কিডনি সুস্থ রাখতে কোন খাবারগুলো খাবেন, কোনগুলো এড়িয়ে চলবেন

কিডনি প্রতিনিয়তই আমাদের শরীরের বিষাক্ত বর্জ্য পদার্থ ছেঁকে বের করে দেয়, শরীরে পানির পরিমাণ ঠিক রাখে আর রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। কিন্তু কিডনির সুস্থতার কথা আমরা ক’জনই বা ভাবি! প্রতিদিন আমরা কী খাচ্ছি তার প্রভাব বেশ ভালোভাবেই কিডনির ওপর পড়ে। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন আর ভুল খাদ্যাভ্যাস কিন্তু ভেতরে ভেতরে কিডনির বারোটা বাজিয়ে দিতে পারে।
তাই কিডনিকে সুস্থ রাখতে খাবারের দিকে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। কিডনির সুস্থতায় কোন খাবারগুলো খাবেন আর কোন খাবারগুলো এড়িয়ে চলবেন চলুন জেনে নেওয়া যাক-
কিডনির যত্ন নিতে নিয়মিত যেসব খাবার খাবেন
বেরি জাতীয় ফল (ব্লুবেরি, স্ট্রবেরি ইত্যাদি):
ব্লুবেরি বা এই ধরনের ফলে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থাকে, যা শরীরের কোষগুলোকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া এতে সোডিয়ামের পরিমাণ কম থাকায় এটি বেশ স্বাস্থ্যকর।

কোনো চিন্তাভাবনা ছাড়াই কিডনি ফ্রেন্ডলি ডায়েটে এগুলো রাখতে পারেন।
ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ তৈলাক্ত মাছ:
স্যামন বা অন্যান্য সামুদ্রিক তৈলাক্ত মাছে প্রচুর ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। এটি শরীরের ভেতরের নানা প্রদাহ বা জ্বালা-পোড়া কমায় এবং হার্ট ভালো রাখতে কাজ করে। হার্ট সুস্থ থাকলে কিন্তু কিডনিও সুরক্ষিত থাকে।

তবে খেয়াল রাখবেন, কিডনির রোগ আগে থেকেই থাকলে মাছের পরিমাণটা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক করে নেয়া ভালো।
লাল ক্যাপসিকাম:
সালাদ বা তরকারিতে লাল ক্যাপসিকাম রাখতে পারেন। এটি কিডনির জন্য ভীষণ উপকারী। এতে প্রচুর ভিটামিন, ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট পাওয়া যায়। অন্যদিকে কিডনির জন্য ক্ষতিকর সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও ফসফরাসের পরিমাণ এতে তুলনামূলক অনেক কম থাকে।
অলিভ অয়েল:
রান্নায় অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট বা অস্বাস্থ্যকর তেল ব্যবহার না করে রান্নার জন্য অলিভ অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। এতে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট হার্ট ভালো রাখে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। যা পরে কিডনির সুরক্ষায় বড় ভূমিকা রাখে।

এছাড়া ওজন কমাতেও অলিভ অয়েল সহায়তা করে।
যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন
অতিরিক্ত লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার:
বাজারের প্যাকেটজাত চিপস, প্রসেসড মিট, ইনস্ট্যান্ট নুডলস বা বেশি লবণ দেওয়া মুখরোচক খাবারে থাকে অতিরিক্ত সোডিয়াম। এই অতিরিক্ত সোডিয়াম সরাসরি রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয় এবং শরীরে পানি জমিয়ে শরীর ফুলিয়ে দেয়। এর ফলে, কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।

অতিরিক্ত লাল মাংস ও প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট:
শরীর গঠন বা সুস্থ থাকার জন্য প্রোটিন জরুরি হলেও প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রোটিন কিন্তু কিডনির জন্য মোটেও ভালো নয়। বেশি লাল মাংস খেলে বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া প্রোটিন পাউডার খেলে প্রোটিন মেটাবোলিজমের বর্জ্য ছেঁকে বের করতে কিডনিকে দ্বিগুণ খাটতে হয়। তাই এগুলো এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন।
মিষ্টি পানীয় ও কোল্ড ড্রিঙ্কস:
গরমে তৃষ্ণা মেটাতে অনেকেই কোল্ড ড্রিঙ্কস বা প্যাকেটজাত জুস খেয়ে থাকেন। এগুলোতে চিনি অনেক বেশি থাকে, যা দ্রুত ওজন বাড়ায় এবং ব্লাড সুগার অনিয়ন্ত্রিত করে তোলে। আর মনে রাখবেন- ডায়াবেটিস কিন্তু কিডনি বিকল হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।

তাই মিষ্টি পানীয়র বদলে সবসময় পানি খাওয়ার অভ্যাস করুন। এছাড়া ডাবের পানি বা লেবুর শরবতও খেতে পারেন।
মদ্যপানের অভ্যাস:
অতিরিক্ত মদ্যপান শুধু কিডনি নয়, আপনার শরীরের অন্যান্য সমস্যাও বাড়িয়ে দেয়। মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপান করলে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা দেখা দেয় এবং শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হয়। এটি কিডনির কর্মক্ষমতা অনেকটাই কমিয়ে দেয়।
শুধু খাবার নয়, জীবনযাত্রাতেও আনুন ইতিবাচক পরিবর্তন
খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি আপনার দৈনন্দিন কিছু ছোট অভ্যাসও কিন্তু কিডনি ভালো রাখতে অনেকটা ভূমিকা রাখতে পারে। কিডনি ভালো রাখতে প্রতিদিন হালকা ব্যায়াম বা হাঁটার অভ্যাস রাখুন। পরিমিত পরিমাণে স্বাস্থ্যকর খাবার খান। সকালের নাশতা সঠিক সময়ে খাওয়ার চেষ্টা করবেন। শরীরের সঠিক ওজন বজায় রাখুন।
ব্লাড প্রেসার ও ডায়াবেটিস থাকলে তা সবসময় নিয়ন্ত্রণে রাখুন। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করুন।
তবে মনে রাখবেন, সবার শরীরের গঠন ও প্রয়োজন এক রকম হয় না। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাদের রক্তে পটাশিয়াম, ফসফরাস বা প্রোটিনের পরিমাণ বুঝে তবেই খাবারের নিয়ম নির্ধারণ করা হয়। তাই নিজে থেকে হঠাৎ কোনো খাবার একবারে বাদ দেওয়া বা কোনো ডায়েট ফলো না করে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
সূত্র: টিভি ৯ বাংলা