প্রতিদিনের যে ৭ অভ্যাসে দাঁত ও মাড়ি থাকবে সুস্থ

দাঁতের যত্ন শুধু সুন্দর হাসির জন্য নয়, পুরো শরীর সুস্থ রাখার সঙ্গেও এর গভীর সম্পর্ক আছে। অনেকেই মনে করেন দাঁতের সমস্যা মানেই শুধু ক্যাভিটি বা দাঁত ব্যথা। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, মুখের স্বাস্থ্য খারাপ হলে তার প্রভাব শরীরের আরও অনেক অংশে পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বা সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০ থেকে ৬৪ বছর বয়সী প্রতি পাঁচজন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে অন্তত একজনের দাঁতে চিকিৎসাবিহীন ক্যাভিটি রয়েছে।
দাঁতের চিকিৎসা অনেক সময় ব্যয়বহুল হওয়ায় অনেকে নিয়মিত ডেন্টিস্টের কাছে যান না। আবার অনেকের মধ্যে দাঁতের চিকিৎসা নিয়ে ভয়ও কাজ করে। ফলে ছোট সমস্যা ধীরে ধীরে বড় আকার নেয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিনের কিছু সাধারণ অভ্যাস দাঁত ও মাড়িকে ভালো রাখতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
মুখের স্বাস্থ্যের সঙ্গে শরীরের সম্পর্ক
গবেষণায় দেখা গেছে, দাঁত ও মাড়ির সমস্যা শুধু মুখেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এর সঙ্গে বিষণ্নতা, ডায়াবেটিস, হাঁপানি, বাতের সমস্যা এমনকি ডিমেনশিয়ারও সম্পর্ক থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, মাড়ির প্রদাহ বা ক্যাভিটির কারণে মুখে যে দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ তৈরি হয়, তা শরীরের অন্য অংশেও প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া মুখের কিছু ব্যাকটেরিয়া রক্তের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলেও মনে করা হয়।
ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রেও একই সম্পর্ক দেখা যায়। নিয়ন্ত্রণহীন ডায়াবেটিস মাড়ির সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়, আবার মাড়ির রোগ রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ কঠিন করে তোলে।
দাঁতের যত্নে যেসব অভ্যাস জরুরি
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিনের ছোট কিছু নিয়ম মেনে চললে দাঁত ও মাড়ি দীর্ঘদিন সুস্থ রাখা সম্ভব।
দিনে অন্তত দুইবার দাঁত ব্রাশ করুন: ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ও নরম ব্রাশ ব্যবহার করে প্রতিদিন সকালে ও রাতে অন্তত দুই মিনিট ধরে দাঁত ব্রাশ করা উচিত। এতে দাঁতের ক্ষয় ও মাড়ির সমস্যা কমে।
দাঁতের ফাঁক পরিষ্কার রাখুন: শুধু ব্রাশ করলেই সব ময়লা দূর হয় না। তাই প্রতিদিন অন্তত একবার ডেন্টাল ফ্লস বা ইন্টারডেন্টাল ক্লিনার ব্যবহার করা ভালো।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন: পানি মুখের ভেতর পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। এটি খাবারের কণা ও ব্যাকটেরিয়া দূর করতে ভূমিকা রাখে।
চিনি ছাড়া চুইংগাম খেতে পারেন: খাওয়ার পর সুগার-ফ্রি চুইংগাম চিবালে লালা তৈরি বাড়ে। এতে মুখের অ্যাসিড কমে এবং দাঁত সুরক্ষিত থাকে। তবে যাদের ব্রেস বা ক্রাউন আছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি উপযোগী নাও হতে পারে।
অতিরিক্ত চিনি এড়িয়ে চলুন: সফট ড্রিংকস, ক্যান্ডি, কেক, বিস্কুট বা অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার দাঁতের ক্ষতির অন্যতম কারণ। তাই এসব খাবার সীমিত পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
অল্প অল্প করে বারবার খাওয়ার অভ্যাস কমান: বারবার স্ন্যাকস খেলে মুখে খাবারের কণা বেশি সময় থাকে। এতে ক্যাভিটির ঝুঁকি বাড়ে।
টক খাবার খাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে ব্রাশ করবেন না: লেবু, ভিনেগার, কোমল পানীয় বা টকজাতীয় খাবার খাওয়ার পর অন্তত ৩০ থেকে ৬০ মিনিট অপেক্ষা করে দাঁত ব্রাশ করা উচিত। কারণ তখন দাঁতের উপরিভাগ কিছুটা নরম থাকে। সঙ্গে সঙ্গে ব্রাশ করলে ক্ষতি হতে পারে। এর বদলে পানি দিয়ে কুলি করা ভালো।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন
বিশেষজ্ঞদের মতে, দাঁত বা মাড়িতে ব্যথা, রক্ত পড়া কিংবা ফোলা কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। এসব লক্ষণ সংক্রমণের ইঙ্গিত হতে পারে। অনেক সময় দাঁতের সংক্রমণ ছড়িয়ে শরীরের আরও গভীর অংশে সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই ব্যথা বা অস্বস্তি হলে দ্রুত ডেন্টিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
চিকিৎসকদের ভাষায়, মুখ শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ জানালা। তাই সুস্থ থাকতে হলে দাঁত ও মাড়ির যত্নেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট



