৫ অক্টোবর কেন পালিত হয় জেমস বন্ড দিবস? জানুন ‘০০৭’ এর শুরুর গল্প

আজ ৫ অক্টোবর। সিনেমাপ্রেমী ও জেমস বন্ডভক্তদের জন্য দিনটি বেশ বিশেষ। কারণ প্রতিবছর এই দিনে পালিত হয় গ্লোবাল জেমস বন্ড ডে। ১৯৬২ সালের এই দিনেই বড় পর্দায় প্রথমবার দেখা গিয়েছিল ব্রিটিশ গোয়েন্দা চরিত্র জেমস বন্ডকে। সেই থেকে ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে ০০৭ হয়ে উঠেছে বিশ্ব চলচ্চিত্রের অন্যতম পরিচিত চরিত্র।
জেমস বন্ডের সঙ্গে জড়িয়ে আছে গুপ্তচরবৃত্তি, রোমাঞ্চ, বিপজ্জনক অভিযান, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং দুর্দান্ত সব গাড়ি। তবে বন্ড শুধু একজন কাল্পনিক গোয়েন্দা নন। চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তিনি এমন একটি চরিত্র, যার প্রভাব আজও জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে স্পষ্ট।
১৯৬২ সালের ৫ অক্টোবর লন্ডনে মুক্তি পেয়েছিল প্রথম জেমস বন্ড সিনেমা ড. নো। সিনেমাটিতে ব্রিটিশ গোয়েন্দা কর্মকর্তা জেমস বন্ডের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন শন কনারি।
ইয়ান ফ্লেমিংয়ের লেখা উপন্যাসের চরিত্র জেমস বন্ডকে বড় পর্দায় নিয়ে আসে এই সিনেমা। মুক্তির পর থেকেই বন্ড চরিত্রটি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে।
২০১২ সালে প্রথমবার গ্লোবাল জেমস বন্ড ডে পালন করা হয়। সে বছর বন্ড চলচ্চিত্রের ৫০ বছর পূর্তি ছিল। এরপর থেকে ৫ অক্টোবর দিনটি জেমস বন্ডভক্তদের কাছে বিশেষ একটি দিন হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে।
কে এই জেমস বন্ড?
জেমস বন্ড একজন কাল্পনিক ব্রিটিশ গোয়েন্দা কর্মকর্তা। তার কোড নম্বর ০০৭। চলচ্চিত্রের গল্পে তিনি ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই৬-এর হয়ে বিভিন্ন কঠিন ও বিপজ্জনক মিশনে অংশ নেন।
বন্ডের চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য তার আত্মবিশ্বাস। কঠিন পরিস্থিতিতেও তিনি সাধারণত শান্ত থাকেন এবং বুদ্ধি ও কৌশল কাজে লাগিয়ে বিপদ থেকে বেরিয়ে আসেন।
তার সঙ্গে থাকে নানা ধরনের আধুনিক প্রযুক্তি। বিশেষ ধরনের গাড়ি, ঘড়ি, অস্ত্র এবং অন্যান্য গ্যাজেট বন্ড সিনেমার অন্যতম আকর্ষণ।
এক চরিত্র, অনেক অভিনেতা
জেমস বন্ডের চরিত্রে এখন পর্যন্ত একাধিক অভিনেতা অভিনয় করেছেন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত নামগুলোর একটি শন কনারি। তিনিই প্রথম বড় পর্দায় বন্ডের চরিত্রে অভিনয় করেন।
এরপর জর্জ ল্যাজেনবি, রজার মুর, টিমোথি ডালটন, পিয়ার্স ব্রসনান ও ড্যানিয়েল ক্রেগ বিভিন্ন সময়ে জেমস বন্ডের চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

প্রতিটি অভিনেতা নিজের মতো করে বন্ড চরিত্রকে উপস্থাপন করেছেন। শন কনারির বন্ড ছিলেন দৃঢ় ও আকর্ষণীয়। রজার মুরের বন্ড চরিত্রে ছিল রসবোধ। ড্যানিয়েল ক্রেগের সময় বন্ডকে তুলনামূলকভাবে বেশি বাস্তব ও আবেগপ্রবণ চরিত্র হিসেবে দেখা যায়।
ড্যানিয়েল ক্রেগের বিদায়
সাম্প্রতিক সময়ে জেমস বন্ড চরিত্রের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি আলোচিত নাম ড্যানিয়েল ক্রেগ। তিনি ২০০৬ সালের ক্যাসিনো রয়্যাল সিনেমার মাধ্যমে বন্ড হিসেবে যাত্রা শুরু করেন।
এরপর কোয়ান্টাম অব সোলেস, স্কাইফল, স্পেকট্র এবং নো টাইম টু ডাই সিনেমায় তাকে দেখা যায়।

২০২১ সালে মুক্তি পাওয়া নো টাইম টু ডাই ছিল ড্যানিয়েল ক্রেগের শেষ বন্ড সিনেমা। এর মাধ্যমে দীর্ঘ ১৫ বছরের বন্ড অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।
জেমস বন্ডের বিখ্যাত গাড়ি
জেমস বন্ডের সঙ্গে গাড়ির সম্পর্কও বেশ পুরোনো। বিশেষ করে অ্যাস্টন মার্টিন গাড়ি বন্ডের পরিচয়ের একটি অংশ হয়ে উঠেছে।
বন্ড সিনেমায় বিভিন্ন সময়ে অ্যাস্টন মার্টিনের নানা মডেল দেখা গেছে। এসব গাড়িতে সাধারণ গাড়ির তুলনায় অনেক বেশি আধুনিক সুবিধা দেখানো হয়েছে। কখনো গাড়িতে ছিল বিশেষ অস্ত্র, কখনো ছিল নজরদারি প্রযুক্তি, আবার কখনো বিপদ থেকে পালানোর জন্য অভিনব ব্যবস্থা।

বন্ডের গাড়ি তাই শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, সিনেমার গল্পেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বন্ডের বিখ্যাত সংলাপ
জেমস বন্ডের পরিচয়ের সঙ্গে তার একটি বিশেষ পরিচয়ও জড়িয়ে আছে। নিজের পরিচয় দেওয়ার সময় বন্ড সাধারণত বলেন, বন্ড, জেমস বন্ড।
এই সংক্ষিপ্ত পরিচয়টি চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম পরিচিত সংলাপ হয়ে উঠেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জেমস বন্ডের নামের সঙ্গে এই সংলাপটি প্রায় সমার্থক হয়ে গেছে।
শুধু সিনেমা নয়, একটি সংস্কৃতি
জেমস বন্ড এখন শুধু একটি সিনেমা সিরিজের নাম নয়। এটি একটি বড় জনপ্রিয় সংস্কৃতির অংশ।
বন্ডকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বই, ভিডিও গেম, খেলনা, পোশাকসহ নানা ধরনের পণ্য। তার গাড়ি, ঘড়ি, পোশাক এবং প্রযুক্তির প্রতি মানুষের আগ্রহও কম নয়।
এমনকি অনেক জনপ্রিয় সিনেমা ও টেলিভিশন সিরিজে জেমস বন্ডের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য নিয়ে মজা করা হয়েছে বা তাকে অনুসরণ করা হয়েছে।
কেন এখনো এত জনপ্রিয় জেমস বন্ড?
এর একটি বড় কারণ হলো সময়ের সঙ্গে চরিত্রটির পরিবর্তন। ছয় দশকের বেশি সময়ে পৃথিবী অনেক বদলেছে। প্রযুক্তি বদলেছে, সিনেমা তৈরির ধরন বদলেছে, দর্শকদের পছন্দও বদলেছে। কিন্তু জেমস বন্ডের মূল আকর্ষণ থেকে গেছে।
প্রতিটি নতুন বন্ড সিনেমায় থাকে নতুন কোনো মিশন, নতুন শত্রু, নতুন প্রযুক্তি এবং নতুন জায়গা। একই সঙ্গে থাকে বন্ডের পরিচিত আত্মবিশ্বাস ও রোমাঞ্চকর অভিযান।
এই কারণেই কয়েক প্রজন্ম ধরে দর্শকদের কাছে বন্ড চরিত্রটি পরিচিত হয়ে আছে।
০০৭ নিয়ে কয়েকটি মজার তথ্য
- জেমস বন্ডের চরিত্রের স্রষ্টা ব্রিটিশ লেখক ইয়ান ফ্লেমিং।
- ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত ক্যাসিনো রয়্যাল ছিল জেমস বন্ডকে নিয়ে ইয়ান ফ্লেমিংয়ের প্রথম উপন্যাস।
- ড. নো ছিল প্রথম জেমস বন্ড সিনেমা।
- শন কনারি ছিলেন প্রথম বড় পর্দার জেমস বন্ড।
- ২০১২ সালে বন্ড চলচ্চিত্রের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রথম গ্লোবাল জেমস বন্ড ডে পালিত হয়।
- বন্ডের কোড নম্বর ০০৭। সিনেমার গল্পে এটি তার বিশেষ এজেন্ট পরিচয়।
- অ্যাস্টন মার্টিন দীর্ঘদিন ধরে জেমস বন্ডের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি পরিচিত গাড়ির ব্র্যান্ডগুলোর একটি।
- ড্যানিয়েল ক্রেগ ২০০৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত পাঁচটি সিনেমায় জেমস বন্ডের চরিত্রে অভিনয় করেছেন।