logo

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন/অবশেষে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনারকে অনুমোদন দিল ভারত

হিন্দুস্তান টাইমস
হিন্দুস্তান টাইমস
অবশেষে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনারকে অনুমোদন দিল ভারত
আসাদ আলম সিয়াম। ছবি: উইকিপিডিয়া

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামকে নয়াদিল্লিতে পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে ভারত। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রচেষ্টার মধ্যে মঙ্গলবার এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে হিন্দুস্তান টাইমস।

এর আগে ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র এশিয়া পোস্টকে জানিয়েছে, গত আগস্টের প্রথম সপ্তাহে আসাদ আলম সিয়ামকে দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। তবে দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তার নিয়োগ আটকে রাখে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। অবশেষে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) তার নিয়োগে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় দিল্লি।

পেশাদার কূটনীতিক আসাদ আলম সিয়াম ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিসে যোগ দেন। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তিনি নয়াদিল্লিতে বর্তমান হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহর স্থলাভিষিক্ত হবেন। হামিদুল্লাহকে জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে হিন্দুস্তান টাইমসকে জানান, সিয়ামের নিয়োগের জন্য ভারতের আনুষ্ঠানিক সম্মতি—যা কূটনৈতিক পরিভাষায় ‘অ্যাগ্রেমঁ’ নামে পরিচিত—মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছাবে।

এর মধ্য দিয়ে নিয়োগপ্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হওয়ায় আসাদ আলমের নিয়োগের অনুমোদন ভারতীয় পক্ষ আটকে রেখেছিল কি না, তা নিয়ে যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল তারও অবসান হয়েছে।

নতুন পররাষ্ট্রসচিব হতে পারেন সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী

বাংলাদেশের সাবেক জাতিসংঘ দূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী পরবর্তী পররাষ্ট্রসচিব হতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচনে চৌধুরীর ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবেই এই নিয়োগকে কেউ কেউ দেখছেন।

আসাদ আলম সিয়াম বাংলাদেশ ও বিদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৫ সালের জুনে পররাষ্ট্রসচিব হওয়ার আগে তিনি এক বছরেরও কম সময় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি ফিলিপাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। ২০২৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অস্ট্রিয়ায় রাষ্ট্রদূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

এ ছাড়া তিনি ইতালির মিলানে বাংলাদেশের প্রথম কনসাল জেনারেল এবং যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে সহকারী হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডেও তিনি কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করেছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তিনি প্রধান প্রটোকল কর্মকর্তা, ইউরোপ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নবিষয়ক উইংয়ের মহাপরিচালক এবং পররাষ্ট্রসচিবের কার্যালয়ের পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, ভারত ঢাকায় সাবেক মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নিয়োগপ্রাপ্ত দীনেশ ত্রিবেদীকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর বাংলাদেশও নয়াদিল্লিতে দেশের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ কূটনীতিককে হাইকমিশনার হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তোলার প্রচেষ্টার মধ্যে নয়াদিল্লিতে সিয়ামের নিয়োগকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।