logo

কিমের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের চেষ্টায় ট্রাম্প

টিআরটি ওয়ার্ল্ড
কিমের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের চেষ্টায় ট্রাম্প
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে চলতি বছরের শেষে নতুন করে বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এশিয়া সফরের সময় কিমের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করতে ট্রাম্প তার সহযোগীদের নির্দেশ দিয়েছেন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

Advertisement

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে কিমের সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন নিয়ে আলোচনা করেছেন। আগামী নভেম্বরে চীনের শেনঝেনে এশিয়া-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (এপেক) সম্মেলনের সময় দুই নেতার বৈঠক হতে পারে।

তবে বৈঠকের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি এখনো শুরু হয়নি। ছয় বছরেরও বেশি সময় পর উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সরাসরি কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরুর আগ্রহের ইঙ্গিত হিসেবে ট্রাম্পের এই উদ্যোগকে দেখা হচ্ছে।

এর আগে গত বছর এশিয়া সফরের সময় কিমের সঙ্গে বৈঠকের চেষ্টা করেছিলেন ট্রাম্প। তবে শেষ পর্যন্ত নানা বাস্তব ও সময়সূচিগত জটিলতায় সেই বৈঠক হয়নি।

রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, তিনি পেন্টাগনকে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একই পোস্টে তিনি দাবি করেন, কিম তার দেওয়া প্রস্তাবে সাড়া দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি ট্রাম্প।

ওয়াশিংটনে দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাসও ট্রাম্প ও কিমের মধ্যে সম্পর্ককে ইতিবাচক আলোচনার দিকে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে কোরীয় উপদ্বীপে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার আশা প্রকাশ করেছে।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সামরিক নির্ভরতা কমানোর আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন তৈরির কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার কথা বলেছেন।

ট্রাম্প ও কিমের মধ্যে এর আগে ২০১৮ সালে সিঙ্গাপুর ও ২০১৯ সালে হ্যানয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছিল। তবে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি বন্ধের বিষয়ে যাচাইযোগ্য কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেননি তারা।

২০১৯ সালে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তবর্তী অসামরিকীকৃত অঞ্চলেও দুই নেতা তৃতীয়বারের মতো সাক্ষাৎ করেন। কিন্তু ওই বৈঠকও কার্যকর আলোচনা পুনরায় শুরুর পথ তৈরি করতে পারেনি।

এরপর থেকে উত্তর কোরিয়া গোপনীয়তার মধ্যে নিজেদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা আরও বাড়িয়েছে। অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞদের ধারণা, দেশটির পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার আগের ৬০টিরও বেশি ওয়ারহেডের হিসাব ছাড়িয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বার্ষিক হুমকি মূল্যায়নেও বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়া তার কৌশলগত হামলার সক্ষমতা বাড়ানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। অন্যদিকে পিয়ংইয়ং চায় যুক্তরাষ্ট্র তার পারমাণবিক শক্তির মর্যাদা মেনে নিক। ফলে নতুন করে আলোচনা শুরু হলেও এই মতপার্থক্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এপ্রিল মাসে মার্কিন কংগ্রেসে দেওয়া এক বক্তব্যে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব রবার্ট ক্যাডলেক সতর্ক করে বলেন, উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড এবং দেশটির আঞ্চলিক মিত্রদের জন্য সক্রিয় হুমকি হয়ে রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন কোনো বৈঠকে কিম জং উন আগের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী সামরিক ও কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে আলোচনার টেবিলে বসবেন।

এদিকে উত্তর কোরিয়া শুধু নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারই বাড়াচ্ছে না, ইরানের সঙ্গে কৌশলগত ও ক্ষেপণাস্ত্র সহযোগিতাও গভীর করেছে। পাশাপাশি চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরদার করেছে দেশটি। গত জুনে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন কিম। চলতি বছরের শেষ দিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও তাঁর আরও বৈঠক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কিমের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের চেষ্টায় ট্রাম্প