গরমে ঘাম হওয়া ভালো না খারাপ, যা বলছেন চিকিৎসক

গরম পড়লেই ঘাম হওয়া স্বাভাবিক। অনেকের কাছেই এটি বিরক্তিকর। কিন্তু আসলে ঘাম শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। এটি শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত ঘাম হলে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মতলেবুর রহমান একটি সংবাদমাধ্যমকে জানান, গরমে ঘাম হওয়া স্বাভাবিক এবং অনেক ক্ষেত্রে উপকারী। তবে ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে পানি ও লবণ বের হয়ে যায়, যা পূরণ না করলে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে।
চলুন ঘামের বিষয়ে সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মতলেবুর রহমানের কিছু মতামত জেনে নিই।
ঘাম হলে কী করবেন
ঘাম বেশি হলে পর্যাপ্ত পানি পান করা খুব জরুরি। প্রয়োজনে ওরস্যালাইন বা ডাবের পানি খাওয়া ভালো। লবণ মিশ্রিত পানীয়ও সহায়ক হতে পারে। তবে শুধু চিনি বা গ্লুকোজ মিশ্রিত পানি খেলে লবণের ঘাটতি পূরণ হয় না, বরং অতিরিক্ত চিনি শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
যাদের উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির সমস্যা বা হৃদরোগ আছে, তাদের লবণ গ্রহণে সতর্ক থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা উচিত।
ত্বকের যত্ন কেন জরুরি
গরমে ঘাম হলে শরীরে দুর্গন্ধ হতে পারে। তাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা গুরুত্বপূর্ণ। ঘাম হলে ঠান্ডা পানিতে ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে নেওয়া ভালো। এরপর শুকনা কাপড় দিয়ে আবার মুছে নিতে হবে, যাতে ত্বক ভেজা না থাকে।
কারণ ত্বক ভেজা থাকলে ছত্রাক সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। শরীরের যেসব জায়গায় লোম বেশি, সেখানে ঘাম বেশি জমে। তাই সেসব জায়গা পরিষ্কার রাখা এবং লোম ছোট রাখা দরকার। ঘামে ভেজা পোশাক দ্রুত বদলে ফেলা উচিত।
অতিরিক্ত ঘাম হলে কী হতে পারে
অতিরিক্ত ঘাম হলে মাথা ঘোরা, দুর্বল লাগা, মাথাব্যথা বা ক্ষুধামান্দ্যের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমন হলে ঠান্ডা জায়গায় বিশ্রাম নিতে হবে এবং সম্ভব হলে ঠান্ডা পানি দিয়ে শরীর ধুয়ে নিতে হবে। তরল খাবার বেশি খাওয়াও উপকারী।
কখন সতর্ক হবেন
কখনো যদি স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ঘাম হয় বা কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ ঘেমে যান, তাহলে তা অন্য রোগের লক্ষণ হতে পারে। যেমন রক্তে সুগার কমে গেলে বা হৃদ্রোগের সমস্যায়ও এমন হতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঘাম হলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হয়।
মনে রাখবেন, গরমে ঘাম হওয়া খারাপ নয়, বরং এটি শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। তবে অতিরিক্ত ঘাম বা অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।