ইরান থেকে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার দাবি আমিরাতের, অস্বীকার তেহরানের

ইরান থেকে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার দাবি আমিরাতের, অস্বীকার তেহরানের
ইরানের বন্দর আব্বাসে হরমুজ প্রণালির দিকে মুখ করে থাকা একটি ভাস্কর্য। ছবি: সংগৃহীত

ইরান থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দিকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল বলে দাবি করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে ইরান এ অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

Advertisement

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ইউএইর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে। মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল।

পরে এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, দুটি ক্ষেপণাস্ত্রই সমুদ্রে পড়ে যায়। এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এর আগে ইউএইর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার বাসিন্দাদের ফোনে সতর্কবার্তা পাঠিয়ে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে সতর্ক করে। পরে পরিস্থিতি নিরাপদ জানিয়ে বাসিন্দাদের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বুধবার ইউএইর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে একে ‘ভিত্তিহীন’ বলে মন্তব্য করেন।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের নীতির পরিপন্থী এবং পারস্পরিক আস্থা তৈরির প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করে। তেহরানের বিরুদ্ধে ‘অপ্রমাণিত’ অভিযোগ না তোলার জন্য আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রতি আহ্বানও জানানো হয়েছে।

ইউএই সম্প্রতি অভিযোগ করেছিল, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় ইরান তাদের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানি এডনকের কয়েকটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। তবে ওই হামলার দায় ইরান স্বীকার করেনি।

হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি অতীতে দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। তেহরানের বিরোধীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজ কিংবা ইরানের নির্দেশনা না মানা কোনো জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি তারা দিয়ে আসছে।

ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন বন্ধ আমিরাতের

ক্ষেত্রটির উত্তেজনার মধ্যে ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক ও আর্থিক কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করেছে ইউএই। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ডব্লিউএএম এ তথ্য জানিয়েছে।

ইউএইর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কৌশলগত যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। তবে বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন বন্ধের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ইরান ও ইউএইর মধ্যে উত্তেজনা এমন এক সময়ে বাড়ল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার জন্য নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমা সোমবার কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে চলাচলও সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে ব্যাহত হয়েছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রপ্তানি পথগুলোর একটি এই প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরান পাল্টা আঘাত হানে। ওই সময় ইউএইসহ কয়েকটি আঞ্চলিক দেশে হামলা চালানো হয়। ইউএইতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাও রয়েছে।

জুনের মাঝামাঝি সময়ে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধ এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছিল। তবে ওই সমঝোতার শর্ত এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিয়ে মতবিরোধের কারণে পরবর্তী আলোচনা ভেস্তে যায়।