টাকা ধার চাইলে সম্পর্ক ঠিক রেখে ‘না’ বলবেন যেভাবে

বন্ধু বা পরিবারের কেউ টাকা ধার চাইলে অনেক সময় অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। ‘না’ বললে সম্পর্ক খারাপ হতে পারে, আবার ‘হ্যাঁ’ বললেও নিজের আর্থিক চাপ বাড়তে পারে। তাই বিষয়টি সামলাতে দরকার সচেতনতা এবং সঠিক কৌশল।
একটি জরিপে দেখা গেছে, অনেকেই টাকা ধার দেওয়ার পর বা কারও খরচ বহন করার পর সম্পর্কের মধ্যে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। অর্থাৎ, টাকা-পয়সার বিষয়টি ঠিকভাবে সামলাতে না পারলে কাছের সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি মোকাবিলার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো নিজের সীমা নির্ধারণ করা এবং তা স্পষ্টভাবে জানানো।
প্রথমে নিজের সামর্থ্য বুঝুন
কারও সাহায্য করার আগে প্রথমেই ভাবুন, আপনি সত্যিই সেই টাকা দিতে পারবেন কি না। যদি না পারেন, তাহলে নিজেকে চাপে ফেলে অন্যকে সাহায্য করা ঠিক নয়।
অনেক সময় আমরা ভাবি, অ্যাকাউন্টে টাকা আছে মানেই তা দেওয়া সম্ভব। কিন্তু বাস্তবে সামনে অন্য খরচ, বিল বা জরুরি প্রয়োজনও থাকতে পারে। তাই নিজের আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো জানেন আপনি নিজেই।
যতটা পারেন, ততটাই দিন
সরাসরি না বলা কঠিন হতে পারে, বিশেষ করে আগেও যদি আপনি তাকে সাহায্য করে থাকেন। সে ক্ষেত্রে পুরো টাকা না দিয়ে আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু অংশ দিতে পারেন।
ধরা যাক, কেউ ১০ হাজার টাকা চাইলো। কিন্তু আপনি জানেন, পুরোটা দিলে আপনার বাজেটে সমস্যা হবে। তখন আপনি ২ বা ৩ হাজার টাকা দিতে পারেন।
এতে একদিকে আপনি সাহায্য করছেন, অন্যদিকে নিজের আর্থিক নিরাপত্তাও বজায় রাখছেন। প্রয়োজনে সংক্ষেপে জানাতে পারেন যে আপনার অন্য খরচ রয়েছে, তাই পুরোটা দেওয়া সম্ভব নয়।
অপরাধবোধ হওয়া স্বাভাবিক
‘না’ বলার পর অনেক সময় আপনার নিজেরই খারাপ লাগতে পারে। মনে হতে পারে, আপনি হয়তো ভুল করলেন। কিন্তু এই অনুভূতিটা স্বাভাবিক। আর এমন পরিস্থিতি সামলাতে নিজের আর্থিক লক্ষ্যগুলো লিখে রাখতে পারেন। যেমন, জরুরি সঞ্চয় বাড়ানো বা নির্দিষ্ট খরচের জন্য টাকা জমানো। তখন কেউ চাপ দিলে আপনি নিজের লক্ষ্যগুলো মনে করতে পারবেন।
চাপ সামলানোর উপায় রাখুন
সবসময় আপনি নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকতে পারবেন না। বিশেষ করে খুব কাছের কেউ হলে অনেক সময় না বলা কঠিন হয়ে যায়। তাই এমন কিছু কাজের তালিকা রাখুন, যা আপনাকে মানসিকভাবে স্বস্তি দেয়। যেমন হাঁটতে যাওয়া, রান্না করা বা প্রিয় কোনো কাজ করা। এতে চাপ কমে এবং মন ভালো থাকে।
টাকা ধার দেওয়া বা না দেওয়া শুধু অর্থনৈতিক বিষয় নয়, এটি সম্পর্কের সঙ্গেও জড়িত। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আবেগের পাশাপাশি বাস্তবতাও বিবেচনায় রাখা জরুরি। স্বল্প সময়ের জন্য না বলতে খারাপ লাগলেও, দীর্ঘমেয়াদে এটি আপনার আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে। নিজের সীমা জানা এবং তা বজায় রাখা দুর্বলতা নয়, বরং দায়িত্বশীলতার পরিচয়।
সূত্র : সিএনবিসি