logo

যেসব কাজের দক্ষতা মানুষের জন্য উল্টো ক্ষতিকর

যেসব কাজের দক্ষতা মানুষের জন্য উল্টো ক্ষতিকর

আজকাল প্রোডাক্টিভিটি বা কাজের দক্ষতা নিয়ে একটি সাধারণ ধারণা ছড়িয়ে আছে মানুষের মাঝে। মনে করা হয়, সঠিক রুটিন, বিভিন্ন অ্যাপ বা সিস্টেম ব্যবহার করলেই আমরা আরও বেশি দক্ষ হয়ে উঠতে পারি। কিন্তু বাস্তবে সবার ক্ষেত্রে এই নিয়ম কাজ করে না।

অনেক সময় দেখা যায়, সব নিয়ম মেনে চলার পরও কাজের গতি বাড়ে না। বরং মানুষ আরও ক্লান্ত, বিভ্রান্ত এবং মানসিকভাবে চাপগ্রস্ত অনুভব করে। এর কারণ হতে পারে, যে অভ্যাসগুলো সেই ব্যক্তি মেনে চলছে তা তার কাজের ধরন বা চিন্তার সঙ্গে মানানসই নয়।

চলুন কাজের দক্ষতা ক্ষেত্রে এমন তিনটি অভ্যাসের কথা জেনে নিই, যা অনেক সময় উল্টো ফল দিতে পারে।

কঠোর সকালের রুটিন সবসময় কার্যকর নয়

অনেকে মনে করেন, খুব ভোরে উঠে নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চললেই সফল হওয়া যায়। কিন্তু গবেষণা বলছে, সবার জন্য একই সময় বা রুটিন কার্যকর নয়।

কিছু মানুষের কাজের সেরা সময় ভোরে হলেও, অন্যদের ক্ষেত্রে তা রাতেও হতে পারে। যদি নিজের স্বাভাবিক কাজের সময়ের সঙ্গে মিল না রেখে জোর করে রুটিন তৈরি করা হয়, তাহলে কাজের মান কমে যেতে পারে।

ফলে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো তখন করা হয়, যখন শক্তি কম থাকে। এতে প্রোডাক্টিভিটি বাড়ার বদলে কমে যায়।

একসঙ্গে অনেক কাজ করা মানেই দক্ষতা নয়

বর্তমান কর্মসংস্কৃতিতে একসঙ্গে অনেক কাজ করার ক্ষমতাকে খুব গুরুত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু সব কাজের জন্য এটি কার্যকর নয়।

একসঙ্গে অনেক কাজ করলে মনে হতে পারে অনেক কিছু করা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে মনোযোগ ভেঙে যায়, চিন্তার ধারাবাহিকতা নষ্ট হয় এবং কাজের গভীরতা কমে যায়। বিশেষ করে যেসব কাজের জন্য গভীর চিন্তা, বিশ্লেষণ বা সৃজনশীলতা দরকার, সেখানে একাধিক কাজ একসঙ্গে করা ক্ষতিকর হতে পারে।

অতিরিক্ত টুল বা অ্যাপ ব্যবহার উল্টো সমস্যা তৈরি করতে পারে

প্রোডাক্টিভিটি বাড়ানোর জন্য এখন অসংখ্য অ্যাপ ও টুল রয়েছে। কিন্তু অনেকগুলো একসঙ্গে ব্যবহার করলে কাজ সহজ হওয়ার বদলে জটিল হয়ে যেতে পারে।

একটি টুলে নোট, অন্যটিতে কাজের তালিকা, আরেকটিতে সময় ব্যবস্থাপনা - এভাবে অনেক সিস্টেম ব্যবহার করলে আসল কাজের চেয়ে সিস্টেম ম্যানেজ করতেই বেশি সময় চলে যায়। এই অবস্থাকে অনেক সময় বলা হয় ‘মেটা-ওয়ার্ক’। অর্থাৎ কাজ করার বদলে কাজের পদ্ধতি নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকা।

এছাড়া প্রযুক্তির ওপর বেশি নির্ভর করলে নিজের স্মৃতি ও চিন্তার দক্ষতাও কিছুটা কমে যেতে পারে।

কেন এই অভ্যাসগুলো কাজ করে না

সব কাজ এক ধরনের নয়, আর সব মানুষের চিন্তার ধরনও এক নয়। অনেক প্রোডাক্টিভিটি পদ্ধতি তৈরি করা হয়েছে এমন কাজের জন্য, যেখানে নিয়মিততা ও দ্রুত ফল গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু যেসব কাজের জন্য গভীর মনোযোগ, সৃজনশীলতা বা বিশ্লেষণ দরকার, সেখানে নমনীয়তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

প্রোডাক্টিভিটি বাড়ানোর জন্য অন্যের রুটিন বা সিস্টেম অন্ধভাবে অনুসরণ করা সবসময় কার্যকর নয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজের কাজের ধরন এবং মানসিক সক্ষমতার সঙ্গে মিল রেখে পদ্ধতি বেছে নেওয়া। কম টুল, কম চাপ এবং নিজের স্বাভাবিক ছন্দ অনুযায়ী কাজ করলে অনেক সময় ভালো ফল পাওয়া যায়।

সূত্র : ফোর্বস