logo

আজ বিশ্ব সঞ্চয় দিবস, অল্প সঞ্চয়েই গড়ে উঠতে পারে নিরাপদ ভবিষ্যৎ

আজ বিশ্ব সঞ্চয় দিবস, অল্প সঞ্চয়েই গড়ে উঠতে পারে নিরাপদ ভবিষ্যৎ
ছবি: ফ্রি প্রেস জার্নাল

বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর ৩১ অক্টোবর পালিত হয় বিশ্ব সঞ্চয় দিবস বা World Savings Day । ব্যক্তিগত জীবনে সঞ্চয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে মানুষকে নিয়মিত অর্থ জমাতে উৎসাহিত করাই দিবসটির মূল উদ্দেশ্য। ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সঞ্চয়ের কোনো বিকল্প নেই। তাই অল্প পরিমাণ অর্থ হলেও নিয়মিত জমানোর অভ্যাস গড়ে তোলার বার্তা দেয় এই দিবস।

বিশ্ব সঞ্চয় দিবসের যাত্রা শুরু হয় ১৯২৪ সালে ইতালির মিলান শহরে। ওই বছরের ৩১ অক্টোবর প্রথম আন্তর্জাতিক সঞ্চয় ব্যাংক কংগ্রেসের শেষ দিনে দিবসটি পালনের ঘোষণা দেয়। ইতালীয় অধ্যাপক ফিলিপ্পো রাভিজ্জা আন্তর্জাতিক সঞ্চয় দিবস হিসেবে দিনটির প্রস্তাব করেন।

তখন বিশ্বের ২৯টি দেশের প্রতিনিধিরা এই সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন। মানুষের মধ্যে ব্যাংকে টাকা জমানোর আগ্রহ তৈরি করা ও সঞ্চয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো ছিল এর অন্যতম লক্ষ্য। শুরুর দিকে দিবসটি ওয়ার্ল্ড থ্রিফট ডে বা বিশ্ব মিতব্যয়িতা দিবস নামেও পরিচিত ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিভিন্ন দেশে দিবসটির জনপ্রিয়তা আরও বেড়ে যায়।

সঞ্চয় মানে শুধু টাকা জমিয়ে রাখা না, ভবিষ্যতের জন্য আর্থিক প্রস্তুতি নেওয়া। হঠাৎ অসুস্থতা, চাকরি হারানো বা অন্য কোনো জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এমন সময়ে আপনার জমানো অর্থই বন্ধু হয়ে আপনার পাশে দাঁড়াবে।

এ ছাড়া সঞ্চয়ের মাধ্যমে ভবিষ্যতের বিভিন্ন লক্ষ্য পূরণ করা সহজ হয়। যেমন- সন্তানের পড়াশোনা, বাড়ি নির্মাণ, প্রয়োজনীয় জিনিস কেনা বা অবসরের পর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। নিয়মিত সঞ্চয় মানুষকে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমাতেও সাহায্য করে। ফলে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হয়।

সঞ্চয় করতে হলে অনেক টাকা আয় করতে হবে, এমন ধারণা একদম ঠিক না। আপনার নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অল্প অর্থ দিয়েও সঞ্চয় শুরু করতে পারেন। প্রতি মাসে কত টাকা আয় হচ্ছে আর কোন খাতে কত খরচ হচ্ছে, তার হিসাব রাখা জরুরি। মাসের শুরুতেই আয়ের একটি অংশ সঞ্চয়ের জন্য সরিয়ে রাখতে পারেন। মাস শেষে যা থাকবে, তাই জমাবেন, এমন চিন্তা না করাই ভালো।

শুধু বড়দের না, শিশুদের মধ্যেও ছোটবেলা থেকে সঞ্চয়ের অভ্যাস তৈরি করা দরকার। এ ক্ষেত্রে মাটির ব্যাংক সহজ একটি মাধ্যম হতে পারে। শিশুরা উপহার বা হাতখরচ হিসেবে যে টাকা পায় তা থেকে সামান্য অংশ জমাতে পারে। এতে তারা টাকার মূল্য বুঝতে শিখবে। পাশাপাশি প্রয়োজন ও শখের মধ্যে পার্থক্য করাও শিখতে পারবে।

বিশ্ব সঞ্চয় দিবসের মূল বার্তা হলো, নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা। তবে শুধু টাকা জমালেই দায়িত্ব শেষ হয় না। টাকা কোথায় রাখা হচ্ছে, সেই প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা কেমন ও সঞ্চয়ের শর্ত কী সেসব বিষয়ও বুঝে নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে টাকা রাখার আগে সুদের হার, চার্জ ও অন্যান্য নিয়ম জেনে নেওয়া উচিত।

দিন শেষে সঞ্চয়ের জন্য বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন নেই। আজকের ছোট সঞ্চয়ই ভবিষ্যতে বড় আর্থিক নিরাপত্তার ভিত্তি তৈরি করতে পারে।