ঈদের ছুটি শেষ, এবার ঘর গোছানোর পালা

কয়েক দিন আগেও ঘরজুড়ে ছিল ঈদের আনন্দ। আত্মীয়স্বজনের আসা-যাওয়া, দাওয়াত, নতুন কাপড়, উপহার আর নানা আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত সময় কেটেছে অনেকের। কিন্তু ছুটি শেষের দিকে আসতেই অনেকের চোখে এখন নতুন এক দৃশ্য ধরা দিচ্ছে। ঘরের এক কোণে জমে আছে উপহারের বাক্স, আলমারিতে আর নতুন কাপড় রাখার জায়গা নেই, রান্নাঘরেও যেন উৎসবের ক্লান্তির ছাপ।
অনেক সময় মনে হয়, মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই ঘরটা আগের চেয়ে অনেক বেশি ভর্তি হয়ে গেছে। আর তখনই শুরু হয় ঘর গোছানোর চিন্তা।
ঘর গোছানো নিয়ে কাজ করেন এমন বিশেষজ্ঞ শেলিনা জোখিয়া মনে করেন, ঈদের পর ঘর গুছিয়ে ফেলার জন্য সারাদিন ধরে কঠিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দরকার নেই। বরং ছোট ছোট কিছু সিদ্ধান্ত এবং ধীরে ধীরে কাজ করলেই ঘর আবার আগের মতো শান্ত, পরিপাটি আর স্বস্তিদায়ক হয়ে উঠতে পারে।
তার মতে, ঈদ আনন্দ নিয়ে আসে ঠিকই, কিন্তু এর সঙ্গে বাড়তি কিছু জিনিসও রেখে যায়। নতুন কাপড়ের ব্যাগ, উপহারের বাক্স, খাবারের প্যাকেট, বাচ্চাদের খেলনা আর এলোমেলো ঘর অনেক সময় বাড়িটাকে আগের চেয়ে দ্বিগুণ ভরা মনে করিয়ে দেয়।
আগে পরিকল্পনা করুন
হুট করে সবকিছু একসঙ্গে গোছাতে গেলে কাজ আরও কঠিন মনে হতে পারে। তাই প্রথমে একটু সময় নিয়ে ভাবুন, কোন কোন জায়গা সবচেয়ে বেশি অগোছালো হয়েছে। একটি ছোট তালিকা তৈরি করতে পারেন। বসার ঘর, রান্নাঘর, আলমারি বা বাচ্চাদের ঘর, কোন জায়গায় আগে কাজ করা দরকার তা ঠিক করে নিন।
তারপর একসঙ্গে সব না করে ছোট ছোট ভাগে কাজ শুরু করুন।
সহজ কাজগুলো আগে শেষ করুন
সবার আগে, চোখে পড়ে এমন অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে ফেলুন। একটি ব্যাগ হাতে নিয়ে ঘরের প্রতিটি রুম ঘুরে দেখুন।
খালি উপহারের বাক্স, খাবারের প্যাকেট, শপিং ব্যাগ, মোড়কের কাগজ, ভাঙা বা ব্যবহার অযোগ্য জিনিস ফেলে দিতে পারেন। এতে খুব বেশি ভাবতে হবে না, কিন্তু ঘর অনেকটাই হালকা লাগবে।
আলমারি পরিষ্কার করুন

ঈদে নতুন কাপড় কেনা প্রায় অনেকেরই অভ্যাস। কিন্তু সমস্যা হলো, বেশিরভাগ আলমারি আগেই ভর্তি থাকে। নতুন কাপড় ঢুকলে জায়গা আরও কমে যায়।
এ ক্ষেত্রে একটি সহজ নিয়ম মানা যেতে পারে। নতুন একটি কাপড় এলে পুরোনো দুটি কাপড় বের করে দিন।
কাপড় বাছাইয়ের সময় নিজেকে কিছু প্রশ্ন করতে পারেন-
- ঈদের আগে কি এটি ব্যবহার করা হয়েছিল?
- গত এক বছরে কি এটি পরা হয়েছে?
- এখনকার জীবনযাত্রার সঙ্গে কি এটি মানানসই?
উত্তর যদি না হয়, তাহলে কাপড়টি কাউকে দিয়ে দেওয়ার কথা ভাবা যেতে পারে।
সব উপহার ঘরে রাখতেই হবে এমন নয়
ঈদে পাওয়া সব উপহার সবার প্রয়োজন বা পছন্দের সঙ্গে মিলবে, এমন নয়। তাই শুধু খারাপ লাগবে ভেবে অনেক কিছু জমিয়ে রাখার দরকার নেই।
যেসব জিনিস ব্যবহার করা হবে না, সেগুলো অন্য কাউকে উপহার দেওয়া বা দান করে দেওয়া যেতে পারে। এতে জিনিসগুলো কারও কাজে লাগবে, আর ঘরও অযথা ভরে থাকবে না।
রান্নাঘরেও দরকার নতুন করে গোছানো
ঈদের সময় রান্নাঘরের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি হয়। নানা রান্না, অতিথি আপ্যায়ন আর অতিরিক্ত খাবারের কারণে রান্নাঘর দ্রুত অগোছালো হয়ে পড়ে।
এই সময় রান্নাঘর পরিষ্কার করা জরুরি। পরিষ্কার রান্নাঘর পুরো ঘরকেই অনেক বেশি গোছানো থাকার ধারণা দেয়।
বাচ্চাদের খেলনাও দেখে নিন
ঈদে বাচ্চারা সাধারণত নতুন খেলনা পায়। ফলে খেলনার সংখ্যা হঠাৎ করেই অনেক বেড়ে যায়।
নতুন খেলনা রাখার আগে পুরোনো খেলনাগুলো একটু দেখে নেওয়া যেতে পারে। যেমন ভাঙা খেলনা, অসম্পূর্ণ সেট, বয়স অনুযায়ী আর ব্যবহার হয় না এমন খেলনা বা অনেক দিন ধরে স্পর্শও করা হয়নি এমন খেলনা।
এভাবে কিছু খেলনা সরিয়ে ফেললে অনেক জায়গা খালি হয়ে যায়।

এক দিনে সব শেষ করার চেষ্টা করবেন না
অনেকেই ভুল করে এক ছুটির দিনেই পুরো বাড়ি পরিষ্কার করার চেষ্টা করেন। এতে দ্রুত ক্লান্তি চলে আসে।
এর বদলে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় দিলেও কাজ সহজ হয়। একদিন শুধু একটি ড্রয়ার, আরেক দিন একটি তাক বা ঘরের এক কোণা গুছিয়ে নিলেও ধীরে ধীরে পুরো ঘর ঠিক হয়ে যায়।
ছোট ছোট কাজ একসময় বড় পরিবর্তন এনে দেয়।
ঘরকে আবার স্বস্তির জায়গা বানান
সবশেষে ঘরটাকে একটু নতুনভাবে সাজিয়ে নিন। টেবিল বা তাক মুছে ফেলুন, কুশন ঠিক করে রাখুন, জানালা খুলে বাতাস ঢুকতে দিন।
ঈদের ব্যস্ততা শেষে পরিপাটি, পরিষ্কার আর স্বস্তিদায়ক ঘর মনকেও অনেক শান্ত করে দেয়। তখন এক কাপ চা হাতে নিয়ে নিজের গুছানো ঘরটাকে উপভোগ করাই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় স্বস্তি।
সূত্র: গাল্ফ নিউজ
.png)







