাছ কি রক্ত বাড়ায়?

রক্তের প্রধান উপাদানগুলোর একটি হলো লোহিত রক্তকণিকা। এগুলো তৈরি ও স্বাভাবিক রাখতে শরীরের প্রয়োজন আয়রন, ভিটামিন বি১২, ফলেটসহ বেশ কিছু পুষ্টি উপাদান। বিশেষ করে ভিটামিন বি১২ লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শরীরে ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি হলে রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে।

শিং মাছসহ ক্যাটফিশজাতীয় মাছে ভিটামিন বি১২ থাকে। হেল্থলাইনের তথ্য অনুযায়ী, ১০০ গ্রাম তাজা ক্যাটফিশে দৈনিক প্রয়োজনের প্রায় ১২১ শতাংশ ভিটামিন বি১২ পাওয়া যেতে পারে। একই পরিমাণ মাছে প্রায় ১৮ গ্রাম প্রোটিনও থাকে।

তাই শিং মাছ রক্ত তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় কিছু পুষ্টি সরবরাহ করতে পারে। তবে এটিকে রক্ত বাড়ানোর সরাসরি ওষুধ হিসেবে দেখা ঠিক নয়।

রক্তস্বল্পতা থাকলে শুধু শিং মাছ যথেষ্ট নয়

রক্তস্বল্পতার অনেক কারণ থাকতে পারে। আয়রনের ঘাটতি, ভিটামিন বি১২ বা ফলেটের ঘাটতি, দীর্ঘদিনের কোনো অসুস্থতা কিংবা শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এর কারণ হতে পারে।

তাই কারও রক্তে হিমোগ্লোবিন কম থাকলে শুধু শিং মাছ বা অন্য কোনো একটি খাবার খেয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। প্রথমে রক্তস্বল্পতার কারণ জানা জরুরি। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আয়রন, ভিটামিন বি১২ বা অন্য চিকিৎসা নিতে হতে পারে।

শিং মাছে কী কী পুষ্টি আছে?

শিং মাছ পুষ্টিকর মাছ হিসেবে খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। ক্যাটফিশের পুষ্টিগুণ নিয়ে হেল্থলাইনের তথ্য অনুযায়ী, ১০০ গ্রাম তাজা ক্যাটফিশে প্রায় ১০৫ ক্যালরি, ১৮ গ্রাম প্রোটিন এবং ২ দশমিক ৯ গ্রাম ফ্যাট থাকে। এতে ভিটামিন বি১২ ছাড়াও সেলেনিয়াম, ফসফরাস, থায়ামিন ও পটাশিয়াম রয়েছে।

প্রোটিন শরীরের কোষ ও টিস্যু তৈরি এবং মেরামতে গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিয়মিত মাছ খাওয়া শরীরের সামগ্রিক পুষ্টির চাহিদা পূরণে সাহায্য করতে পারে।

ভিটামিন বি১২ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

শরীরে রক্ত তৈরির ক্ষেত্রে ভিটামিন বি১২-এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এটি লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে। পাশাপাশি স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং কোষের বিভিন্ন বিপাকীয় কাজেও এই ভিটামিন প্রয়োজন।

এই কারণে ভিটামিন বি১২ সমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা উপকারী। তবে কারও যদি ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি থাকে, শুধু খাবারের মাধ্যমে তা পূরণ করা সবসময় সম্ভব নাও হতে পারে। ঘাটতির মাত্রা অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন হতে পারে।

শিং মাছ হৃদ্‌যন্ত্রের জন্যও উপকারী হতে পারে

শিং মাছের মতো ক্যাটফিশে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। এটি শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় এক ধরনের স্বাস্থ্যকর চর্বি। শরীর নিজে থেকে পর্যাপ্ত ওমেগা-৩ তৈরি করতে পারে না, তাই খাবার থেকে এটি পেতে হয়।

তবে একটি বিষয় মনে রাখা দরকার। শিং মাছ বা ক্যাটফিশে ওমেগা-৩ থাকলেও এটি স্যামন, সার্ডিন বা ম্যাকেরেলের মতো চর্বিযুক্ত মাছে থাকা ওমেগা-৩-এর তুলনায় কম।

কীভাবে রান্না করলে বেশি উপকারী?

মাছটি কীভাবে রান্না করা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ভাজা মাছ খেতে সুস্বাদু হলেও অতিরিক্ত তেল ব্যবহার করলে খাবারে ক্যালরি ও চর্বির পরিমাণ বেড়ে যায়।

হেল্থলাইনের তথ্য অনুযায়ী, ১০০ গ্রাম ক্যাটফিশ শুকনো তাপে রান্না করলে প্রায় ১০৫ ক্যালরি থাকে। তেল দিয়ে বেক বা রান্না করলে তা প্রায় ১৭৮ ক্যালরিতে উঠতে পারে। আর ব্যাটারে মুড়ে ভাজলে ক্যালরি প্রায় ২২৯ পর্যন্ত হতে পারে।

তাই কম তেলে ঝোল, ভাপা, গ্রিল বা অন্যান্য তুলনামূলক হালকা পদ্ধতিতে রান্না করা ভালো। এতে মাছের পুষ্টিগুণের পাশাপাশি অতিরিক্ত তেল ও ক্যালরি এড়ানো যায়।

তাহলে প্রচলিত ধারণাটি কতটা সত্য?

শিং মাছ খেলে শরীরে রক্ত তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু পুষ্টি পাওয়া যায়, বিশেষ করে ভিটামিন বি১২ ও প্রোটিন। এ কারণে সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে শিং মাছ উপকারী হতে পারে। কিন্তু শিং মাছ খেলেই সরাসরি রক্ত বেড়ে যাবে বা রক্তস্বল্পতা সেরে যাবে, এমন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

বিশেষ করে আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতার ক্ষেত্রে শুধু শিং মাছের ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়। আয়রনসমৃদ্ধ অন্যান্য খাবার, পর্যাপ্ত ভিটামিন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা গুরুত্বপূর্ণ।

সুতরাং শিং মাছকে রক্ত বাড়ানোর ওষুধ না ভেবে পুষ্টিকর খাবার হিসেবে দেখাই বেশি যুক্তিযুক্ত। নিয়মিত সুষম খাবারের অংশ হিসেবে মাছ, ডিম, মাংস, ডাল, শাকসবজি ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার খাওয়া শরীরের জন্য বেশি উপকারী। আর রক্তে হিমোগ্লোবিন কম থাকলে নিজের মতো করে খাবার বা ওষুধের ওপর নির্ভর না করে কারণটি শনাক্ত করা জরুরি।

সূত্র: হেল্থলাইন, ওয়ের মেড